দিয়েগো মারাদোনার মৃত্যু এখনও রহস্য। সাড়ে পাঁচ বছর পরও জানা যায়নি, ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু না চিকিৎসকদের গাফিলতি বা অবহেলায় অস্বাভাবিক মৃত্যু? স্বচ্ছতার অভাবে এক বছর বন্ধ থাকা বিচার প্রক্রিয়া আবার নতুন করে শুরু হয়েছে।
খেলোয়াড়জীবনে এবং পরবর্তী সময়ে নানা কারণে বিতর্কে জড়িয়েছেন মারাদোনা। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাবন ছিল অন্যতম কারণ। এ জন্য তাঁকে বহুবার সমস্যায়ও পড়তে হয়েছে। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মারাদোনার মৃত্যুর পর তাঁর আইনজীবী তদন্তের দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ ছিল, চিকিৎসার অভাবেই মৃত্যু হয় আর্জেন্টিনার প্রাক্তন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের। ঠিকঠাক চিকিৎসা হলে দ্রুত মৃত্যু এড়ানো যেত। অথচ মারাদোনার চিকিৎসা এবং দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন ২০ জন চিকিৎসক। তা হলে তাঁরা কি দায়িত্ব পালন করেননি? না করলে, কেন করেননি? এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান মারাদোনার ভক্তেরাও।
২০২২ সালের মার্চে মারাদোনার মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করে আর্জেন্টিনার সরকার। বেশ কিছু দিন বিচার পর্ব চলার পর জানা যায়, মামলার অন্যতম এক বিচারক মারাদোনার মৃত্যু নিয়ে তৈরি একটি তথ্যচিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনা শুরু হওয়ায় জুলিয়েটা মাকিনতাচ নামে ওই বিচারককে মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় বিচার প্রক্রিয়া। আগের বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়। তার প্রায় এক বছর পর আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে বিচার।
নতুন করে শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মারাদোনার মৃত্যুর ঘটনায় ‘উদ্দেশ্যমূলক হত্যা’র অভিযোগ রয়েছে চিকিৎসক, নার্স-সহ সাত জনের বিরুদ্ধে। মারাদোনার আইনজীবী এবং পরিবারের দাবি, অভিযুক্তেরা ঠিক মতো দেখভাল করতেন না। মারাদোনাকে অপরিচ্ছন্ন এবং অস্বাস্থ্যকর জায়গায় রাখা হত। যদিও চিকিৎসকদের দাবি, মারাদোনার মৃত্যুর কারণ অতিরিক্ত মাদকসেবন। বিষয়টিকে অকারণে জটিল করা হচ্ছে। ২০২১ সালে আদালতে দেওয়া রিপোর্টেও মারাদোনার মৃত্যুর কারণ হিসাবে মাত্রাতিরিক্ত মাদকসেবন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, বিশৃঙ্খলার কথা বলা হয়েছিল।
নতুন করে শুরু হওয়া বিচার প্রক্রিয়া জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে। অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণ হলে আট থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে।