Advertisement
E-Paper

ঠিক না ভুল, উত্তর পাওয়া যাবে মার্চেই

বিশ্বকাপের সম্ভাব্য তিরিশ জনের তালিকা দেখে আমি একেবারেই অবাক নই। যুবরাজ, সহবাগ, জাহির, হরভজন আর গৌতম গম্ভীরকে সম্ভাব্যদের দলে রাখেননি নির্বাচকেরা। সত্যি বলতে কী, তালিকায় ওদের নামগুলো দেখব, এটা আমি আশাও করিনি। যে পাঁচটা নাম বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে গৌতম গম্ভীরই একমাত্র ক্রিকেটার যে হালফিল ভারতীয় দলে খেলেছে। ইংল্যান্ড সফরের টিমে ছিল ও।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৩:৪১
মুম্বইয়ে টিম নির্বাচনের পথে তিন নির্বাচক। সন্দীপ পাটিল, সাবা করিম ও রজার বিনি। ছবি: পিটিআই

মুম্বইয়ে টিম নির্বাচনের পথে তিন নির্বাচক। সন্দীপ পাটিল, সাবা করিম ও রজার বিনি। ছবি: পিটিআই

বিশ্বকাপের সম্ভাব্য তিরিশ জনের তালিকা দেখে আমি একেবারেই অবাক নই। যুবরাজ, সহবাগ, জাহির, হরভজন আর গৌতম গম্ভীরকে সম্ভাব্যদের দলে রাখেননি নির্বাচকেরা। সত্যি বলতে কী, তালিকায় ওদের নামগুলো দেখব, এটা আমি আশাও করিনি।

যে পাঁচটা নাম বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তার মধ্যে গৌতম গম্ভীরই একমাত্র ক্রিকেটার যে হালফিল ভারতীয় দলে খেলেছে। ইংল্যান্ড সফরের টিমে ছিল ও। কিন্তু টেস্ট সিরিজে একেবারেই ভাল খেলতে না পারায় নিজের প্রত্যাবর্তনের রাস্তাটা গম্ভীর নিজের হাতেই কঠিন করে তুলেছিল। ওর জায়গায় শিখর ধবন, অজিঙ্ক রাহানে আর চোট সারিয়ে ফেরার পর রোহিত শর্মাকে সুযোগ দিয়ে দেখা হয়। তিন জনেই কিন্তু সেই সুযোগগুলো দারুণ ভাবে সদ্ব্যবহার করে ওপেনিং স্লটে নিজেদের পায়ের তলার জমি শক্ত করে নিয়েছে। তাই বলছিলাম, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিচার করলে গম্ভীর আর ওর সঙ্গে সহবাগ, দুই ওপেনারের জন্যই কিন্তু বিশ্বকাপের তিরিশ জনে ঢুকে পড়ার কোনও সুযোগ ছিল না।

সহবাগ ভারতের জার্সি গায়ে শেষ নেমেছিল সেই ২০১২-য়। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। এত দিন পরে আচমকা ওকে আবার ফেরানো হবে, তা-ও বিশ্বকাপে, এমন আশা করাই ভুল। আর যে-ই সেটা ভেবে থাকুন, আমি ভাবিনি। বিশেষ করে যেখানে ঘরোয়া ক্রিকেটেও ইদানীং বীরু ব্যর্থ। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার যোগ্য জবাব ও ঘরোয়া ক্রিকেটে পরপর আগুনে পারফরম্যান্স করে দিয়েছে, এমন একেবারেই বলা যাচ্ছে না। অথচ টিমে ফেরার জন্য সেটা করে দেখানো খুব জরুরি ছিল। আমি অবশ্য মোটেই বলছি না যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বীরুর নতুন করে কিছু প্রমাণ করার আছে। বরং আমি মনে করি বীরু বিশ্বের সর্বকালের সেরা ওপেনারদের অন্যতম। মিস্টার গাওস্করের সঙ্গে যার জায়গা একেবারে প্রথম সারিতে। কিন্তু এটাও মানতে হবে যে, তুমি যখন জাতীয় দলের বাইরে, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতিটা সেঞ্চুরি ভীষণ মূল্যবান। কারণ তাতে নির্বাচকদের কাছে এই বার্তাটা বারবার পৌঁছে দেওয়া যায় যে দেখো, আমি কিন্তু ফুরিয়ে যাইনি। এখনও সব শেষ নয়।

বীরু ফুরিয়ে গিয়েছে, এটা অবশ্য আমি এখনও বিশ্বাস করি না। তবে ওর কেরিয়ার উতরাইয়ের পথে। এটাই ঠিক, ওকে যখন বাদ দেওয়া হল, সেই সময় ওর ব্যাটিংয়ে সেই পাঞ্চটা ছিল না, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভারতের হয়ে এতগুলো বছর খেলার পর ওর কাছে প্রত্যাশিত ছিল। তবে বীরু একা নয়। সব বড় চ্যাম্পিয়নকেই জীবনের একটা পর্যায়ে এসে এই বিশাল চ্যালেঞ্জটার মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়। তবে আমি মনে করি বীরুর মতো মহান ব্যাটসম্যান, দেশের হয়ে যার এত সাফল্য, কেরিয়ারের এই কঠিন মোড়ে পৌঁছে তার আরও অনেক বেশি সাহায্য প্রাপ্য ছিল।

হরভজন আর জাহিরের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা খুব বেশি আলাদা নয়। ওরাও বহু দিন দলের বাইরে। যার সুযোগ নিয়ে নতুনরা উঠে এসেছে এবং পারফরম্যান্সের জোরে দলে জায়গা করে নিয়ে ওদের ফেরার রাস্তাটা কঠিন করে দিয়েছে। আর একটা ব্যাপার হল, বয়সের দিক থেকে মধ্য তিরিশে পৌঁছে যাওয়া এই সব তারকাদের তিরিশ জনে রাখলে, পরে গিয়ে পনেরো জনের চূড়ান্ত দল থেকে ছেঁটে ফেলাটা ঠিক হয় না। আমার মনে হয় হরভজন আমার সঙ্গে একমত হবে যে, আর একটা সুযোগ পেলে ও আবার সর্বোচ্চ পর্যায়ে দারুণ পারফর্ম করে দেখিয়ে দিত। কিন্তু সমস্যা হল, ইদানীং ওর জায়গায় টিমে যাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তারাও পারফর্ম করেছে। ফলে কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তিতে তাদের বাদ দেওয়া যেত না।

জাহিরের ব্যাপারটা অবশ্য আলাদা। ওর বয়স বাড়ছে। আর এই বয়সে একজন পেসার যত বেশি দলের বাইরে থাকে, তার পক্ষে সর্বোচ্চ ফিটনেসে ফেরাটা ততই কঠিন হয়ে যায়। তায় জাহির ঘরোয়া ক্রিকেট প্রায় খেলেইনি। ফলে ওর জন্য ফেরার রাস্তাটা আরও কঠিন।

পাঁচ জনের মধ্যে যুবরাজই একমাত্র প্লেয়ার যে ভারতের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটটা ক’দিন আগেও খেলেছে। এ বছরের মার্চেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছে। মানছি, টুর্নামেন্টটায় ও সে ভাবে পারফর্ম করতে পারেনি। কিন্তু ২০০৩, ২০০৭-এর টি-টোয়েন্টি এবং ২০১১— তিন-তিনটে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে যে ছেলেটার সর্বোচ্চ অবদান, অবিশ্বাস্য সব পারফরম্যান্স, তাকে মাত্র একটা ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার জন্য যে ভাবে ক্রুশবিদ্ধ করা হল, সেটা অন্যায়।

তবে যুবির ক্ষেত্রেও যেটা হয়েছে, ওর বদলে দলে আসা সুরেশ রায়নার মতো প্লেয়াররা নিজেদের পারফরম্যান্সকে আরও এক ধাপ উপরে নিয়ে গিয়ে দলে নিজেদের দাবি মজবুত করে ফেলেছে। ফলে যুবির জন্য আর কোনও স্লট নেই।

বিশ্বকাপের আগে এখন হাতে রয়েছে আর মাত্র একটাই ওয়ান ডে টুর্নামেন্ট। অস্ট্রেলিয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজ। ইংল্যান্ডে এক দিনের সিরিজের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও ভারত দারুণ সফল হওয়ায় বিশ্বকাপের আগের এই টুর্নামেন্টে ফর্মে থাকা প্লেয়ারদেরই আগে সুযোগ দিয়েছেন নির্বাচকেরা। বিশ্বকাপের একদম মুখে, টিমে রদবদল করাটাও ঠিক হত না। তাই সিনিয়রদের জন্য দরজাটা বন্ধই হয়ে গেল।

এখন প্রশ্ন হল, বীরু, যুবি, গৌতম, হরভজন আর জাহিরের তা হলে ভবিষ্যত্‌ কী? প্রত্যেকেই মধ্য তিরিশে। আর সাধারণত একটা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর টিমের সাফল্য বা ব্যর্থতা অনুযায়ী নির্বাচকেরা সামনের দিকে তাকাতেই পছন্দ করেন। আমি নিজে অবশ্য বিশ্বাস করি যে, খেলায় তুমি বুট জোড়া যতক্ষণ না পাকাপাকি তুলে রাখছ ততক্ষণ কিছুই শেষ হয়ে যায় না। তবু বলতে বাধ্য হচ্ছি, এর পরে জাতীয় দলে ফেরা, বিশেষ করে এক দিনের দলে ফেরার রাস্তাটা ওদের জন্য অবিশ্বাস্য কঠিন হয়ে গেল।

এর পরেও কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় যে, অভিজ্ঞতার বদলে তারুণ্যকে বেছে নিয়ে নির্বাচকেরা কি ঠিক করলেন? ইদানীং ঘরের মাঠে ওয়ান ডে-তে অসাধারণ খেলেছে ভারত। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো সেরা ওয়ান ডে ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতেও দল শ্রীলঙ্কাকে ৫-০ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে ক’মাস আগের ইংল্যান্ড সফরটা বাদ দিলে, বিদেশের মাঠে ওয়ান ডে-তে আমরা কিন্তু তেমন দাপট দেখাতে পারিনি।

ক্রিকেটে একটা কথার খুব চল। সীমিত ওভারের ম্যাচে জুয়া খেলতে হলে তারুণ্য বাজি ধরো। কিন্তু এ বার বিশ্বকাপটা অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার পরিবেশ আর পিচের কথা মাথায় রেখে এই জুয়া ঠিক হল না ভুল, উত্তরটা একমাত্র মার্চেই পাওয়া যাবে!

বিশ্বকাপের প্রাথমিক ৩০

শিখর ধবন, রোহিত শর্মা, মুরলী বিজয়, অজিঙ্ক রাহানে, রবিন উথাপ্পা, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না, অম্বাতি রায়ডু, কেদার যাদব, মনোজ তিওয়ারি, মণীশ পাণ্ডে, মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, ঋদ্ধিমান সাহা, সঞ্জু স্যামসন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, পারভেজ রসুল, কর্ণ শর্মা, অমিত মিশ্র, রবীন্দ্র জাডেজা, অক্ষর পটেল, ইশান্ত শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার, মহম্মদ শামি, উমেশ যাদব, বরুণ অ্যারন, ধবল কুলকার্নি, স্টুয়ার্ট বিনি, মোহিত শর্মা, অশোক দিন্দা, কুলদীপ যাদব।

indian team 30 probables world cup 2015 cricket sourav icc world cup sports news online sports news Sourav Ganguly speak world cup upcoming world cup team India senior staffs BCCI
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy