Advertisement
E-Paper

সনির খেলা-না খেলা নিয়ে দিনভর নাটক

ডার্বির আগে কর্নেল গ্লেন ঠিক কী মেজাজে, বোঝা গিয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতেই।ত্রিনিদাদ টোবাগো বিশ্বকাপার স্বভাবতই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সমর্থক।

রতন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০১৬ ০৩:৪৭

ডার্বির আগে কর্নেল গ্লেন ঠিক কী মেজাজে, বোঝা গিয়েছিল বৃহস্পতিবার রাতেই।

ত্রিনিদাদ টোবাগো বিশ্বকাপার স্বভাবতই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের সমর্থক। ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ভারত ছিটকে যাওয়ার পর এখানে বাগান স্ট্রাইকারের চিৎকারে গত রাতে প্রায় কেঁপে উঠেছিল টিম হোটেল। গ্লেন নাচছেন, গাইছেন! সতীর্থদের টিপ্পনিও উপভোগ করছেন। দেদার সেলফি তুলছেন।

যে মুড আপাত গম্ভীর গ্লেনের কখনও কেউ দেখেনি। শুক্রবার তিনিই আবার ‘এপ্রিল ফুল’-এর মজা নিতে ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘বৃষ্টি। মাঠ খারাপ। তাই শনিবারের ডার্বি হচ্ছে না।’

গ্লেনের ফুরফুরে মেজাজ যদি ডার্বির আগে বাগানে স্বস্তি যোগায়, তা হলে সনি নর্ডিকে নিয়ে চূড়ান্ত সমস্যায় সঞ্জয় সেন। বান্ধবী কিমিথা কুইনকে নিয়ে হাইতি থেকে দীর্ঘ বিমান যাত্রা শেষে শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন বাগানের প্রাণভোমরা। টিম হোটেলের সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে উঠে যান নিজের ঘরে। তার পরেও সনির শনিবার খেলা নিয়ে সন্দিহান বাগান কোচ। শুক্রবার ডিনারের আগে ফিজিও সমেত সনির ঘর থেকে ঘুরে আসার পর সঞ্জয় বলে দিলেন, ‘‘ওর হাঁটুর উপর সামান্য ফোলা রয়েছে। চিকিৎসা চলছে। খেলার সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। শনিবার দুপুরে টিম মিটিংয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।’’

সনি নিজে অবশ্য এক বারও বলছেন না, তিনি খেলবেন না। বললেন, ‘‘প্রি ওয়ার্ল্ড কাপে পানামা ম্যাচে একটা ট্যাকলে পড়ে গিয়েছিলাম। হাঁটুতে লাগে। দেখি কাল খেলতে পারি কি না।’’ কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি পাঠানোর আগে সনির পায়ের এমআরআই করান বাগান-কর্তারা। তাতে কোনও চোট ধরা পড়েনি। চিকিৎসক রিপোর্ট দেখে জানিয়েছেন, হাঁটুতে টানা আইসপ্যাক দিলে খেলতে পারবেন।

সঞ্জয় অবশ্য অনেক দূরের কথা ভাবছেন। ‘‘এখন পর-পর ম্যাচ আছে আমাদের। বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেখি সনি নিজে কাল কী বলে।’’ চাপের ডার্বির মুখে স্পর্শকাতর বিষয়ে বাগানের কেউই সরাসরি মুখ খুলছেন না। তবে প্রশ্ন উঠেছে, সনি যদি চোটের জন্য ডার্বিতে খেলতেই না পারেন, তা হলে তাঁকে কেন শিলিগুড়িতে পাঠানো হল? হাইতি স্ট্রাইকার অবশ্য এ দিন সবান্ধবী হোটেলের ঘরে ঢোকার পর আর বের হননি। সতীর্থদের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়নি ডিনার টেবলেও।

সনি শুক্রবার বিকেলে যখন টিম হোটেলে পৌঁছন, ততক্ষণে বাগানের অনুশীলন শেষ হয়ে গিয়েছে। সনিকে প্র্যাকটিসে চানওনি সঞ্জয়। চেয়েছিলেন টিমের সেরা ফুটবলারকে বিশ্রাম দিতে। সনি-নাটকের মতো গ্লেন-কাতসুমিদের অনুশীলনের মাঠ নিয়ে ছোটখাটো নাটক হল এ দিন বিকেলে। বিএসএফের যে মাঠে বাগানের নামার কথা তার পরিবর্তে অনেক দূরে অন্য একটা মাঠে চলে যায় টিম বাস। যার জেরে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধঘণ্টা পর শুরু হয় অনুশীলন। তাতে বেশ বিরক্ত বাগান কোচ-ফুটবলাররা।

মেন্ডির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল কোচের ঝামেলা আপাতত সন্ধির পর্যায়ে। টিম মিটিংয়ের বা অন্য সময় বিশ্বজিতের সঙ্গে কথা বলছেন ফরাসি ডিফেন্ডার। বিপক্ষ শিবিরে যখন শান্তির বাতাবরণ তখন সনিকে নিয়ে কিছুটা হলেও বিব্রত বাগান শিবির।

সনি শেষ পর্যন্ত মাঠে নামবেন কি না জানা যাবে শনিবার সকালে। তবে বাগান কোচ এ দিনই কর্নেল গ্লেনকে দেখিয়ে বলে রাখলেন, ‘‘সনির চেয়ে কিন্ত কর্নেলকে ইস্টবেঙ্গল বেশি ভয় পায়। দেখবেন হয়তো ও-ই গোল করে দেবে কাল।’’

চতুর সঞ্জয় হয়তো চাইছেন, বৃহস্পতিবারের ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের মতো তাঁর ত্রিনিদাদ টোবাগো ফুটবলারও তেতে উঠুন ডার্বিতে।

শনিবার আইলিগে

ইস্টবেঙ্গল : মোহনবাগান, (শিলিগুড়ি, বিকেল ৪-০০, টেন টু চ্যানেলে)।

derby
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy