×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

বড় শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন জেমস

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৪:২১
কণিকা ও জেমস। বিতর্ক চরমে।

কণিকা ও জেমস। বিতর্ক চরমে।

মহিলা রেফারি কণিকা বর্মনের সঙ্গে বিশ্রী আচরণের দায়ে অভিযুক্ত নাইজিরিয়ান ফুটবলার এনডুরেন্স জেমস বড় রকমের শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন।

কলকাতা লিগে গত মঙ্গলবার মোহনবাগান-বিএনআর ম্যাচের এই ঘটনার পর রাজ্য জুড়ে এই কদর্য ঘটনার নিন্দা হচ্ছে দেখে কড়া মনোভাব নিল মহিলা কমিশনও। পুলিশে এফআইআরের পর ফুটবলারটিকে গ্রেফতারের দাবিতে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-ও।

মানবাধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলি বাইরে থেকে শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার পাশাপাশি রাজ্য ফুটবল সংস্থাও কড়া মনোভাব নিতে শুরু করেছে। আইএফএ সচিব উত্‌পল গঙ্গোপাধ্যায় এ দিন বলে গিয়েছেন, “রেফারি সংস্থাকে চিঠি আর ওই ছবি পাঠিয়ে জানতে চেয়েছি, কেন রেফারি জেমসের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। রিপোর্টে ওই ঘটনার কথা কেন লেখা নেই? দেখি ওরা কী বলে। তবে ছবি দেখে আমার কিন্তু খুব খারাপ লেগেছে। লজ্জাও করছে। রেফারি যদি ঠিক রিপোর্ট দেয়, তা হলে কড়া শাস্তি দিয়ে ওকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করব।”

Advertisement

জেমস যে দলে খেলছেন সেই বিএনআর কর্তারা এত বড় ঘটনার পরও কার্যত ভাবলেশহীন। অভিযুক্ত ফুটবলারটির পাশেও। নামমাত্র শো-কজ করে দায় এড়াতে চাইছেন তাঁরা। ক্লাবের সচিব প্রদীপকুমার বসু বললেন, “জেমসের সঙ্গে কথা বলেছি। ও তো বলছে, ‘পেটে বল লেগেছে’ দেখাতে গিয়ে ওরকম করেছে। জেমসের সঙ্গে আপনারা তো তেমন মেশেননি। ছেলেটা কিন্তু খুব ভাল। রেল তো পাবলিক সেক্টর। সব নিয়মকানুন মেনে করতে হয়। শো-কজ করছি। আইএফএ যদি বলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব।” আর দলের কোচ নভনীল বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, “ও তো আজও অনুশীলন করেছে। কোনও সমস্যা নেই। লিগের শেষ ম্যাচও খেলবে। আমাকে ক্লাব কর্তারা এখনও কিছু বলেননি।”

বিএনআরের সচিব এবং কোচ দু’জনকেই প্রশ্ন করা হয়, আনন্দবাজারের ছবি দেখে আপনাদের কী মনে হচ্ছে? ওটা কি আঙুল দিয়ে পেট দেখানোর ছবি? দু’জনেই যুতসই কোনও উত্তর দিতে পারেননি। তাঁদের প্রশ্ন করা হয়, ঘটনাটা ঘটে পেনাল্টি দেওয়ার পর। বল তো রেল ডিফেন্ডার বরুণ কুণ্ডুর হাতে লেগেছিল। তা হলে জেমস হঠাত্‌ পেট দেখাতে যাবেন কেন? উত্তরে রেলের অফিসার প্রদীপবাবু বলেন, “ক্যামেরা কোন দিক দিয়ে ছবি তুলেছে দেখতে হবে।” আর নভনীল বলেন, “জানি না।” জেমস আবার পুরো ব্যাপারটি নিয়ে কিছু বলতে চাননি। বন্ধুদের সঙ্গে ময়দানে ঘুরতে বেরিয়ে বললেন, “কিছু বলব না। কর্তারা সব জানেন।”

ট্রায়াল দিয়ে এ বার রেল দলে ঢুকেছেন জেমস। এক এজেন্ট নিয়ে এসেছিলেন তাঁকে। কর্তারা না জানালেও, শোনা যাচ্ছে মাসিক ষাট হাজারের চুক্তিতে সই করেছিলেন তিনি।

রেল জেমসকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন সুনন্দা মুখোপাধ্যায় বললেন, “মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) মামলা করেছি। কাল শুক্রবার চিঠি দিচ্ছি আইএফএ এবং রেফারি সংস্থাকে। জানতে চাইব কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” এ ছাড়া, এপিডিআরের পক্ষে রঞ্জিত শূর বললেন, “আমরা দু’দিন অপেক্ষা করব। দেখি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়। যদি কেউ শাস্তি না দেয়, তা হলে থানায় এফআইআর করব। এবং আদালতে যাব।”

Advertisement