Advertisement
E-Paper

মিনার্ভা মঞ্চে খালিদের বাঁচার পরীক্ষা

লাল-হলুদ কোচ মাঠে কোচিং করাচ্ছেন আর ম্যানেজার (ক্লাবের সরকারি মেল বলছে টিডি) মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তা নজরদারি করছেন, ডার্বি জয়ের আগে তা ছিল কল্পনার অতীত।

রতন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:০৯

খালিদ জামিলকে দেখে মনে হচ্ছে খাঁচাবন্দি ‘বাঘ’!

যাঁর হাতে ‘তুকতাক’ আছে অথচ ব্যবহার করার সুযোগ নেই। রাগ আছে কিন্তু দেখানোর জো নেই। কর্তারা যা চাইছেন মেনে নিতে হচ্ছে ‘খাদ্য’ হিসাবে।

লাল-হলুদ কোচ মাঠে কোচিং করাচ্ছেন আর ম্যানেজার (ক্লাবের সরকারি মেল বলছে টিডি) মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে তা নজরদারি করছেন, ডার্বি জয়ের আগে তা ছিল কল্পনার অতীত। আর আই লিগের প্রথম ডার্বির পর গত প্রায় দু’মাস যিনি ছিলেন ‘চোখের বালি’ সেই স্টপার গুরবিন্দর সিংহ সাংবাদিক সম্মেলনে খালিদের পাশে। এদুয়ার্দো ফেরিরার পাশে আজ যাঁকে দেখা যাবে চেঞ্চো গেলসন, উইলিয়াম ওকোপুদের সামলাতে। এটাও তো অবিশ্বাস্য ছিল। অনুশীলনের পর ড্রেসিংরুম থেকে গান ভেসে আসছে, এটা খালিদ-জমানায় কেউ শুনেছেন?

লিগ শীর্ষে থাকা মিনার্ভা পঞ্জাবের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ। বলা যায়, এটা এ বারের আই লিগের মহা ম্যাচ বা ডার্বি। সেই ম্যাচের আগের দিন খালিদ যেন, ‘উল্টে দেখুন পাল্টে গেছি’-র এক চলমান বিজ্ঞাপন। গত ছয় মাস টিমের পরামর্শদাতা হিসাবে যাঁকে নিয়োগ করেছিলেন কর্তারা, মনোরঞ্জনের দিকে তাকাতেনই না খালিদ। পরিস্থিতি দেখে নীরবেই ক্লাব তাঁবুতে আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। দেশের সর্বকালের অন্যতম সেরা স্টপার। এ দিন সেই মনোরঞ্জনকেই অনুশীলনের পর ডেকে নিলেন একান্তে। টিমের ভাল-মন্দ আলোচনার জন্য। আর সেই ঘণ্টার পর ঘন্টার দীর্ঘ বিরক্তিকর সভা—তা থেকেও মুক্ত হয়ে গিয়েছেন ইউসা কাতসুমি, ডুডু ওমাগবেমিরা। শীতের মেজাজি হাওয়ার মতোই তা বইছে টিমে। তাতে আবার এ দিন আরও রং দিলেন বিকাশ পাঁজি, চন্দন দাশ, ষষ্ঠী দুলে, রঞ্জন দে-র মতো প্রাক্তন তারকারা। সাংবাদিক সম্মেলন করে তারা বললেন, ‘‘সমালোচনা না করে ক্লাবের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে।’’ যা অভিনব ময়দানে।

ডার্বির বিশ্রী হারের পর সমর্থক বিক্ষোভ আর কর্তাদের নানা সিদ্ধান্তে খালিদ ভয়ঙ্কর চাপে। তাঁর মুখাবয়বে তা প্রকটও। ‘‘টুর্নামেন্টের সবথেকে কঠিন ম্যাচ খেলতে নামছি আমরা। সবাইকে একশো শতাংশ দিতেই হবে,’’ বলার সময় লাল-হলুদ কোচের কপালে চিন্তার বলিরেখা। খালিদের এতটাই দুঃসময় যে। মোহনবাগান থেকে বিতাড়িত এবং ‘খেপের মাঠের মেসি’ আনসুমানা ক্রোমার প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হতে হচ্ছে তাঁকে।

লিগ টেবলে অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আজ মিনার্ভাকে হারাতে না পারলে খালিদের টিম মাঘের অসংখ্য ঝরা পাতার মতোই খসে পড়বে খেতাব-গ্রহ থেকে। সেটা জানেন বলেই ইস্টবেঙ্গলকে আই লিগ দেওয়া কোচ মনোরঞ্জনের মুখ থেকে বেরিয়েছে, ‘‘যে রোগগুলো দলে ঢুকেছে সেগুলো দূর করতে সময় লাগবে। কিন্তু মিনার্ভা ম্যাচ না জিতলে তো সব শেষ।’’

অঙ্ক বলছে, মিনার্ভা আর নেরোকা-ই এখন পথের কাঁটা কাতসুমিদের। কাঁটা উপড়ানোর প্রথম সুযোগ কি আজ বারাসতে নিতে পারবেন ডুডুরা? এ বার অশ্বমেধের ঘোড়া হয়ে উঠেছে পঞ্জাবের এই টিমটা। কোচ খগেন সিংহের কথাবার্তায় তাঁরই প্রতিফলন। ‘‘ডার্বির হারের পর ওঁরা বেশ চাপে। ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর এ রকম মঞ্চ আর পাওয়া যাবে না। আমরা তিন পয়েন্টের জন্যই তাই ঝাঁপাব,’’ বলার সময় আত্মবিশ্বাস চুঁইয়ে পড়ে। খগেন যাঁদের কোচিং-গুরু বলে মানেন, সেই ডেরেক পেরিরা, বিমল ঘোষরা এক সময় কলকাতার টিমের কাছে ত্রাস ছিলেন। খগেন যেন সেই ধারার বাহক। মিনার্ভার অ্যাকাডেমি থেকে রাতারাতি সিনিয়র টিমের কোচ হয়ে যাওয়া খগেন ইস্টবেঙ্গল কাফেটেরিয়ায় বসে বলছিলেন, ‘‘ওদের আসল প্লেয়ার কাতসুমি। ওকে খেলতে দেওয়া যাবে না। ওর করা কর্নার কিক আর ফ্রি কিকগুলো আটকানোর জন্য ক্লাস করেছি।’’ মিনার্ভার মালিক রঞ্জিত বাজাজ গত দু’সপ্তাহ ধরেই অভিযোগ করছেন, তাঁর ফুটবলারদের জুয়াড়িরা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তাঁর দলের কোচ বা ফুটবলাররা তা নিয়ে অবশ্য নীরব।

খালিদ এবং মনোরঞ্জন দু’জনকেই এ দিন প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ বারের আই লিগের সেরা বিদেশি স্ট্রাইকার কে? দু’জনেই বলছেন, পাঁচ গোল করে ফেলা চেঞ্চে গিলসানের কথা।

যা শুনে অবাক লাগে। ভাবতে কষ্ট হয়, চিমা ওকোরি, হোসে ব্যারেটো, ইউসিফ ইয়াকুবু, র‌্যান্টি মার্টিন্স, এডে চিডিদের খেলে যাওয়া টুর্নামেন্টে এখন ভুটানের এক স্ট্রাইকার সেরা! বিশ্ব ফুটবল মানচিত্রে যে দেশের কোনও অস্তিত্বই নেই।

‘ভুটানের রোনাল্ডো’-ই যে আজ বারাসতে মিনার্ভার তুরুপের তাস। ইস্টবেঙ্গলের ত্রাস।

East Bengal Minerva Punjab Football I League Khalid jamil
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy