Advertisement
E-Paper

ভারতীয় ক্রিকেটে ইতিহাস, দেশের প্রথম রূপান্তরিত আম্পায়ার রিতিকা, সাত মাস আগেই ঘাড়ধাক্কা খেয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে

মাঠে ঢুকতে বাধা পেয়েছেন। লোকে বিশ্বাস করেনি তাঁকে। সেখান থেকেই প্রথম নথিভুক্ত রূপান্তরিত আম্পায়ার হলেন রিতিকা এস। স্থানীয় ৩০০টিরও বেশি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৭
cricket

ক্রিকেটে তৈরি হল ইতিহাস। — প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ঠিক সাত মাস আগের কথা। কোয়ম্বত্তূরের একটি মাঠে ঢুকতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের ঘাড়ধাক্কা খেয়েছিলেন তিনি। মাঠে তো ঢুকতে দেওয়াই হয়নি। উল্টে লাঠি নিয়ে তাড়া করেছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেখান থেকে বেশ কিছুটা পথ পেরিয়ে দেশের প্রথম রূপান্তরিত আম্পায়ার হলেন রিতিকা শ্রী। এক বছর আগেই তিনি রূপান্তরিত হয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনা ছিল রূপান্তরিত হওয়ার পর রিতিকার প্রথম ম্যাচ। তিনি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে বলেছেন, “সে দিন নিরাপত্তারক্ষীরা মাঠে ঢুকতে পর্যন্ত দেয়নি। তাড়া করে বার করে দিয়েছিলাম। সে দিনই ঠিক করে নিয়েছিলাম ওদের মুখোমুখি হয়ে বলব, ‘আমি এখানে আম্পায়ারিং করতে এসেছি’। আমি চেষ্টা করেছিলাম ভেতরে ঢোকার। তখন আর এক দল নিরাপত্তারক্ষী এসে বাধা দেয়।”

কয়েকটি জায়গায় ফোন করার পর অবশেষে মাঠে ঢোকার অনুমতি পান রিতিকা। আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বলেন, “এখানে ওখানে ঢুকে টাকা নেওয়া বা যৌন নির্যাতন হওয়ার বদলে আমি একটা সম্মানজনক কাজ করতে চেয়েছিলাম। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলাম, কেন এই দেশে রূপান্তরিতরা সাধারণের মতো জীবন কাটাতে পারে না বা তাদের সমান চোখে দেখা যায়। ওই অপমান ভুলতে পারিনি।”

২০১৯-এ মোহালিতে একটি আইপিএল ম্যাচ দেখার সময়েই ঠিক করেন আম্পায়ার হবেন। তখন তিনি ২৫। রিতিকা হননি। তখন তিনি মুথুরাজ। পরের বছর লকডাউনে চাকরি হারান। তামিলনাড়ুর সালেমে গিয়ে পুরো সময়ের পেশা হিসাবে আম্পায়ারিং বেছে নেন। তখনও পুরুষ হিসাবেই পরিচিতি পেতেন। সালেম ক্রিকেট সংস্থা তাঁকে অনেক সাহায্য করেছে। রূপান্তরিত হওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন পাশে দাঁড়িয়েছে। সালেম এবং নামাক্কালের স্থানীয় প্রায় ৩০০টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন রিতিকা। রূপান্তরের কারণে এক বছর কিছু করতে পারেননি। ফেরার পর হাজির হয় অন্য সমস্যা।

রিতিকা বলেন, “আম্পায়ারদের মধ্যে কোনও তৃতীয় লিঙ্গ ছিল না। হয় পুরুষ নয় মহিলা। কিন্তু আমি হাল ছাড়তে চাইনি। সংস্থার সাহায্য পেয়েছি। আম্পায়ারেরা আমার পরিসংখ্যান দেখে ম্যাচ দিয়েছেন।” প্রথম ম্যাচের আগে পা ভাঙে রিতিকার। সেটাও দমাতে পারেননি। প্রদর্শনী ম্যাচে আম্পায়ারিং করিয়েছেন। পুরুষ আম্পায়ার এবং ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে হয়েছে। তাঁদের বিশ্বাস অর্জন করেছেন। যে মাঠ থেকে তাড়া খেতে হয়েছিল এখন আর সেই মাঠে ম্যাচ হয় না। এখন থেকে রিতিকা যে ম্যাচে পরিচালনা করেন তাদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে বলা হয়।

মাঠেও এখনও কোনও খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি রিতিকার। কেউ কোনও খারাপ মন্তব্য করেননি। রিতিকা বলেন, “আমার বিশ্বাস, মাঠের সঠিক সিদ্ধান্তগুলোই আমাকে সমীহ এনে দিয়েছে। বাকিরা আমাকে সাধারণ কোনও আম্পায়ারের মতোই দেখে। ১৫-২০ জনের মধ্যে হয়তো এক-দু’জন হাত মেলায় না। সেটা ঠিকই আছে।”

umpire Transgender
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy