করমর্দন-বিতর্কে উত্তাল হয়েছিল এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তানের তিনটি ম্যাচ। সেই বিতর্কের রেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সলমন আঘাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বল ঠেলেছিলেন ভারতের দিকে। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব অপেক্ষা করতে বললেন। পাশাপাশি, রবিবার অভিষেক শর্মা খেলবেন কি না সেটাও জানিয়ে দিলেন।
রবিবার সলমনের সঙ্গে হাত মেলাবেন কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে সূর্যকুমার বলেন, “২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। আমরা এখানে ভাল ক্রিকেট খেলতে এসেছি। ওই ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত ভাল করে খাব, ভাল করে ঘুমোব। তাই ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতেই হবে।”
সলমনকে এই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, “দেখাই যাক কাল কী হয়। তবে ম্যাচটা যেন সঠিক মেজাজে খেলা হয়। আমার ব্যক্তিগত মতামতের কোনও অর্থ নেই। অতীতে যে ভাবে ক্রিকেট খেলা হয়েছে, সে ভাবেই খেলা উচিত। এটা (করমর্দন) নিয়ে ওরা সিদ্ধান্ত নিক।”
এ দিন সলমন জানিয়েছিলেন, তিনি চান রবিবার অভিষেক খেলুন। তা সূর্যের সামনে বলতেই ভারত অধিনায়কের জবাব, “পাকিস্তান যদি চায় অভিষেক খেলুক তা হলে খেলিয়ে দেব। চিন্তা কিসের।” শোনা গিয়েছে, শনিবার ভারতের প্রস্তুতির পরেই ঠিক হবে অভিষেককে খেলানো হবে কি না।
রবিবারের ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষ মাথা ঘামাতে চাইলেন না সূর্য। বলেছেন, “আবহাওয়ার উপরে আমাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। ভাল ক্রিকেট খেলার উপরে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। দেশের মাটিতেও এ রকম পিচে আমরা খেলেছি। কলম্বোর মাঠে প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। তাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।”
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে যে চাপ থাকবেই, এটা স্বীকার করে নিয়েছেন সূর্য। বলেছেন, “ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথ যে কোনও ম্যাচের থেকে বেশি। আমরা যতই বলি, ‘এটা স্রেফ আরও একটা ম্যাচ’। কিন্তু চাপে থাকা মানুষের প্রবৃত্তির মধ্যেই রয়েছে। এটা অন্য একটা ম্যাচের মতো নয়। ওদের বিরুদ্ধে আমরা খুব বেশি খেলি না। তাই চাপ থাকবেই।”
পাকিস্তানের উসমান তারিকের জন্য তাঁরা প্রস্তুত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন সূর্য। তাঁর কথায়, “কোনও প্রশ্ন সিলেবাসের বাইরে থেকে এলেও তা ছেড়ে আসা যায় না। ও অন্য ধরনের বোলার। কিন্তু আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমরা প্রত্যেকে উত্তেজিত। ওদের বোলিং বেশ ভাল। কম্বিনেশনও ঠিকঠাক। কী ভাবে ওদের মোকাবিলা করব সেটা কাল আমাদের খেলা দেখলেই বুঝতে পারবেন।”
আগের ম্যাচে জসপ্রীত বুমরাহকে পাওয়ার প্লে-তে মাত্র এক ওভার করিয়েছিলেন সূর্য। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কি কৌশল বদলাবেন? সূর্যের জবাব, “একটা সুন্দর বোলিং বিভাগের জন্য কিছু পরিকল্পনা তো করে রাখতেই হয়। ম্যাচ অনুযায়ী আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। এটা তো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বা লিগ ক্রিকেট নয়। প্রতিপক্ষ দেখে নিজেদের পরিকল্পনা করতে হয়।” প্রশ্ন ওঠে, কুলদীপ যাদবকে খেলানো হবে কি না? আবার মজা করে সূর্যের উত্তর, “আপনি কি চান ও খেলুক? ঠিক আছে তা হলে খেলিয়ে দেব।”
আমেরিকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। সেই ম্যাচ থেকে পাওয়া শিক্ষা বাকি প্রতিযোগিতায় কাজে লাগবে বলে মনে করেন সূর্য। তিনি বলেন, “অস্বীকার করার জায়গা নেই যে, শুরুতে হোঁচট খেয়েছি। অজুহাত দেব না। দলের সকলেই প্রচুর ক্রিকেট খেলেছে। তাই কঠিন পিচে নিজস্ব পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মজা।”
আরও পড়ুন:
সূর্য আরও বলেন, “আমরা যে ভাবে খেলছি সে ভাবেই খেলব। নিজেদের শক্তি কাজে লাগাব। বিপক্ষের খারাপ খেলার দিকে তাকিয়ে থাকতে চাই না। রবিবার যে ভাল খেলবে সে-ই জিতবে। ওরাও ভাল ক্রিকেট খেলছে। এখানে অনেক দিন রয়েছে, যেটা বাড়তি সুবিধা। ওদের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের খেলায় নজর দিতে চাই।”
ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় কি হবে? সূর্যের উত্তর, “এটা তো আমাদের হাতে নেই। বলার মতো জায়গায় এলে উত্তর দিতে পারব।”