Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০১ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

বিশ্বজয়ী মহানায়কের যন্ত্রণা

দেশের জার্সিতে নামার আশা ছেড়েই দিয়েছেন যুবরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদন
৩০ অক্টোবর ২০১৪ ০২:৫৪

যুবরাজ সিংহের মনে হচ্ছে, ভারতের জার্সিতে শেষ ম্যাচটা বোধহয় খেলে ফেলেছেন।

যুবরাজ সিংহের মনে হচ্ছে, তাঁর সেরা ক্রিকেটটা তাঁর মধ্যে থেকে হয়তো হারিয়ে গিয়েছে।

যুবরাজ সিংহের মনে হচ্ছে, তিরিশ পেরিয়ে যাওয়ায় শরীর আর আগের মতো ফিট নেই।

Advertisement

যুবরাজ সিংহের মনে হচ্ছে, দুটোর জায়গায় একটা ফুসফুস নিয়ে খেলার চ্যালেঞ্জ হয়তো আর চালিয়ে যেতে পারবেন না।

যুবরাজ সিংহের মনে হচ্ছে, নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগও আর বেশি পড়ে নেই তাঁর হাতে।

২০১১ ক্রিকেট-বিশ্বযুদ্ধের নায়ক ছিলেন তিনি। তিন মাস পরে শুরু বিশ্বকাপে সেই যুবরাজ সিংহই ঘোর অনিশ্চিত!

“আমি আর কোনও দিন ভারতের হয়ে খেলব না, সেটা তো হতেই পারে। সেটা আমার ভাবনায় আছেও। কিন্তু এমনও তো হতে পারে, আবার জাতীয় দলে খেলতে পারব। যত দিন আত্মবিশ্বাস আছে, তত দিন নিজেকে ঠেলে নিয়ে যাব,” একটি সাক্ষাত্‌কারে বলেছেন যুবরাজ। ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্য সিরিজ ছিলেন তিনি। তার পর ক্যানসারকে হারিয়ে স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন, কিন্তু স্বপ্নের ফর্ম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ’১৩ ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভাল খেলতে পারেননি, এবং তার পর থেকেই ওয়ান ডে টিমের বাইরে। আইপিএল সেভেনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে কয়েকটা ভাল পারফরম্যান্স জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

হয়তো তাই নিজের ভবিষ্যত্‌ নিয়ে বেশ বাস্তববাদী ৩২ বছরের বাঁ-হাতি। “জাতীয় দলে না খেলাটা সব সময়ই হতাশার। কিন্তু এটা তো মানতেই হবে যে, গত দু’বছর আমি ধারাবাহিকতা দেখাতে পারিনি। দলে আমার জায়গা হবে কি না, সেটা তাই আমার হাতে নেই।” তবে এখনও পুরোপুরি আশা ছাড়েননি যুবরাজ। বলছেন, “এখনও আশা করি, সব কিছু পাল্টে যাবে। আমি আবার টিমে ডাক পাব। না হলে জীবনটা সত্যিই প্রচণ্ড অবসাদে ভরে যাবে! তবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা ছাড়া আর কী করব?”

তা-ও যদি নীল জার্সিটা নাগালের বাইরেই থেকে যায়? যুবরাজ এ বার আরও দার্শনিক, “বললাম তো, আমি যদি দলে ফিরতে পারি, তার চেয়ে ভাল গল্প আর কিছু হতে পারে না। প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে আবার দেশের হয়ে একটা বিশ্বকাপ খেলা দারুণ ব্যাপার। কিন্তু যদি সেটা না হয়, তা হলেও তো জীবন নিজের গতিতে চলতে থাকবে। হ্যাঁ, ব্যাপারটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন হবে। কিন্তু মেনে তো নিতেই হবে।”

শেষ পর্যন্ত হয়তো মেনে নিতেই হবে। একটা কাপ ফাইনালে উল্টো দিকের ক্রিজ থেকে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন, ট্রফিটা তাঁদের হাতে উঠছে। কে জানে, পরের কাপ-যুদ্ধটা বাইশ গজের বাইরে থেকেই দেখতে হবে কি না!

আরও পড়ুন

Advertisement