Advertisement
E-Paper

এসআইআর নিয়ে ফের জ্ঞানেশ কুমারকে তোপ শমীকের, মমতার ভূমিকার সমালোচনা করে দাবি রাজ্যপাল-রাষ্ট্রপতির সক্রিয়তার

রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেছেন, ‘‘সাংবিধানিক সঙ্কট নয়, পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থাটাই ভেঙে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও বলছে, এখানে সংবিধান এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে। তার পরেও রাজ্যপাল রাজভবনের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে আর চলবে না।’’

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১২
Bengal BJP fumes out against CEC again, Demands role of Governor and President in case of a constitutional crisis

রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। — ফাইল চিত্র।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়াল রাজ্য বিজেপি। দাবি তুলল রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতির সক্রিয়তারও। পশ্চিমবঙ্গে গোটা সাংবিধানিক ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়েছে বলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য শুক্রবার মন্তব্য করেছেন। এই পরিস্থিতি সামলাতে কমিশন অপারগ হলে দায়িত্ব রাজ্যপাল এবং রাষ্ট্রপতিকে নিতে হবে বলে তিনি দাবি তুলেছেন।

খসড়া ভোটার তালিকার সংশোধন, সংযোজন এবং বিয়োজন প্রক্রিয়ায় ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি অভিযোগ জানাতে পারবেন বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি কর্মীরা ফর্ম-৭ পূরণ করে কমিশনে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করায় জেলায় জেলায় অশান্তি শুরু হয়েছে। একাধিক জেলায় বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যেখানে তৃণমূল বাধা দেয়নি, সেখানে ইআরও এবং এইআরও-রা ফর্ম-৭ জমা নিতে অস্বীকার করেছেন বলে বিজেপির অভিযোগ। যদিও ফর্ম-৭ পূরণের মাধ্যমে ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানোর এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই করেছেন। ‘আসল’ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। কিন্তু শমীকের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর-এর এই পর্ব ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন।

এই পরিস্থিতির উল্লেখ করেই তিনি ফের কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। সেই প্রসঙ্গেই রাষ্ট্রপতির সক্রিয়তা সংক্রান্ত মন্তব্য করেছেন। শমীক বলেছেন, ‘‘বিএলএ-রা আক্রান্ত হচ্ছেন, আমরা রাজনৈতিক ভাবে তার মোকাবিলা করব। কিন্তু যদি বিএলও-রা পদত্যাগ করেন, যদি কোথাও বিডিও অফিসে আগুন লাগে, তার দায়িত্ব তো কমিশনকে নিতে হবে। নির্বাচন কমিশন যদি অপারগ হয়, যদি সাংবিধানিক সঙ্কট মনে করে, তা হলে তার দায়িত্ব রাজ্যপালকে নিতে হবে, ভারতের রাষ্ট্রপতিকে নিতে হবে।’’

রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেছেন, ‘‘সাংবিধানিক সঙ্কট নয়, পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থাটাই ভেঙে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টও বলছে, এখানে সংবিধান এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে। তার পরেও রাজ্যপাল রাজভবনের মধ্যে আবদ্ধ থাকলে চলবে না। তাঁকে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি গোয়ালপোখরে যান, চাকুলিয়ায় যান, মুর্শিদাবাদে যান, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যান। সেখানে গিয়ে দেখুন কী পরিস্থিতি।’’

তৃণমূলের ‘আগ্রাসী রাজনীতির’ কারণেই এসআইআর-এ এই শুনানি পর্বের প্রয়োজন বলে শমীক মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের যে প্রান্তেই থাকুন, তাঁদের কাছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৈরি হওয়া নথি পাওয়া যাচ্ছে। সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এত শুনানির প্রয়োজন পড়ছে। শমীক শুক্রবার বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের এই আগ্রাসন এবং প্রাণঘাতী হামলার প্রচেষ্টা সর্বব্যাপী আতঙ্কের বাতাবরণ তৈরি করছে। যে সন্ত্রাস তারা নির্বাচনের আগে করে থাকে, সেটা এসআইআর প্রক্রিয়াতেই শুরু করেছে।’‍’ কমিশনের উদ্দেশে তাঁর হুঁশিয়ারি, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া, স্বচ্ছ এবং মসৃণ ভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগে নির্বাচন করা যাবে না। শমীকের কথায়, ‘‘আগে এসআইআর সুষ্ঠু ভাবে শেষ করতে হবে। তার পরে নির্বাচন হবে।’’

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কেন দিল্লিতে বসে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন, সে প্রশ্ন শমীক আগেও তুলেছেন। শুক্রবারও ফের সেই প্রশ্ন তুলে শমীকের মন্তব্য, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গে আসুন, কলকাতার রাজপথে হাঁটুন, মুর্শিদাবাদে যান, বীরভূমে যান, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যান। মেট্রোয় একটু সফর করুন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁরা কী বলছেন, বোঝার চেষ্টা করুন। দিল্লিতে বসে থাকলে হবে না।’’

SIR BJP Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy