২০৯ রান তাড়া করতে নেমে ৬ রানে পড়ে গিয়েছিল ২ উইকেট। ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মা আউট হয়েছিলেন শূন্য রানে। সেখান থেকে মাত্র ১৫.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে রান তাড়া করে ফেলল ভারত। রায়পুরে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন সূর্যকুমার যাদব ও ঈশান কিশন। ঈশান ৩২ বলে ৭৬ ও সূর্য ৩৭ বলে অপরাজিত ৮২ রান করেছেন। খেলা শেষে জয়ের রহস্য ফাঁস করলেন ভারতের দুই নায়ক।
দুই ওপেনার আউট হওয়ার পর নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ঈশান। তৃতীয় ওভারে তিনি করেন ২৪ রান। সেখানেই খেলা ঘুরে যায়। ঈশানের ব্যাটিং দেখে অবাক সূর্য। খেলা শেষে ভারত অধিনায়ক বলেন, “আমি জানি না, মধ্যাহ্নভোজে ঈশান কী খেয়েছিল? কিন্তু ওকে যে ভাবে মারতে দেখলাম, তা অনেক দিন দেখিনি। ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও যে ও ভাবে আক্রমণ করা যায়, তা ভাবা যাচ্ছে না। ঈশান আমাদের কাজ অনেক সহজ করে দিল।”
তিনি নিজেও এই ম্যাচে রানে ফিরেছেন। ১৪ মাস পর অর্ধশতরান করেছেন সূর্য। অর্ধশতরান করে মাঠে হাত ছুঁয়ে প্রণামও করেন অধিনায়ক। তিনি জানালেন, রান পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন। সূর্য বলেন, “আমি আগেও বলেছি, নেটে খুব ভাল ব্যাট করছিলাম। গত দু-তিন সপ্তাহ পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছি। মন ভাল আছে। খেলা উপভোগ করছি। একটা বড় রান দরকার ছিল। সেটা এই ম্যাচে এল।”
নিউ জ়িল্যান্ডকে ২০৮ রানে আটকে দেওয়ার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন সূর্য। তিনি বলেন, “যা শিশির পড়ছিল, তাতে মনে হচ্ছিল ওরা ২২০-২৩০ রান করবে। কিন্তু কুলদীপ, বরুণ, শিবমেরা মাঝের ওভারে উইকেট নিল। ওদের ২০৮ রানে আটকে রাখার জন্য বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।” এই সিরিজ়ে যে ছন্দে তাঁর দল রয়েছে সেই ছন্দই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধরে রাখতে চান সূর্য।
আরও পড়ুন:
দু’বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ম্যাচের সেরা হয়েছেন ঈশান। তিনি জানালেন, ৬ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরেও ভয় পাননি। ঈশান বলেন, “আমি শুধু বল দেখে খেলেছি। ঝুঁকি নিইনি। আড়া ব্যাটে খেলতে যায়নি। ঠিক করেছিলাম, মারার বল পেলে মারব। জানতাম, শিশির পড়ছে। নিজের উপর ভরসা রেখেছি। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভাল লাগছে।”
জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছিলেন ঈশান। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন। ঝাড়খণ্ডকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তাঁকে কি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নির্দেশ দিয়েছিল বোর্ড? এই প্রশ্নের জবাবে ঈশান বলেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরেছি। নিজেকে তৈরি রাখার চেষ্টা করেছি। রান করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সেটাই হয়েছে। নিজের রাজ্যকে চ্যাম্পিয়ন করেছি। ভাল খেলার পুরস্কারও পেয়েছি।”
বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে নিজের জায়গা প্রায় পাকা করে ফেলেছেন ঈশান। উইকেটের পিছনেও হয়তো তাঁকে দেখা যাবে। সব চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হচ্ছেন ঈশান।