Advertisement
E-Paper

শুভমন-বাটলারের অর্ধশতরানে লখনউকে হেলায় হারাল গুজরাত, ঘরের মাঠে আবার হারে ফিরলেন পন্থেরা

আগের ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে হারতে থাকা ম্যাচ জিতেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। কিন্তু গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে সে রকম লড়াই করতে পারল না তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৫
cricket

গুজরাতের জয়ের দুই নায়ক জস বাটলার (বাঁ দিকে) ও শুভমন গিল। ছবি: পিটিআই।

অ্যাওয়ে ম্যাচে পর পর জিতছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। ঘরের মাঠে ফিরে আবার হারে ফিরল তারা। আগের ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে হারতে থাকা ম্যাচ জিতেছিল লখনউ। কিন্তু গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে সে রকম লড়াই করতে পারল না তারা। বল হাতে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের ৪ উইকেট এবং ব্যাট হাতে শুভমন গিল ও জস বাটলারের অর্ধশতরানে লখনউকে হেলায় হারাল গুজরাত। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করেছিল লখনউ। ৮ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতল গুজরাত।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বল থেকেই হাত খুলে মারতে থাকেন লখনউয়ের ওপেনার মিচেল মার্শ। কিন্তু মাত্র চার বল টেকেন তিনি। ১১ রান করে কাগিসো রাবাডার বলে আউট হন। এডেন মার্করাম ও ঋষভ পন্থ জুটি বাঁধেন। রান তোলার গতি ভালই ছিল। প্রতি ওভারে ১০ রানের বেশি উঠছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র মধ্যে আরও একটি উইকেট হারায় লখনউ। ১৮ রান করে মহম্মদ সিরাজের বলে আউট হন পন্থ।

মাঝের ওভারে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকে লখনউয়ের। নেপথ্যে প্রসিদ্ধ। এ বারের আইপিএলে তাঁকে শুরুতে ব্যবহার না করে মাঝের ওভারে ব্যবহার করছেন শুভমন গিল। সেই পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। ৩০ রানের মাথায় প্রসিদ্ধের বলে আউট হন মার্করাম। আয়ুষ বাদোনি ও নিকোলাস পুরানকেও ফেরান এই ডানহাতি পেসার। পর পর উইকেট পড়ায় লখনউয়ের রান তোলার গতি কমে।

Advertisement

গত ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে হেরে যাওয়া ম্যাচ একার কাঁধে জিতিয়েছেন মুকুল চৌধরি। ফলে এই ম্যাচে তাঁর উপর প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল। শুরুটা খারাপ করেননি মুকুল। একটি চার ও একটি ছক্কা মারেন। কিন্তু প্রসিদ্ধের বাউন্সার সামলাতে পারেননি। ১৮ রান করে আউট হন। শেষ দিকে মহম্মদ শামি ও আবেশ খানের ব্যাটে ১৬০ রান পার করে লখনউ।

প্রসিদ্ধ চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। বেগনি টুপির মালিক হলেন তিনি। অশোক শর্মা ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। সিরাজ ১ উইকেট নিলেও চার ওভারে দেন মাত্র ১৯ রান। ভারতীয় পেসারদের ভাল বল করার দিনে রান দিয়েছেন রাবাডা। চার ওভারে ৫৪ রান দিয়েছেন তিনি।

১৬৪ রান করে ম্যাচ জিততে হলে শুরুতেই উইকেট নিতে হত লখনউকে। কিন্তু সেটা পারেননি শামি, প্রিন্স যাদবেরা। এই প্রথম এ বারের আইপিএলে পাওয়ার প্লে-তে রান দিলেন শামি। সাই সুদর্শন ও শুভমন আরাম করে খেলছিলেন। যদিও সুদর্শন বেশি ক্ষণ টিকতে পারেননি। পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে দিগ্বেশ রাঠীর বলে ১৫ রান করে আউট হন তিনি।

শুভমনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন বাটলার। সেই জুটিই গুজরাতকে জয়ের কাছে নিয়ে যায়। অবলীলায় হাত খুলে খেলছিলেন তাঁরা। লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় ঝুঁকি নিতে হয়নি দুই ব্যাটারকে। লখনউয়ের বোলারেরা উইকেট নেওয়ার সব রকম চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পারেননি। দুই ব্যাটারই অর্ধশতরান করেন। দেখে মনে হচ্ছিল, এই জুটিই দলকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়বে।

কিন্তু কেকেআর ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করে লখনউ। পর পর আউট হন শুভমন ও বাটলার। ৪০ বলে ৫৬ রান করে প্রিন্সের বলে আউট হন শুভমন। ৩৭ বলে ৬০ রান করে শামির শিকার হন বাটলার। ফলে কিছুটা হলেও চাপ বাড়ে গুজরাতের উপর। কিন্তু তত ক্ষণে খেলার ফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

শেষ ১৮ বলে গুজরাতের জিততে দরকার ছিল ২০ রান। ক্রিজ়ে ছিলেন রাহুল তেওতিয়া ও ওয়াশিংটন সুন্দর। তাঁরা জানতেন, অঘটন না ঘটলে এই ম্যাচ তাঁরা হারবেন না। সেটাই হল। প্রিন্সের এক ওভারে এল ১৪ রান। সেখানেই খেলার ফয়সালা হয়ে গেল। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন তেওতিয়া ও সুন্দর। এই জয়ের ফলে লখনউয়কে টপকে পাঁচ নম্বরে উঠে এল গুজরাত।

LSG Gujarat Titans Shubman Gill Jos Buttler Prasidh Krishna
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy