ফুটবল ম্যাচ যে এ ভাবে রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এমনটাই হয়েছে ইকুয়েডরের একটি ফুটবল ম্যাচে। খেলা চলাকালীন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতিদের গুলিতে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন রেফারি। চিকিৎসা করানো হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। মনে করা হচ্ছে, দুই ড্রাগ মাফিয়া দলের সংঘর্ষের কারণেই খুন হতে হয়েছে ওই রেফারিকে।
রবিবার ইকুয়েডরের এল ওরো প্রদেশের পাসাজেতে একটি ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন ৪৮ বছরের জেভিয়ার ওর্তেগা। হঠাৎই ম্যাচের মাঝে দুষ্কৃতিরা ঢুকে পড়ে রেফারিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। অবাক খেলোয়াড় এবং দর্শকদের সামনেই লুটিয়ে পড়েন ওর্তেগা। চিকিৎসকেরা মাঠে ছুটে এলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করা হয়। তার আগে খেলোয়াড় এবং সমর্থকেরা প্রাণ বাঁচাতে এ দিক-ও দিক ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, পরিকল্পনা করেই ওই রেফারিকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা মোবাইল ফোনের ফুটেজ দেখে এবং সাক্ষীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে দোষীদের খুঁজে বার করার চেষ্টা করছি। এটি ঠান্ডা মাথার খুন।”
রেফারিদের সংগঠন ক্ষিপ্ত। তারা প্রতিটি ম্যাচে আরও নিরাপত্তার দাবি তুলেছে। এক ফুটবল আধিকারিক বলেছেন, “জেভিয়ার একজন দায়বদ্ধ রেফারি ছিল। যে ভাবে ম্যাচ খেলাতে গিয়ে প্রাণ হারাল তা কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
আরও পড়ুন:
অ্যামেচার ফুটবলে যে ভাবে সাম্প্রতিককালে হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে তাতে উদ্বিগ্ন সে দেশের ফুটবলমহল। মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ার ড্রাগ মাফিয়াদের দাপট প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছে। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া কঠোর অবস্থান নিলেও লাভ হচ্ছে না।