সন্তোষ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বাংলা দলের বিরুদ্ধে সুনীল ছেত্রীকে বাদ দিয়েই প্রথম একাদশ গড়েছিলেন কোচ মানোলো মার্কেস। ২-১ গোলে জিতলেও ভারতীয় দলের খেলায় প্রকট হয়ে উঠেছিল ছন্দের অভাব। মঙ্গলবার উত্তর চব্বিশ পরগনা ক্রীড়া পর্ষদের দলের বিরুদ্ধে সুনীল ফিরতেই ঝলমলে ভারত।
নিউ টাউনে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের উৎকর্ষ সেন্টারে মঙ্গলবারের মহম্মদ রফিক, তন্ময় দাস, সাহিল হরিজনদের নিয়ে গড়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলা দলের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ সম্পূর্ণ বদলে ফেলেন মানোলো। গোলরক্ষক হিসেবে শুরু করেন গুরমিত সিংহ, রক্ষণে রাহুল ভেকে ও মেহতাব সিংহের সঙ্গে বরিস এবং অভিষেক সিংহ। মাঝমাঠে তিনি রেখেছিলেন আয়ুষ দেব ছেত্রী, নিখিল প্রভু ও মহেশ সিংহকে। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ শানানোর দায়িত্ব ছিল লিস্টন কোলাসোর উপরে। ডান প্রান্তে ছিলেন লালিয়ানজ়ুয়ালা ছাংতে। আক্রমণে একা সুনীল। পরিবর্ত হিসেবে উদান্ত সিংহ এবং এডমুন্ড লালরিনডিকাকে নামান। ম্যাচ চলাকালীন মহেশ এবং ছাংতের মধ্যে বারবার জায়গাও পরিবর্তন করান মানোলো।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর থেকে ভারতীয় দলের কোচের প্রধান চিন্তা গোলের সুযোগ ঠিক মতো তৈরি না হওয়া নিয়েই। চব্বিশ ঘণ্টা আগে বাংলা দলের বিরুদ্ধেও মনবীর সিংহদের আক্রমণে সে রকম ঝাঁঝ ছিল না। মঙ্গলবার সুনীল প্রথম একাদশে ফিরতেই পরিস্থিতি বদলে যায়। এই কারণেই চল্লিশোর্ধ্ব অধিনায়ককে পুরো ম্যাচ খেলান তিনি। ৩৩ মিনিটে ছাংতের সেন্টারে মাথা ছুঁইয়ে সুনীলই ভারতীয় দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে চিংলেনসানা সিংহ ব্যবধান বাড়ান। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ৩-০ করেন উদান্ত সিংহ। জয়ের রাতেও মানোলোকে অস্বস্তিতে রাখছে নিখিল প্রভুর চোট। যদিও ভারতীয় শিবিরের দাবি, আঘাত গুরুতর নয় তাঁর।
এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতের পরের ম্যাচ আগামী ১০ জুন হংকং-এর বিরুদ্ধে তাদের ঘরের মাঠে। তার আগে সুনীলেরা আগামী ৪ জুন তাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ড্রয়ের পরে সমর্থকদের মনে ২০২৭ সালে সৌদি আরবে মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জনের ব্যাপারে সংশয় তৈরি হলেও ছাংতে কিন্তু দারুণ ভাবেই আশাবাদী। তাঁর কথায়, ‘‘লড়াইয়ের জন্য আমরা তৈরি। বাংলাদেশ ম্যাচের ধাক্কা আমরা কাটিয়ে উঠেছি। এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ফের এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যোগ্যতা অর্জন করা।’’ অবসর ভেঙে জাতীয় দলে সুনীলের প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বসিত ছাংতে আরও বলেছেন, ‘‘সুনীল ভাই, সন্দেশ ভাইয়ের মতো অগ্রজদের পাশে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। ওদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)