আইএসএলে অবনমন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে এখনও অনড় ক্লাব জোট। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কাছে বারবার এ নিয়ে বলার পরে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এ বার তারা কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের দ্বারস্থ হল।
শুক্রবার আইএসএলের ১৪টি ক্লাব সকলে মিলে চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য আইএসএলে অবনমন তুলে দেওয়ার কথা ভেবে দেখা হোক। প্রয়োজনে সরকার ক্লাবগুলির কথা ভেবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করুক, যাতে অবনমন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন পায় সর্বোচ্চ আদালতে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়র উপস্থিতিতে আইএসএলের অচলাবস্থা কাটানোর বৈঠক হয়েছিল। ক্রীড়ামন্ত্রীই ১৪ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরু হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন। এ বার ফের তাঁর কোর্টে বল। তিনি কী করেন, সেটাই এখন দেখার।
ক্রীড়ামন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে ক্লাবগুলি জানিয়েছে, এমনিতেই প্রবল আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে দলগুলি। তার মধ্যেই আইএসএলে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সকলে। ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেও খরচ করতে হচ্ছে। এর পর টাকা বিনিয়োগ করে যদি সামনের বছর কোনও দলকে আই লিগে নেমে যেতে হয়, তা হলে সেই ক্লাবের পক্ষে সেটা খুব বড় ধাক্কা হয়ে যাবে। ক্লাবের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এগারো মরসুম ধরে অবনমন ছাড়াই হয়েছে আইএসএল। আরও তিন থেকে পাঁচ বছর তা এড়ানো গেলে আর্থিক দিক থেকে উপকার হবে ক্লাবগুলির। অবনমন না থাকলে পরিকাঠামো ও দল গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক বিনিয়োগ করতে সুবিধা হবে, এমন কথাও লিখেছে তারা।
অবনমন তুলে দেওয়ার প্রস্তাব এর আগেও ক্লাব জোটের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এ বারে সংক্ষিপ্ত লিগে অনেক ক্লাব খেলতে চাইছিল না আর্থিক সঙ্কটের কারণে। তখন কোনও কোনও ক্লাব প্রতিনিধি প্রশ্ন তোলেন, এ বারে ফের টাকা খরচ করে খেলে কী লাভ যদি সামনের বছর নেমেই যেতে হয়? সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে এ নিয়ে ক্লাবেদের একাধিক বৈঠক, বিতর্ক, মতান্তর হয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই অবনমন-উত্তরণ রাখতে হয়েছে আইএসএল ও আই লিগে। এই কারণেই ক্লাব জোট শুক্রবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রককে যে চিঠি লিখেছে, তাতে আর্জি জানিয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হোক, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর অবনমন তুলে দেওয়ার জন্য।
ক্লাব জোটের আর্জি মেনে সরকার কি সুপ্রিম কোর্টে সেই আবেদন করবে? এ নিয়ে শুক্রবার রাতে বেশ দ্বিধাভক্ত শোনাল ওয়াকিবহাল মহলকে। কারও কারও মত, কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী নিজে উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। তা হলে ক্লাব জোটের প্রস্তাব গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে দেখতে অসুবিধা কোথায়? আর একটা মত হচ্ছে, কোনও খেলায় ক্লাব জোটের পক্ষ নিয়ে দেশের সরকার আদালতে যাচ্ছে, এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না, তাই এ ক্ষেত্রে সেই প্রথা ভাঙা হবে কি না, সেটাও দেখার।
এএফসি ক্লাব লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় অন্যতম শর্ত, প্রত্যেকটি দলকে গোলকিপার ও স্ট্রেংথ কন্ডিশনিং কোচ রাখতে হবে। এর সঙ্গে রাখতে হয় জুনিয়র টিম। এই দু’টি ক্ষেত্রেও এ বারের জন্য ছাড় চেয়েছে ক্লাব জোট। ক্রীড়ামন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে এই দু’টি বিষয়ের পাশাপাশি অনুরোধ করা হয়েছে, দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে আগামী তিন বছরের জন্য পুলিশ, ফায়ার ইত্যাদি সরকারি পরিষেবা বিনামূল্যে করে দেওয়া হোক। যাতে তীব্র আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি পায় ক্লাবগুলি।
এ দিকে, আর্থিক সমস্যার কারণে আই লিগে মিজোরামের চানমারি এফ সি-র খেলা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী এ নিয়ে কথা বলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের সঙ্গে। চানমারির খেলা নিয়ে সংশয় আপাতত দূর হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)