মঙ্গলবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি স্বপনসাধন (টুটু) বসু। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বুধবার দুপুরে সবুজ-মেরুন তাঁবুতে গিয়ে টুটুর মরদেহে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে শোকবার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং বহু প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবলার।
বুধবার বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে শপথ নেওয়ার পরেই শুভেন্দু চলে যান মোহনবাগান তাঁবুতে। সেখান শায়িত ছিল টুটুর মরদেহ। মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানিয়ে টুটুর পুত্র তথা মোহনবাগানের সচিব সৃঞ্জয় বসু, পৌত্র অরিঞ্জয় বসু এবং মোহনবাগানের সভাপতি দেবাশিস দত্তের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও। বেরোনোর সময় শুভেন্দু বলেন, “মোহনবাগান ক্লাব, সমর্থক ও টুটুবাবুর সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সহানুভূতি জানাতে আমরা এসেছিলাম। মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে আজকের দিনে আমার একটাই প্রার্থনা, যে আত্মিকতা দিয়ে টুটুবাবু মোহনবাগান ক্লাবকে আগলে রেখেছিলেন, আপনারা সে ভাবে ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যান। এটাই হবে ওঁর প্রতি আসল শ্রদ্ধা। টুটুবাবুর প্রয়াণ ভারতীয় ও বঙ্গ ফুটবলের জন্য বিরাট ক্ষতি। তবে উনি মোহনবাগানের দায়িত্ব সামলানোর জন্য পরবর্তী প্রজন্মকেও তৈরি করেছেন। ওঁর ভাবনাচিন্তার পরিধি খুব বড় ছিল।”
তার আগে বুধবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে শুভেন্দু লেখেন, “মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক স্বপনসাধন বসুর (টুটু বসু) প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বসু একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে ওঁর অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওঁর নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুরাগীর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ওঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি।”
সমাজমাধ্যমে শমীক লেখেন, “প্রয়াত স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু) ভারতীয় ফুটবল ও মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব পরিবারের এক অবিস্মরণীয় নাম। সবুজ-মেরুনের সাফল্য, আধুনিকীকরণ ও ঐতিহ্য রক্ষায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ক্রীড়া প্রশাসক, সাংসদ ও সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলার ক্রীড়াজগতে এক অনন্য অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ফুটবল তথা বাংলার ক্রীড়াঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হল। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং তাঁর আত্মার সদ্গতি কামনা করি।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা লেখেন, “বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন সাংসদ স্বপনসাধন বসুর (টুটু বসু) প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাঁর শোকাহত পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।” অভিষেক লিখেছেন, “মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি প্রাক্তন সাংসদ টুটু বসুর প্রয়াণে আমি গভীর ভাবে শোকাহত।”
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বালিগঞ্জের বাসভবনে রাখা ছিল টুটুর মরদেহ। সেখানে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান মুনমুন সেন এবং তাঁর মেয়ে রাইমা। ছিলেন বিজেপি বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত এবং প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য। পরে বাসভবনে উপস্থিত হন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি সৃঞ্জয়ের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলেন। পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “টুটুর সঙ্গে আমার কবে থেকে পরিচিত বলা মুশকিল। সবসময় খোলা মনে কথা বলত। আজ এরকম খোলা মন পাওয়া দুর্লভ। এ রকম মানুষ সবাই হয় না। অনেকের অর্থ থাকে, সেই মনটা থাকে না। ওঁর দুটোই ছিল।’’ বাসভবনে হাজির হন তৃণমূলের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমও।
আরও পড়ুন:
বাসভবন থেকে বেলা ১১.৩০ নাগাদ সংবাদ প্রতিদিনের দফতরে নিয়ে আসা হয় টুটুর মরদেহ। কর্মীরা শ্রদ্ধা জানানোর পর ভবানীপুর ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মোহনবাগান তাঁবুতে যায় টুটুর মরদেহ। সেখানে শুভেন্দুর পাশাপাশি সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে, প্রাক্তন ফুটবলার শিল্টন পাল ছিলেন। প্রচুর সমর্থক হাজির হয়েছিলেন টুটুকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। বিকেল ৪.৩০টা নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য হওয়ার কথা।