Advertisement
E-Paper

বিশুদাকে পিছন থেকে ছুরি মারিনি

ইস্টবেঙ্গলে আই লিগ না আসায় মনমরা লাল-হলুদের সহকারী কোচ স্যামি ওমোলো। বিশ্বজিৎ জমানায় ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স, অ্যালভিটো থেকে মেহতাব— এ সব নিয়ে রবিবার বিকেলে বাড়িতে আনন্দবাজারের সঙ্গে একান্ত আড্ডা দিলেন স্যামি।

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৬ ০৪:১৪
এ বার ফেড কাপ প্রস্তুতির পরিকল্পনায় মগ্ন স্যামি। রবিবার সল্টলেকের বাড়িতে। -শঙ্কর নাগ দাস

এ বার ফেড কাপ প্রস্তুতির পরিকল্পনায় মগ্ন স্যামি। রবিবার সল্টলেকের বাড়িতে। -শঙ্কর নাগ দাস

ইস্টবেঙ্গলে আই লিগ না আসায় মনমরা লাল-হলুদের সহকারী কোচ স্যামি ওমোলো। বিশ্বজিৎ জমানায় ইস্টবেঙ্গলের পারফরম্যান্স, অ্যালভিটো থেকে মেহতাব— এ সব নিয়ে রবিবার বিকেলে বাড়িতে আনন্দবাজারের সঙ্গে একান্ত আড্ডা দিলেন স্যামি।

প্রশ্ন: বাংলা ক্রিকেট টিমের জার্সি গায়ে স্যামি ওমোলো!

স্যামি: (হাসতে হাসতে) ক্লাবের একজন দিয়েছেন।

প্র: ইস্টবেঙ্গল গোটা মরসুম ছন্দে থেকে শেষ বেলায় পারফরম্যান্স তালগোল পাকাল কেন?

স্যামি: টানা ছ’বার কলকাতা লিগ জয় বা বাংলাদেশ থেকে রানার্স হয়ে ফেরা পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। আই লিগে ড্রেসিংরুমে দেখতাম কয়েকজন প্রথম টিমে চান্স না পেয়ে ফুঁসছে। ট্রেনিংয়ে ফাঁকি মারছে। এই পরিস্থিতিতে সুযোগ পেলে নিজেদের নিংড়ে দেওয়াটাই নিয়ম। কিন্তু এদের সেই মোটিভেশনটা দেখিনি। একটা টিমের সাফল্য নির্ভর করে দু’টো এল-এর উপর। লেবার অ্যান্ড লাক। সেই লাকটাও যে বিট্রে করল।

প্র: যেমন?

স্যামি: ডং কলকাতা লিগের পর চোট পেল। চোট সারিয়ে যখন ফিরল তখন ফোকাসটা একটু সরে গিয়েছে। ট্রেনিংয়ে সেটা ফিরল বটে। কিন্তু মাঠে নেমে আজ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার, কাল উইং হাফ, পরশু স্ট্রাইকার—এই ডামাডোলে পড়ে ওর আত্মবিশ্বাসের দফারফা। তার পর ভাইটাল সময়ে শেহনাজ, বিকাশ জাইরু, ডিকাদের চোট ভুগিয়েছে। টিমে কখনও কখনও ফাইটিং স্পিরিটের অভাব ছিল। মার্চের শুরুতে ছ’দিনের মধ্যে সালগাওকর আর শিবাজিয়ান্সের কাছে হারটাই টার্নিং পয়েন্ট। তার পর থেকেই অনেকের মধ্যে লড়াইয়ের মানসিকতাটা পুরোপুরি উড়ে যায়। কিন্তু তাও সুযোগ পেয়েছিলাম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ডার্বিতে এ বার এক বারও হারিনি। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলাম কোথায়! হয়তো কারও কারও ক্যাজুয়াল অ্যাপ্রোচ, স্টেজ মেকআপের মানসিকতা ফ্যাক্টর হয়েছে।

প্র: এরা কারা? লাল-হলুদ জার্সি গায়ে যাঁদের মোটিভেশন, লড়াইয়ের মানসিকতা ছিল না?

স্যামি: আমি কারও নাম বলব না। তবে টিমে অনেকেই এ বার লাল-হলুদ জার্সি পরার কলজেটা ছিল না। ইস্টবেঙ্গল হারলে এদের চোখমুখে কোনও পরিবর্তন দেখিনি।

প্র: একটা ক্লাবে ১৩ বছর আই লিগ আসে না। সেটা কেন?

স্যামি: এটা আমার কাছেও বড় প্রশ্ন। যখন ইস্টবেঙ্গলে খেলতাম তখন আর এখনকার পরিবেশ, পরিকাঠামোয় আকাশপাতাল তফাত। এই তেরো বছরে ফেড কাপ, ডুরান্ড, কলকাতা লিগ, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্লাব। এএফসি কাপে ভাল রেজাল্ট করেছে। কিন্তু একটা বিশেষ ট্রফি ক্লাবে আসছে না। কেন? তার কারণ খুঁজে বের করতেই হবে আমাদের। সমর্থকদের দুঃখ, আবেগ জানি। ওদের বলব, আর্সেনাল গত বারো বছরে ইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়নি। লিভারপুল একবারও নয়। তাতে কিন্তু ক্লাবগুলো উঠে যায়নি। আ বেন্ড ইন আ রোড ইজ নট দ্য এন্ড ইন আ রোড।

প্র: অনেকে বলছেন, আপনাদের টিমে নাকি এ বার দলবাজির জন্যই আই লিগ জেতা হল না?

স্যামি: আমি এ নিয়ে মিডিয়ার কাছে কিছু বলব না। কখনও যদি মনে হয়, তা হলে ক্লাবের সঙ্গে কথা বলব।

প্র: বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য...?

স্যামি: বিশুদা দারুণ মানুষ। কিছু প্লেয়ার ওঁর ভালমানুষ হওয়ার সুযোগ নিত। ওঁর একটু কড়া হওয়া উচিত ছিল। তবে বিশুদা শেষ দু’ম্যাচ আগে ইস্তফা না দিলেই পারতেন।

প্র: এটাও শোনা যাচ্ছে টিমের মধ্যে নাকি যাবতীয় ঘোঁট পাকানোর হোতা অ্যালভিটো?

স্যামি: আমার মনে হয় না। ক্লাবের জন্য ওর ডেডিকেশন নিয়ে প্রশ্ন হবে না। এই ক্লাবের ম্যানেজার পদে যোগ্য লোক। কোচ নয়। তবে ওর মন মতো না হলে অনেক সময় রাগারাগি করে। ওকে মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। কোথায় শুরু করে কোথায় থামতে হবে সেটা ও জানে না বলেই এত কথা হয় ওকে নিয়ে।

প্র: আর মেহতাব-সৌমিক?

স্যামি: যে মেহতাব ক্লাবের জন্য চোট লাগা পায়েও ট্যাকল করে কোনও চিন্তা না করে, সে টিমে পলিটিক্স করছে সেটা আমি মানি না। সৌমিকের ক্ষেত্রেও একই কথা বলব।

প্র: বিদায়ী কোচ পিছন থেকে ছুরি মারার কথা বলেছেন। ময়দানে ফিসফাস সেটা না কি আপনি?

স্যামি: আমি? লাভ কী? আমি তো কোচই হব না। বিশুদা আমাকে প্রত্যেকবার এয়ারপোর্টে গাড়ি করে নিয়ে যেতেন। তাঁকে আমি ব্যাকস্ট্যাব করতে পারি না। আমি বিশুদাকে ছুরি মারিনি। আমি সে রকম মানুষ নই।

প্র: তা হলে এ কথা উনি বললেন কেন?

স্যামি: সেটা আমি কী করে বলব।

প্র: আই লিগ না পাওয়ার ব্যর্থতার দায় তা হলে কার?

স্যামি: আমাদের সকলের। মনে রাখবেন সাফল্যের ফাদার আছে। ব্যর্থতার নেই।

প্র: নতুন কোচ মর্গ্যান। তিনিও কিন্তু আই লিগ আনতে পারেননি।

স্যামি: তার মানে এ বারও পারবেন না তা কে বলল? ছিয়াশিতে কোচ বেকেনবাউয়ার বিশ্বকাপ পাননি। কিন্তু নব্বইতে পেয়েছিলেন। নতুন কোচকে একটা কথাই বলব এই টিমকে একটা লিডার দিন। তা হলেই আমরা ট্রফি জিতব।

প্র: এই টিম ফেড কাপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে?

স্যামি: নিশ্চয়ই। তবে তার আগে যারা মেন্টালি সিক তাঁদের চাঙ্গা করতে হবে। আর টিমে ফ্রেশ ব্লাড দরকার। বিদেশিদেরও বুঝতে হবে এ দেশের ফুটবলারদের চেয়ে তাঁদের মান বেশি বলেই টিমে এসেছে তাঁরা। এই ঝাঁকুনিটা দিলেই ইস্টবেঙ্গল ফিরবে ইস্টবেঙ্গলে। আর কর্তাদেরও ব্রাদারহুড ছেডে় এ বার কড়া অভিভাবক হওয়ার সময় এসেছে।

i league sammy
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy