যত কাণ্ড উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। মঙ্গলবার রাতে ‘মাঙ্কিগেট’ বিতর্কে প্লে-অফে বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ প্রথম পর্বের ম্যাচ বন্ধ থাকল প্রায় ১০ মিনিট। লাল কার্ড দেখলেন জোসে মোরিনহো।
তিন সপ্তাহের মধ্যে বেনফিকাকে ১-০ হারিয়ে রিয়ালের ‘মধুর’ প্রতিশোধ নেওয়ার রাতেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়ার অভিযোগ ভিনিশিয়াস জুনিয়রের। ব্রাজিল তারকার দাবি, বেনফিকার আর্জেন্টিনীয় উইঙ্গার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তাঁকে ‘বাঁদর’ বলেছেন।
গ্রুপ পর্বে বেনফিকার বিরুদ্ধে ২-৪ হারের জন্যই সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর বদলে প্লে-অফ খেলতে হচ্ছে রিয়ালকে। মঙ্গলবার রাতে প্রথম পর্বের দ্বৈরথের আগে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার প্রধান বিষয়ই ছিল, ভিনিশিয়াস-রা কি পারবেন জোসে মোরিনহোর বেনফিকাকে হারিয়ে বদলা নিতে? রিয়াল জিতল। গোলও করলেন ব্রাজিল তারকা। কিন্তু সব ছাপিয়ে শিরোনামে ভিনিশিয়াসের বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ।
বেনফিকার ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল এমবাপেদের। প্রথমার্ধে দু’বার সুযোগ পেয়েও এগিয়ে যেতে পারেনি রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এমবাপের পাস থেকে ভিনিশিয়াস গোল করেন। বিতর্কের সূত্রপাত এর পরেই। গোল উদ্যাপন করতে এমবাপের সঙ্গে কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে চলে যান ব্রাজিল তারকা। বেনফিকার সমর্থকদের উদ্দেশে করা তাঁর উৎসবের ভঙ্গিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আবহ। ভিনিশিয়াসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের। উৎসব শেষ করে কামাভিঙ্গার সঙ্গে যখন হাঁটছিলেন রিয়াল তারকা, তখন দেখা যায় প্রেস্তিয়ান্নি জার্সিতে মুখ ঢেকে কিছু বলছেন ভিনিশিয়াসের উদ্দেশে। সঙ্গে সঙ্গে রেফারির দিকে ছুটে যান তিনি। অভিযোগ করেন, প্রেস্তিয়ান্নি তাঁকে স্পেনীয় ভাষায় ‘মোনো’ বলেছেন। বাংলায় যার অর্থ বাঁদর। সঙ্গে সঙ্গেই বর্ণবিদ্বেষী আচরণের অভিযোগ জানানোর সঙ্কেত দিয়ে খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ থাকে ম্যাচ। রিজ়ার্ভ বেঞ্চের সামনে গিয়ে ভিনিশিয়াস কথা বলেন রিয়াল ম্যানেজার আলভারো আরবেলোয়া ও সতীর্থদের সঙ্গে। মোরিনহোকেও দেখা যায় ব্রাজিল তারকার সঙ্গে কথা বলতে। আরবেলোয়া ম্যাচ শেষ পরে বলেছেন, ‘‘ভিনিশিয়াস চাইলে আমাদের দল মাঠ ছাড়তেও প্রস্তুত ছিল। আলোচনার পরে সকলে খেলার পক্ষেই মত দিয়েছিল।’’
ক্ষুব্ধ ভিনিশিয়াস ম্যাচের পরে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘‘বর্ণবিদ্বেষীরা কাপুরুষ। তারা নিজেদের দুর্বলতা আড়াল করতেই জার্সিতে মুখ ঢেকে কথা বলে।’’ প্রায় চার ঘণ্টা পর প্রেস্তিয়ান্নি অভিযোগ অস্বীকার করে ইনস্টাগ্রামে বলেছেন, ‘‘আমি স্পষ্ট করতে চাই, ভিনিশিয়াস জুনিয়রের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করিনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ও ভুল বুঝেছে। আমি কখনওই বর্ণবিদ্বেষী নই।’’
অশান্তির জন্য মোরিনহো দায়ী করছেন ভিনিসিয়াসকেই। রিয়ালের পেনাল্টি বক্সে বেনফিকার রিউসকে ফেলে দেন ভিনিশিয়াস। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন মরিনহো। তার পরেও শান্ত হননি তিনি। শেষ পর্যন্ত রেফারি তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বার করে দেন। ম্যাচের পরে ‘দ্য স্পেশ্যাল ওয়ান’ বলেছেন, ‘‘আমি ভিনিকে বলছিলাম, দারুণ গোলের পরেও এই ধরনের উৎসব কেন? পেলে, ইউসেবিয়ো বা আলফ্রেদ দি স্তেফানোর মতো ভদ্রভাবেও গোল উদ্যাপন করতে পারত। যেখানেই ভিনি খেলতে যায়, ওর সঙ্গে এ ধরনের কিছু ঘটে। এটাও ভাবার বিষয়, ওর সঙ্গেই বারবার কেন এ রকম হয়। নিশ্চয়ই ভিনির কোনও সমস্যা রয়েছে।’’
প্রত্যাশা মতোই রিয়াল ম্যানেজার ভিনিশিয়াসের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে আরবেলোয়া বলেছেন, ‘‘বর্ণবিদ্বেষের ব্যাপারে শূন্য সহনশীলতা দেখাতে হবে। রেফারি আমাকে বলেছেন, তিনি নাকি কিছু শোনেননি। তাই এই পরিস্থিতিতে কিছু করতে পারছেন না।’’ এ দিকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মোনাকোকে ৩-২ হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় যোগ্যতা অর্জনের আশা বাঁচিয়ে রাখল গত বারের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সঁ জরমঁ। তবে গালাতাসারের বিরুদ্ধে ২-৫ হারল জুভেন্টাস। আটলান্টাকে ২-০ হারাল
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)