গত বার আইএসএলের লিগ-শিল্ড এবং কাপ দু’টিই জিতেছিল মোহনবাগান। নতুন মরসুমের প্রথম ম্যাচেও একই ছন্দে দেখা গেল সবুজ-মেরুনকে। জেমি ম্যাকলারেন এবং টম অলড্রেডের গোলে কেরল ব্লাস্টার্সকে ২-০ গোলে হারাল তারা। ম্যাচের মাঝেই গ্যালারিতে বাঙালি-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে টিফো নামিয়ে প্রতিবাদ করলেন মোহনবাগান সমর্থকেরা।
আগের দিনই কেরলের কোচ ডেভিড কাতালা জানিয়েছিলেন, তাঁরা মাত্র ১৪ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে খেলতে এসেছেন। তবু অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। বাস্তবে কেরল লড়াই করলেও কখনওই অঘটনের মতো খেলতে পারেনি। শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল মোহনবাগানের। তবে নিজেদের অর্ধেই বেশির ভাগ সময়ে খেলছিল তারা। ৬ মিনিটের মাথায় দিমিত্রি পেত্রাতোস গোল লক্ষ্য করে শট নিলেও তা প্রতিহত হয়।
মোহনবাগান চেষ্টা করছিল গোটা মাঠ ব্যবহার করে খেলার। বল এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে পাঠিয়ে ম্যাচের দখল নেওয়ার চেষ্টা করছিল। মোহনবাগানের দাপট এতটাই ছিল যে কেরল টানা পাঁচটি পাসও খেলতে পারছিল না। বাঁ দিক থেকে বার বার কেরলকে বিপদে ফেলছিলেন রবসন। পেত্রাতোস খেলছিলেন মাঝমাঠে। তিনি বলের জোগান দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ৩২ মিনিটে বক্সের কাছাকাছি ফ্রিকিক পেয়েছিল মোহনবাগান। তবে লিস্টন কোলাসোর বাঁকানো শট সোজাসুজি কেরল গোলকিপার সচিনের হাতে যায়।
এর কয়েক মিনিট পরেই এগিয়ে যায় মোহনবাগান। ডান দিক থেকে উঠে গিয়ে বক্সের মাঝে পাস দিয়েছিলেন পেত্রাতোস। পাস ঠিকঠাক হয়নি। কোনও মতে সেই বল ধরে চকিতে ঘুরে গিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন ম্যাকলারেন। দুই অস্ট্রেলীয় ফুটবলারের বোঝাপড়া এগিয়ে দেয় মোহনবাগানকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই শুভাশিস বসুকে তুলে অমেয় রানাওয়াড়েকে নামান সের্জিয়ো লোবেরা। কেরলও দু’টি পরিবর্তন করে। ৫৩ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। পেত্রাতোসের শট প্রতিহত হলেও বল আসে অমেয়র কাছে। কিন্তু ভাল করে শটই নিতে পারেননি তিনি। গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েও ব্যর্থ হন লিস্টন।
মোহনবাগানের দাপট বজায় ছিল প্রথমার্ধের মতোই। তবু গোল আসছিল না। দ্বিতীয় গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হল সংযুক্তি সময় পর্যন্ত। রবসন চোট পেয়ে বেরিয়ে যান। তার পরেই একটি ফ্রিকিক পায় মোহনবাগান। অনিরুদ্ধ থাপার নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন টম।
আরও পড়ুন:
এ দিকে, বিভিন্ন রাজ্যে যে ভাবে দিন দিন বাঙালি-বিদ্বেষ বেড়ে চলেছে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মোহনবাগান সমর্থকেরা। একটি টিফোয় লেখা ছিল, ‘বাঙালি ভারতকে দিয়েছে সম্মান, শিখিয়েছে মৈত্রী, নেতৃত্ব। আজ বাংলা বললে সে ‘বাংলাদেশি’: ধর্ম সংকটে জাতীয়তা’। সেই টিফোয় ছিল সত্যজিৎ রায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজি নজরুল ইসলাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, শিবদাস ভাদুড়ি এবং লিয়েন্ডার পেজের ছবি।