আমেরিকা বনাম অস্ট্রেলিয়ার ফুটবল ম্যাচ মানেই নাটকীয় ব্যাপার। গত বছর দুই দলের প্রদর্শনী ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। প্রদর্শনী ম্যাচ হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলীয় ফুটবলারদের শারীরিক ফুটবল বিরক্ত করেছিল আমেরিকানদের। কিন্তু বিশ্বকাপের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে একপেশে ভাবে হারিয়ে দিল আমেরিকা। ২-০ ব্যবধানে জিতে নকআউট কার্যত নিশ্চিত করে ফেলল আয়োজক দেশ। খুঁজেই পাওয়া গেল না আগের ম্যাচের অস্ট্রেলিয়াকে।
প্যারাগুয়েকে চার গোল দিয়ে খেলতে নেমেছিল আমেরিকা। অন্য দিকে অস্ট্রেলিয়া খেলতে এসেছিল তুরস্কের আগ্রাসী ফুটবল সামলে ২-০ জিতে। কিন্তু তুরস্ক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া যে ফুটবলটা খেলেছিল তার ছিটেফোঁটাও পাওয়া গেল না আমেরিকা ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়ার খেলার মধ্যে সেই ঝাঁজই দেখা যায়নি। প্রথমার্ধে আমেরিকার আক্রমণের সামনে তারা কার্যত আত্মসমর্পণ করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় একটু উন্নতি হলেও তা কখনওই ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
প্রশংসা করতেই হবে আমেরিকার। যতই লিয়োনেল মেসি সে দেশের ঘরোয়া লিগে খেলুন, ফুটবলবিশ্বে তারা এখনও সেই গরিমা অর্জন করতে পারেনি। তবে আমেরিকাকে নিয়ে আর বোধহয় সে কথা বলা যাবে না। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ বুঝিয়ে দিল, আমেরিকার ফুটবল অনেক এগিয়েছে। প্রথমার্ধে তারা যে আগ্রাসী ফুটবল খেলেছে তা প্রশংসাযোগ্য।
শুরু থেকেই আমেরিকার আক্রমণ বুঝিয়ে দেয়, তারা এই ম্যাচে ছেড়ে কথা বলবে না। অস্ট্রেলিয়ার অর্ধে দাপট দেখাতে থাকে তারা। ১১ মিনিটের আসে প্রথম গোল। বাঁ দিক থেকে ফোলারিন বালোগুনের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের গোলেই ঢুকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্জেস। সময় যত বাড়তে থাকে, আমেরিকার দাপটও বাড়তে থাকে।
মাঝে খাপছাড়া কিছু আক্রমণ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বলার মতো কিছু ছিল না। আমেরিকার মাঝমাঠে টাইলার অ্যাডামস, সের্জিনো ডেস্ট এবং ওয়েস্টন ম্যাকেনি দাপট দেখাতে থাকেন। বিশেষ করে ম্যাকেনি গোটা ম্যাচটাই নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। বল পাস দেওয়া থেকে শুরু করে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, সবই হচ্ছিল ম্যাকেনির পা থেকে। বালোগুন এবং ডেস্ট চকিতে বক্সে ঢুকে অস্ট্রেলিয়ার বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন:
বিরতির আগে দ্বিতীয় গোল করে আমেরিকা। কর্নার থেকে ডেস্টের শট প্রতিহত হয়। সেই বল হেডে জালে জড়ান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। প্রথমে লাইন্সম্যান গোলটি অফসাইডের জন্য বাতিল করেন। পরে ভার সেই সিদ্ধান্ত বদল করে।
দ্বিতীয়ার্ধে অস্ট্রেলিয়ার খেলায় বদল আসে। গুটিয়ে না থেকে তারা আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু খেলায় সেই ঝাঁজ, সেই মানসিকতা ছিল না যা থেকে গোল আসতে পারে। সেই দাপট বেশি ক্ষণ বজায়ও রাখতে পারেনি তারা। এক সময় আমেরিকা আবার খেলা ধরে নেয়। দ্বিতীয়ার্ধেও গোল করার কাছাকাছি চলে এসেছিল তারা। যদিও তা হয়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ১১ জুন থেকে শুরু হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপ। চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এ বারই প্রথম ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে ফিফা।
- ফুটবল বিশ্বকাপ হচ্ছে তিনটি দেশে। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে ফিফা।
- বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হয়েছে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ।
-
১৭:৩৩
বিশ্বকাপ সম্প্রচারকারীদের ডজ! ৭৯৯ টাকার প্যাকেজ কিনিয়েও এক কাপ চায়ের খরচে ঝকঝকে খেলা দেখার সুযোগ ক্রীড়াপ্রেমীদের -
১৫:০৮
বিশ্বকাপের মাঝেই অবসর ঘোষণা! আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ নিতে পারছেন না নয়ার, আর জার্মানির হয়ে খেলতে চান না গোলরক্ষক -
১৩:২৮
৪৮ দলের প্রথম ম্যাচে ৯ ছক, মেসি-রোনাল্ডোরা কী ভাবে খেলছেন? বিশ্বকাপে রয়েছে কলকাতার ছোটদলগুলির প্রিয় ছকও! -
০৮:৪০
ছয় গোল, হ্যাটট্রিক, দুই লাল কার্ড, পা ভাঙল কানাডার মিডফিল্ডারের! নাটকীয় ম্যাচে কাতারের হার, দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকো, জয় সুইৎজ়ারল্যান্ডের -
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রস্তুতি শিবিরের কাছে সন্দেহজনক ড্রোন! গুলি করে নামাল মেক্সিকো সেনা, বিশ্বকাপে নতুন উদ্বেগ