যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলার সময় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার (সিপি) ছিলেন তিনি। ঘটনার পর পরই তাঁকে শো কজ় করেছিলেন রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। দিন কয়েক আগেই বিধাননগর থেকে তাঁকে সরিয়ে মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি করা হয়। আবার সেই মুকেশকে বদলি করল নবান্ন। মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জের আইজি পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে রাজ্যের আইবির আইজি করা হল।
শুধু একা মুকেশ নয়, রাজ্য পুলিশের আরও কিছু উচ্চস্তরে বদল করার কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাল নবান্ন। এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) পদে বদল করা হয়েছে। ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হল রাজীব মিশ্রকে। এত দিন তিনি সামলাচ্ছিলেন এডিজি (আধুনিকরণ এবং সমন্বয়) পদ। এ ছাড়াও, লক্ষ্মীনারায়ণ মিনাকে পশ্চিমবঙ্গের কারা বিভাগের এডিজি পদ থেকে সরিয়ে সিআইডির এডিজি করা হয়েছে।
নদিয়া-রানাঘাট রেঞ্জের ডিআইজি সঈদ ওয়াকুর রাজ়াকে মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের ডিআইজি করার কথা জানিয়েছে নবান্ন। আগে তিনি এই পদেই ছিলেন। পাশাপাশি, কৃষ্ণনগর এবং জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার বদল করা হল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার এসপি অমরনাথ কে-কে জলপাইগুড়িতে পাঠানো হয়েছে। আর জলপাইগুড়ির এসপি ওয়াই রঘুবংশীকে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অনেকের মতে, এই রদবদলের মধ্যে অন্যতম নাম মুকেশ। গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে এসেছিলেন ফুটবল তারকা লিয়োনেল মেসি। কিন্তু সে দিন যুবভারতীতে উপস্থিত থাকা দর্শকেরা মেসিকে দেখতে না-পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। গ্যালারি থেকে ভাঙা চেয়ার, জলের বোতল ছোড়া হয় মাঠে। গ্যালারির রেলিং টপকে হাজার হাজার মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েছিলেন। সকলের অভিযোগ ছিল, অনেক টাকা খরচ করে টিকিট কেটে এসেও মেসিকে তাঁরা গ্যালারি থেকে দেখতে পাননি। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে মাঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। ঘটনার পর পরই যুবভারতীর ওই অনুষ্ঠানের পরিচালনায় বিধাননগর পুলিশের কী ভূমিকা ছিল, তা জানতে চেয়ে মুকেশকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠান রাজ্যের মুখ্যসচিব।
সেই ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গত ৩০ জানুয়ারি রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ পদে বড় রদবদল করে নবান্ন। সেই তালিকায় ছিলেন মুকেশও। তাঁকে বিধাননগর তৎকালীন সিপি-র পদ থেকে সরিয়ে পাঠানো হয় মুর্শিদাবাদ-জঙ্গিপুর রেঞ্জে। গত কয়েক দিন সেখানকার আইজি পদে ছিলেন তিনি। তবে আবার তাঁকে বদলি করা হল। নবান্ন সূত্রে খবর, এটা রুটিন বদলি।