Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৩ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

কেকেআর সমাধিতে রাসেল-হাহাকারই এখন প্রেতধ্বনি

বুধবার মধ্যরাত থেকে কেকেআর ট্র্যাভেল টিমের কাজকর্ম আচমকা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত টিম এলিমিনেটর খেলতে-টেলতে গেলে ওপেন টিকিট রেখে দেওয়াই অলি

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়
নয়াদিল্লি ২৭ মে ২০১৬ ০৪:১২
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

বুধবার মধ্যরাত থেকে কেকেআর ট্র্যাভেল টিমের কাজকর্ম আচমকা অনেক বেড়ে গিয়েছে। সাধারণত টিম এলিমিনেটর খেলতে-টেলতে গেলে ওপেন টিকিট রেখে দেওয়াই অলিখিত নিয়ম। কিন্তু যতই এলিমিনেটর হোক, এ সব যে এত দ্রুত ঘাড়ে চেপে বসতে পারে তা কেকেআর সংসারে অনেকেই আগাম ভাবতে পারেননি।

জাক কালিসকে দক্ষিণ আফ্রিকাগামী ফ্লাইটে তুলতে হবে। সকালে।

সাইমন কাটিচ দশটা-সাড়ে দশটার মধ্যে এয়ারপোর্টে ঢুকে যাবেন।

Advertisement

টিমের ভারতীয় ক্রিকেটারকুল— তাঁরাও বসে থাকবেন না। কারও সকালের চাই, কেউ বড়জোর দুপুর পর্যন্ত আছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কেকেআর টিম হোটেলে গিয়ে শোনা গেল, সর্বাগ্রে হোটেল ছেড়ে যিনি চলে গিয়েছেন তিনি অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর। গত কাল মাঠ থেকে ফিরে বাড়ির দিকে রওনা হয়ে যান গম্ভীর। কেকেআর টিমের একজন আক্ষেপ করছিলেন, কোথা থেকে কী হয়ে গেল। টিম কী ভেবেছিল, আর আজ কী দেখতে হচ্ছে। কেকেআর ব্যাটিং লাইনআপ যে ১৬৩-ও তুলতে পারবে না, কালান্তক রাত পেরিয়ে এসেও নাকি বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

আসলে কিছুটা হলেও টিমে সার্বিক একটা ধারণা ছিল যে, আর যে-ই হোক সানরাইজার্স হায়দরাবাদ পারবে না কেকেআরকে হারাতে। যে টিম টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে নাইট-অসিতে দু’বারে দু’বারই রক্তাক্ত হয়েছে, তারা এলিমিনেটরের মহাচাপ সামলাবে কী করে? বাস্তব তাই মর্মান্তিক, যন্ত্রণা তাই চরম অসহ্য।

সবচেয়ে মূহ্যমান নাকি স্বয়ং কেকেআর অধিনায়ক। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলে রাতের খাওয়া আগে বন্ধ করে পড়ে থাকতে শোনা গিয়েছে নাইট অধিনায়ককে। বুধবার অতটা হয়নি। বাড়ি ফিরেছেন। ফিরে খাবার-টাবার মুখেও দিয়েছেন কিছুটা। কিন্তু নিজেকে হতাশার কৃষ্ণগহ্বর থেকে এখনও নাকি বার করতে পারছেন না। নিজের উপর অসম্ভব ক্ষিপ্ত। সেট হয়েও অহেতুক আউট হয়ে আসার জন্য। টিম নিয়েও হতাশবিদ্ধ। কারণ তিনি মনে করেন, কোটলা উইকেট যা-ই হোক, ১৬০ তাড়া করে জেতা ওখানে অসম্ভব নয়। ঘনিষ্ঠমহলে কেকেআর অধিনায়ক নাকি বলেও ফেলেছেন যে, কলিন মানরোকে নামিয়েছিলেন হায়দরাবাদ বোলারদের ছিন্নভিন্ন করে দিতে। মণীশ পাণ্ডেকে পরে রেখেছিলেন যাতে পরের দিকে রানের গতিটা ঠিকঠাক রাখা যায়। দু’টোর একটাও হল না।

টিমের সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ বললেন, কেকেআরের ছিটকে যাওয়ার পিছনে আসল কারণ মোটেও এঁরা দু’জন নয়। যিনি, তাঁকে কোটলা মাঠ বুধবার নামতেই দেখেনি। আন্দ্রে রাসেল বুধবারের টিমলিস্টে কোথাও ছিলেন না। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিই এখন কেকেআর-বিদায়ের এক নম্বর কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বলা হল, রাসেল একজন নন। আদতে ছিলেন দু’জন। এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাসেলকে না পাওয়া মানে চারটে অসাধারণ ওভার চলে যাওয়া। একই সঙ্গে টিমের লোয়ার অর্ডারকে পঙ্গু করে দেওয়া। বলা হল, এত ভাল অলরাউন্ডার আর কোন টিমে ছিল? ছিল না, নেই। এবং কেকেআরের মতো চরম আঘাতও তাই কাউকে সহ্য করতে হয়নি।

কিন্তু তার সঙ্গে মানরোকে কেকেআর অধিনায়কের তুলে আনার মানে কী? বা এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজাগোপাল সতীশকে খেলিয়ে দেওয়া? কিংবা সাকিব-আল-হাসানের ব্যাটকে উপেক্ষা করে রাখা?

কোনও কোনও কেকেআর কর্তা বললেন, গম্ভীরকে এতটাও কাঠগড়ায় তোলা অর্থহীন। মনে রাখতে হবে, সাকিব অন্যান্য বার টিমকে ব্যাটে যা সার্ভিস দেন, তার সিকিভাগও এ বার দিতে পারেননি। রবিন উথাপ্পা গত চার-পাঁচটা ম্যাচে কোনও রানই পাননি। মনে রাখতে হবে, রাসেল না থাকায় বারবার কম্বিনেশন ভাঙতে হয়েছে গম্ভীরকে। হোল্ডার দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছে, হয়নি। হোল্ডার প্লাস সতীশ দিয়ে ক্যারিবিয়ানের ব্যাটিং ম্যানেজ করার চেষ্টা হয়েছে। সেটাও হয়নি। এটাও মনে করিয়ে দেওয়া হল, শুধু রাসেল নন। দু’ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া অস্ট্রেলীয় পেসার জন হেস্টিংসকে কেউ ধরছে না। টি-টোয়েন্টিতে তিনি মর্নি মর্কেলের চেয়ে অনেক ভাল হতেন। গম্ভীর করতেনও বা কী? এবং টিমের একাংশ এটাও বলল যে, যতই কেকেআর অধিনায়কের নেতৃত্ব নিয়ে, স্ট্র্যাটেজি নিয়ে ধুন্ধুমার চলুক, তাঁকে সরানো এই মুহূর্তে কঠিন। পূর্ণ নিলামের আগে গম্ভীরের বদলে আনবে কাকে টিম? দেশে এখন বিকল্প কোথায়?

শেষ পর্যন্ত কী হবে, যমুনার জল কোথায় গড়াবে, কেকেআর অধিনায়ক আর গম্ভীর থাকবেন কি না, সময় বলবে। শুধু একটা ব্যাপার লেখার জন্য সময়ের অপেক্ষায় থাকার বোধহয় প্রয়োজন নেই। বৃহস্পতিবার ধৌলাকুঁয়ার কেকেআর টিম হোটেল মোটেও আদতে কেকেআর টিম হোটেল ছিল না। ছিল আসলে কেকেআর নামক একটা টিমের সমাধিস্থল, যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগে টিমের ট্রফি-স্বপ্নকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে।

যে সমাধিতে আক্ষেপ এখন প্রেতধ্বনি, হাহাকার এখন পড়ে থাকা শুকনো ফুল।

ছবি উৎপল সরকার



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement