E-Paper

সামনে সুইডেন, আক্রমণ অস্ত্র দেশঁর

পাশাপাশি শেষ ম‌্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত হ‌্যাটট্রিক করার পরে দেম্বেলের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। তাঁরও ইতিমধ্যে চার গোল হয়ে গিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৬:৪৪
দিদিয়ে দেশঁ।

দিদিয়ে দেশঁ।

এখনও পর্যন্ত গ্রুপ পর্বে খেলার বিচারে যে দলটিকে বিশ্বকাপ জেতার অন‌্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সেই দলের নাম ফ্রান্স। মঙ্গলবার রাতে নক-আউটে সুইডেনের মুখোমুখি হচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপেরা। দিদিয়ে দেশঁর দল আক্রমণে অন‌্য দলগুলির কাছে ত্রাসের অন‌্য নাম। সোমবার রাতে সাংবাদিক বৈঠকে ফ্রান্সের কোচ দেশঁ জানিয়ে দিয়েছেন, সুইডেনের বিরুদ্ধেও আক্রমণের রাস্তা থেকে মোটেও সরছে না তাঁর দল। পাশাপাশি ফ্রান্সকে কিছুটা চিন্তায় রাখছে দলের বাঁ-দিক!

গ্রুপ ‘আই’-এ তিন ম‌্যাচের তিনটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিরুদ্ধে তিন ম‌্যাচে মোট ১০ গোল করেছেন এমবাপেরা। সেখানে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে গোল হয়েছে মাত্র দু’টি। আক্রমণে এমবাপের সঙ্গে উসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসের যে ত্রিভুজ তা প্রতিপক্ষ দলের কাছে রীতিমতো আতঙ্কের। পাশাপাশি শেষ ম‌্যাচে নরওয়ের বিরুদ্ধে দুরন্ত হ‌্যাটট্রিক করার পরে দেম্বেলের আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। তাঁরও ইতিমধ‌্যে চার গোল হয়ে গিয়েছে।

সাংবাদিক বৈঠকে দেশঁ বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের চেয়ে অন্তত একটি গোল বেশি করা। আমরা খেলার ধরন থেকে মোটেও সরে আসতে চাই না।” পাশাপাশি রক্ষণে আরও সতর্ক হতে হবে বলেও মনে করছেন দেশঁ। তাঁর কথায়, “আমরা হয়তো প্রতিপক্ষকে কিছুটা বেশি সুযোগ দিয়েছি। তবে প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল, এই ধরনের ফুটবল খেলে কি সফল হওয়া সম্ভব? আমরা আগেই কিন্তু সফল হয়ে দেখিয়েছি।”

এখানেই না থেমে দেশঁ আরও বলেছেন, “প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করার সামর্থ্য আমাদের রয়েছে। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং আমি চাই দল সেই শক্তি ধরে রাখুক এবং মাঠেও তার প্রতিফলন দেখাক।” সুইডেনের বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ছন্দ বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দু’বারের বিশ্বচ‌্যাম্পিয়নরা।

এ দিকে গত মঙ্গলবার দেশঁর মা মারা যাওয়ায় তিনি দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। দু’দিন আগে তিনি ফিরে ফের দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। একমাত্র দুর্বলতা দেখা গিয়েছে বাঁ-দিকের রক্ষণ ও আক্রমণ দুই বিভাগেই। লেফ্ট ব‌্যাক থিয়ো হার্নান্দেস এখনও প্রত‌্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেননি। সুইডেনের বিরুদ্ধে হয়তো দেখা যেতে পারে লুকাস ডিনেকে। কারণ রক্ষণ সমলানোর পাশাপাশি তিনি উপরে উঠে স্ট্রাইকারদের জন্য ক্রস ভাসাতেও সিদ্ধহস্ত। পাশাপাশি প্রান্তেও একটি পরিবর্তন হতে পারে। দেজ়িয়ে দুয়ের পরিবর্তে দেখা যেত পারে ব্র‌্যাডলি বারকোলাকে। তাঁর গতি, সরাসরি আক্রমণে ওঠার ক্ষমতা এবং বারবার ডিফেন্ডারদের ব‌্যস্ত রাখা ফ্রান্সের আক্রমণে আরও ভারসাম‌্য আনতে পারে। কারণ দেশঁ চান দুই প্রান্ত দিয়েই সামন ভাবে যেন দল আক্রমণ শানায়।

গ্রুপ পর্বের মতো নক-আউটেও ফ্রান্সের মূল ভরসা ২৭ বছরের এমবাপে। ইতিমধ‌্যেই চার গোল করে বিশ্বকাপে সোনার বুট জেতার দৌড়ে প্রবল ভাবে রয়েছেন তিনি। নরওয়ের বিরুদ্ধে দেম্বেলের হ্যাটট্রিক, ওলিসের সৃজনশীলতার পাশাপাশি এমবাপের আগ্রাসন দেশঁর দলের আক্রমণভাগের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

এ দিকে সুইডেন গ্রুপ পর্বে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল না খেললেও নিজেদের প্রমাণ করেছে। গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল‌্যান্ডস ও জাপানের পরে তৃতীয় দল হিসেবে নক-আউটে উঠেছে তারা। প্রথম ম‌্যাচে টিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে হারালেও পরের ম‌্যাচে নেদারল‌্যান্ডসের বিরুদ্ধে একই ব‌্যবধানে তাদের পর্যদুস্ত হতে হয়। তবে শেষ ম‌্যাচে জাপানের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে নক-আউটে জায়গা নিশ্চিত করে সুইডেন। কঠিন পরীক্ষায় তারা পাশ করে কি না সেটাই দেখার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

france Didier Deschamps

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy