Advertisement
E-Paper

ফরাক্কার পরে চাকুলিয়া! বিডিও অফিসে এসআইআর নিয়ে ভাঙচুর, জখম হলেন আইসি, থানায় হল এফআইআর

ফরাক্কার ঘটনার পরে ডিইও তথা জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)। নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনও শুনানিকেন্দ্র বদল করা হবে না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৭
চাকুলিয়ায় এসআইআর নিয়ে বিক্ষোভ।

চাকুলিয়ায় এসআইআর নিয়ে বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত।

মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার পরে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়া। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে আগুন ধরানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কয়েক জন। এসআইআরের শুনানির জন্য যাঁদের ডাকা হয়েছে, মূলত তাঁরা এ সব করেছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিডিও অফিসে ভাঙচুরের সময়ে উপস্থিত এক আইসি জখম হয়েছেন। এই ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। চাকুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিডিও।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে চাকুলিয়ার কাহাটা এলাকায় রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন কয়েক জন। যাঁরা এসআইআরের শুনানিতে ডাক পেয়েছেন, মূলত তাঁরাই ছিলেন বিক্ষোভকারীদের দলে। তার জেরে ব্যাহত হয় যান চলাচল। তীব্র যানজট হয়। তার মধ্যেই বিডিও-র দফতরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। চাকুলিয়া থানায় বিডিও-র করা অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিডিও দফতরে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন প্রায় ৩০০ জন। পুলিশ এসে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু লাভ হয়নি। অভিযোগ, দফতরের ভিতরে ঢুকে বৈদ্যুতিন যন্ত্র থেকে চেয়ার-টেবিল সব ভেঙে ফেলে। নথি নষ্ট করে।

বিডিও জানিয়েছেন, চাকুলিয়ায় তাঁর দফতরে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র নষ্ট করা হয়েছে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করলে তাদের উপরও হামলা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন চাকুলিয়া থানার আইসি। দফতরের কয়েক জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পিটিআই-কে এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ইসলামপুর পুলিশ জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্য দিকে, ফারাক্কা ঘটনার পরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) কড়া নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক তথা ডিইও-দের। হোয়াট্স‌‌অ্যাপের মাধ্যমে ডিইও-দের নির্দেশে বলা হয়েছে, কোনও শুনানিকেন্দ্র বদল করা হবে না। পাশাপাশি, ডিইও-দের তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘আনম্যাপড’ এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ মামলাগুলির নিষ্পত্তিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নিতে হবে ডিইও-দেরই। ইআরও এবং এইআরও-রা ‘অন্যান্য’ বিষয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে কোনও ভাবেই কমিশনের নির্দিষ্ট করা শুনানিকেন্দ্র স্থানান্তর করার বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। তা হলে বিষয়টি গুরুতর ভাবে দেখবে কমিশন।

বুধবার ফরাক্কায় বিডিও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় শুনানি। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দায়ের হয় এফআইআর। ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন দু’জন।

ঘটনার সূত্রপাত, বিএলও-দের বিক্ষোভ ঘিরে। তাঁদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে নথি নিয়ে বার বার হয়রানি করা হচ্ছে। এই ‘মানসিক চাপে’ ইআরও-র কাছে গণ ইস্তফাপত্র জমা দিতে গিয়েছিলেন কয়েক জন বিএলও। পরিস্থিতি জটিল হয় যখন বিধায়ক মনিরুলের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী ‘এসআইআর মানছি না, মানব না’ স্লোগান দিতে দিতে বিডিও অফিসে চড়াও হন। বিধায়কের দাবি, বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষের নথিপত্র নিয়ে দ্বিচারিতা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে তিনি রাস্তায় নেমেছেন।

Election Commission
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy