Advertisement
E-Paper

শেষ মুহূর্তে পরিত্রাতা কামিংস, দু’বার পিছিয়ে পড়েও পঞ্জাবকে হারিয়ে দু’নম্বরে উঠল মোহনবাগান

সংযুক্তি সময়ে ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন জেসন কামিংস। সেই গোলই জয়ে ফেরাল মোহনবাগানকে। পর পর তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করার পর জয়ে ফিরল মোহনবাগান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৩৪
football

জেসন কামিংস। —ফাইল চিত্র।

সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দু’দলই অসংখ্য গোল করতে পারত। কিন্তু পাল্লা দিয়ে গোল মিস্‌ করলেন মোহনবাগান ও পঞ্জাব এফসির ফুটবলারেরা। শেষ পর্যন্ত মোহনবাগানের পরিত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন জেসন কামিংস। সংযুক্তি সময়ে ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন তিনি। দু’বার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জিতল বাগান। পর পর তিন ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করার পর জয়ে ফিরল তারা। পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সবুজ-মেরুন। ২৪ ঘণ্টা আগেই মোহনবাগানকে টপকে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এ বার আবার লাল-হলুদকে টপকাল সবুজ-মেরুন। তবে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে মোহনবাগান।

লিগের দৌড়ে থাকা দল ঘরের মাঠে কোথায় বাড়তি তাগিদ দেখাবে, তা না, খেলার শুরু থেকে চাপ বাড়াতে শুরু করে পঞ্জাব এফসি। ড্যানি র‌্যামিরেজ়, এফিয়ং সুনগুসি, ওসুজিদের পায়ে আক্রমণে উঠছিল তারা। চাপ বাড়ানোর ফলও পায় পঞ্জাব। ১২ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় তারা। বাঁ প্রান্তে বল ধরে বক্সে ক্রস দেন উবেইস। পা বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি এফিয়ং। কিন্তু র‌্যামিরেজ় ভুল করেননি। বিশাল কাইথকে পরাস্ত করে পঞ্জাবকে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল খাওয়ার পর বাগানের খেলায় কিছুটা বাড়তি তাগিদ দেখা যায়। বলের দখল নিয়ে আক্রমণে উঠছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস, লিস্টন কোলাসোরা। কিন্তু পঞ্জাবের রক্ষণ সতর্ক ছিল। ২৭ মিনিটের মাথায় লিস্টনের শট ভাল বাঁচান অর্শদীপ সিংহ। অবশ্য দু’মিনিট পরেই বাগানের হয়ে সমতা ফেরান জেমি ম্যাকলারেন। রবসন রবিনহোর ক্রস ধরে বক্সে ঢুকে প্রথম পোস্ট দিয়ে অর্শদীপকে পরাস্ত করে গোল করেন তিনি। চলতি আইএসএলে সবচেয়ে বেশি ৮ গোলের মালিক হলেন তিনি।

Advertisement

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণের খেলা চলছিল। অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও পঞ্জাবকে দেখে মনে হয়নি, চাপে রয়েছে তারা। বিরতির আগে ম্যাকলারেনের পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন পেত্রাতোস। কিন্তু অফসাইডে ছিলেন তিনি। ফলে গোল বাতিল হয়। ১-১ গোলে বিরতিতে যায় দু’দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণের ঝাঁজ অনেক বেশি ছিল পঞ্জাবের। মাঝমাঠের দখল তাদের পায়েই ছিল। বাগানের রক্ষণ ভুল করছিল। বার বার বিশালের গোল লক্ষ্য করে র‌্যামিরেজ়, ওসুজিরা শট মারছিলেন। ৫৯ মিনিটের মাথায় গোল করা সহজ সুযোগ পান এফিয়ং। বক্সের মধ্যে থেকে মারা তাঁর শট ভাল বাঁচান বিশাল। যদিও পরের মিনিটেই বাগানের রক্ষণের ভুলে আবার এগিয়ে যায় পঞ্জাব।

র‌্যামিরেজ় ও ওসুজি নিজেদের মধ্যে পাস খেলেন। বল বার করার সুযোগ ছিল অভিষেক মিতেইয়ের কাছে। কিন্তু তাঁর পায়ে লেগে বল যায় এফিয়ংয়ের কাছে। চলন্ত বলে বাঁ পায়ের টোকায় বিশালকে পরাস্ত করেন এফিয়ং। পঞ্জাবের ফুটবলারেরা নিজেদের মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া করে আক্রমণে উঠছিলেন। অন্য দিকে মোহনবাগানকে ছন্নছাড়া দেখাচ্ছিল। মিস্‌ পাস হচ্ছিল। সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিলেন না পেত্রাতোসেরা।

৭৩ মিনিটের মাথায় একক দক্ষতায় বাগানকে খেলায় ফেরান সাহাল আব্দুল সামাদ। প্রায় ৩০ গজ দূরে বল পেয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে জোরাল শটে গোল করেন সাহাল। তাঁর ডান পায়ের শট অনেক চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি অর্শদীপ। হাঁপ ছেড়ে বাঁচেন কোচ সের্জিয়ো লোবেরা। নইলে বাগান তখন যে ভাবে খেলছিল, তাতে গোল করা কঠিন ছিল।

এক বারের জন্যও মনে হয়নি, ১ পয়েন্টের জন্য খেলছে পঞ্জাব। ৭৮ মিনিটের মাথায় বাগানের বক্সে বল পান এফিয়ং। তাঁর শট ভাল বাঁচান বিশাল। নইলে আবার পিছিয়ে পড়ত মোহনবাগান। এই ম্যাচে বিশাল না থাকলে পঞ্জাব অন্তত আরও দু’টি গোল করত। গোল করার জন্য জেসন কামিংসকেও নামিয়ে দেন লোবেরা। কিন্তু বাগানের খেলায় সেই ছন্দ দেখা যাচ্ছিল না।

অন্য দিকে গোটা ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখায় পঞ্জাব। সেটা পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বাগানের গোল লক্ষ্য করে ১৫টি শট মারে পঞ্জাব। তার মধ্যে সাতটি গোলে ছিল। অন্য দিকে মোহনবাগান শট মারে আটটি। তার মধ্যে চারটি ছিল গোলে। ঘরে মাঠে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কোনও দলের এই দাপট অনেক দিন দেখা যায়নি।

সময় কমছিল। আরও একটি ম্যাচ ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল। লোবেরা জানতেন, এই ম্যাচে পয়েন্ট নষ্ট করলে আইএসএল জেতার দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বেন তিনি। কিন্তু যে খেলাটা পেত্রাতোসেরা দেখালেন, তাতে আশাহত হবেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। প্রথম চার ম্যাচে কি এই ফুটবলারেরাই খেলছিলেন? প্রশ্ন উঠছে। রোজ রোজ কিন্তু শেষ মুহূর্তে জেতা যাবে না।

৮৫ মিনিটের মাথায় বিশালকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি এফিয়ং। তাঁর শট পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটে একক দক্ষতায় বক্সে ঢুকে শট মারেন অভিষেক মিতেই। সেই বল পান কামিংস। সামনে শুধু গোলরক্ষক একাই ছিলেন। সেখান থেকে গোল করা অপরাধ। কামিংস সেটাই করলেন। গোল করতে পারেননি তিনি।

যদিও সেই কামিংসই শেষ পর্যন্ত পরিত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন বাগানের। সংযুক্তি সময়ের প্রথম মিনিটে তাঁর ফ্রি কিকের উচ্চতা বুঝতে পারেননি অর্শদীপ। গোল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু বলের নাগাল পাননি। বল সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। সেখান থেকে আর ফিরতে পারেনি পঞ্জাব। এই জয়ের ফলে আট ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠল বাগান। জামশেদপুরকে টপকে গেল তারা। শীর্ষে মুম্বই সিটি এফসি। আট ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৮।

Mohun Bagan Punjab FC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy