বিশ্বকাপের আগে ভাল ছন্দে বৈভব সূর্যবংশী। প্রথম বার দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ১৪ বছরের ক্রিকেটার। প্রথম সিরিজ়েই বিপক্ষকে চুনকাম করে দিল তারা। বৈভব নিজে নজির তো গড়েছেই। পাশাপাশি শতরানের পর ‘পুষ্পা’ সিনেমার নায়কের কায়দায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নজর কেড়েছে।
টসে জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৯ দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক মহম্মদ বুলবুলিয়া। সেই সিদ্ধান্ত ব্যুমেরাং হয়ে যায়। শুরু থেকেই আগ্রাসী খেলতে থাকে বৈভব। শতরান পূরণ করার পর ব্যাটকে চোয়ালের নীচে এনে বিশেষ ভঙ্গিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সে। ‘পুষ্পা’ সিনেমার নায়ক অল্লু অর্জুনের করা এই ভঙ্গিমা ক্রিকেট বিশ্বে বেশ জনপ্রিয়। অতীতে অনেক ক্রিকেটারকে এ ভাবেই উচ্ছ্বাস করতে দেখা গিয়েছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন বৈভব।
পাশাপাশি, যুবদের এক দিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম ক্রিকেটার হিসাবে শতরান করেছে বৈভব। ১৪ বছর ৯ মাস বয়সে এই কীর্তি অর্জন করেছে সে। একইসঙ্গে ওপেনিং জুটিতে সবচেয়ে বেশি রানের অবদান রাখে বৈভব। এ দিন অ্যারন জর্জের সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে ২২৭ রান তোলে বৈভব। ভেঙে গিয়েছে ২০১৩-য় অঙ্কুশ বাইন্স এবং অখিল হেড়ওয়াড়করের ২১৮ রানের নজির।
২২ গজের এক প্রান্ত অ্যারন আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিল বৈভব। প্রতিপক্ষ দলের কোনও বোলারই তার থেকে সমীহ আদায় করতে পারেননি। অ্যারন করেন ১০৬ বলে ১১৮। ১৬টি চার মেরেছেন তিনি। অন্য ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে বেদান্ত ত্রিবেদী ৩৪ রান করেন। শেষ দিকে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন মহম্মদ এনান। দুই ওপেনারের দাপটে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৯৩ রান করে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
আরও পড়ুন:
জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতেই বিপদে পড়ে যায়। ১৫ রানে ৪ উইকেট হারায় তারা। বিপক্ষের প্রথম তিন ব্যাটারকেই আউট করেন কিষান কুমার সিংহ। তখনই বোঝা গিয়েছিল ম্যাচ ভারতের মুঠোয়। পরের দিকে ড্যানিয়েল বসম্যান (৪০) এবং পল জেমস (৪১) লড়াই করলেও লাভ হয়নি। ১৬০ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। ভারত জেতে ২৩৩ রানে।
ম্যাচের এবং সিরিজ়ের সেরা ক্রিকেটার হয়েছে বৈভব। বলেছে, “প্রত্যেকে ভাল খেলেছে। সব বিভাগ থেকেই অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছি। আজ ফিল্ডিংও ভাল হয়েছে। নিজেদের পদ্ধতি অনুসরণ করে বিশ্বকাপে ১০০ শতাংশ দিতে চাই।”