কলকাতা লিগের পরেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তাদের কোরিয়ান মিডফিল্ডার ডু ডং হিউনকে ছেড়েই দিল ইস্টবেঙ্গল। বিদেশি ফুটবলারটির জন্মদিনের দু’দিন মাত্র আগে।
এ দিন বিকেলে তাঁর এজেন্টকে নিয়ে লাল-হলুদ তাঁবুতে আসেন ডং। সেখানেই ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’ সেরে নেন তিনি। বলে যান, ‘‘ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের ছেড়ে থাকাটা সত্যিই কষ্টকর। গত বছর দু’টো ডার্বিতে চার গোল করার স্মৃতি আমার কাছে কোনও দিন ভোলার নয়। আমি ফিট। কিন্তু কোচ (মর্গ্যান) আমাকে ইস্টবেঙ্গলে চাননি। কোচ না চাইলে কোনও প্লেয়ার আর কী করতে পারে? তবে পেশাদার ফুটবলারের জীবনে এ সব ঘটেই থাকে।’’
এ বারের আই লিগে অন্য কোনও ক্লাবের জার্সিতে তাঁকে খেলতে দেখা যাবে কি না সে ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি ডং। শুধু বললেন, ‘‘আই লিগের বেশ কয়েকটা ক্লাবের অফার আছে আমার কাছে। আবার আমার এজেন্ট কাম্বোডিয়া আর কোরিয়ারও কয়েকটা ক্লাবের সঙ্গে কথা বলেছে।’’ ময়দানে অবশ্য ফিসফাস, গোয়া এবং পুণের দু’টি ক্লাবের সঙ্গে ডংয়ের কথাবার্তা অনেকটা এগিয়েছে।
ডংকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে ইস্টবেঙ্গল ও সংশ্লিষ্ট ফুটবলারের মধ্যে চুক্তির ধারা নিয়ে যে সমস্যা চলছিল গত ক’দিন যাবত, গত মঙ্গলবার রাতে শেষ পর্যন্ত তার সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসে। লাল-হলুদ সূত্রে খবর, তিন মাসের অগ্রিম দিয়ে ডংকে ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেক’-এর ব্যাপারে রাজি করিয়ে নেন ক্লাব কর্তারা। এবং বৃহস্পতিবারই তাঁকে ক্লাবে আসতে বলা হয়েছিল। এ দিন সেই মতো এসে সেই বাবদ চেক নেন ডং। গত বছর কলকাতা লিগে ১০ ম্যাচে ১২ গোল করা লাল-হলুদের সদ্য খারিজ বিদেশিকে বিদায় জানাতে হাজির ছিলেন মাত্র জনা দশেক সমর্থক। তাঁবু ছাড়ার আগে তাঁদের সই দেওয়ার পাশাপাশি নিজস্বীও তোলেন ডং। এবং গাড়িতে ওঠার আগে মর্গ্যানকে মৃদু দুষতেও ছাড়লেন না। ‘‘গত সপ্তাহেই কোচের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখন ট্রেভর বলেছিলেন, আমার খেলার ধরন, কোচের নির্দেশে সাড়া দেওয়া, আমার ব্যবহার, সবই তাঁর পছন্দ। কিন্তু তিনি আই লিগ জিততে চান। সে জন্য তাঁর টিমে তাই আমাকে চাইছেন না। বুঝলাম না, আমার খেলার ধরন তাঁর পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁর টিমে আমাকে চান না কোচ!’’ বলে ডং আরও যোগ করেন, ‘‘ট্রেভর একজন প্লেমেকার চাইছেন। যদি ক্লাব ওকে ইব্রাহিমোভিচ দিত তা হলেও বোধহয় নিতেন না! কারণ ইব্রাও তো প্লেমেকার নয়। হয়তো উনি দাভিদ সিলভার মতো কাউকে খুঁজছেন।’’
ইস্টবেঙ্গল ভবিষ্যতে ডাকলে আসবেন? জবাবে ডং বললেন, ‘‘অবশ্যই ইস্টবেঙ্গল ডাকলে ফিরে আসব।’’ যদি সেই ডাক মর্গ্যানের থেকে আসে? ডংয়ের ঝটিতি জবাব, ‘‘তা হলে তো আরওই আসতে হবে। সেটাই তো আসল চ্যালেঞ্জ!’’
ডং-বিদায়ের পর এশিয়ান কোটায় ইস্টবেঙ্গল কোন বিদেশিকে নেয় সেটা এখন দেখার। ক্লাব সূত্রে খবর, বছর কয়েক আগে ইস্টবেঙ্গলে খেলে যাওয়া বরিসিচকে পছন্দ মর্গ্যানের। তবে আরও কয়েকজনের নাম ক্লাবকে নাকি জানিয়েছেন ব্রিটিশ কোচ।