Advertisement
E-Paper

আমরা চোকার্স হলে ইংল্যান্ড বেঁচে যায় কী করে

উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন শন পোলক। শনিবার রাতে হোয়াইট নাইটস নামক বাত্‌সরিক উত্‌সবকে কেন্দ্র করে ডাউনটাউন মেলবোর্নের যে এলাকা অবরুদ্ধ হতে শুরু করেছে তারই হোটেলের তিন তলায় এবিপি-র সঙ্গে একান্তে কথা বললেন...উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন শন পোলক। শনিবার রাতে হোয়াইট নাইটস নামক বাত্‌সরিক উত্‌সবকে কেন্দ্র করে ডাউনটাউন মেলবোর্নের যে এলাকা অবরুদ্ধ হতে শুরু করেছে তারই হোটেলের তিন তলায় এবিপি-র সঙ্গে একান্তে কথা বললেন...

গৌতম ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৩:০০
বাইশ গজের লড়াই আর নেই। ভাষ্যকারের চেয়ারে বসার আগের দিন দু’দেশের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ-পোলক। ছবি: নিখিল দফতরি।

বাইশ গজের লড়াই আর নেই। ভাষ্যকারের চেয়ারে বসার আগের দিন দু’দেশের দুই প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ-পোলক। ছবি: নিখিল দফতরি।

উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন শন পোলক। শনিবার রাতে হোয়াইট নাইটস নামক বাত্‌সরিক উত্‌সবকে কেন্দ্র করে ডাউনটাউন মেলবোর্নের যে এলাকা অবরুদ্ধ হতে শুরু করেছে তারই হোটেলের তিন তলায় এবিপি-র সঙ্গে একান্তে কথা বললেন...

প্রশ্ন: প্রতি বার বিশ্বকাপ এলে কি হ্যান্সি ক্রোনিয়ে বা বব উলমারকে মনে পড়ে না?

পোলক: নাহ এই দক্ষিণ আফ্রিকার মনে পড়ে না। মনে পড়ার কোনও কারণও নেই। হ্যান্সি লাস্ট বিশ্বকাপ খেলেছে সেই ১৯৯৯-এ। ববও তাই! এখনকার ছেলেরা ওদের দেখেইনি। এদের কাছে তাই প্রাসঙ্গিকতা নেই।

প্র: আপনার দেশে বিশ্বকাপের সময় আপনিই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক!

পোলক: হ্যাঁ, নিজের দেশে বিশ্বকাপে আমরা অদ্ভুত ভাবে সুপার সিক্সে উঠতেই পারিনি। খুব খারাপ লেগেছিল সে বার। দেশের লোক এত আশা করে বসে ছিল। আমরা সেটার মর্যাদাই দিতে পারিনি।

প্র: সে বার কেপটাউন এয়ারপোর্টের বাইরে সাউথ আফ্রিকান এয়ারওয়েজ অদ্ভুত একটা বিলবোর্ড লাগিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল— পলি ওদের সবাইকে আমরা এ দেশে নিয়ে আসছি কিন্তু ওদের ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব তোমার। মনে পড়ে?

পোলক: তাই ছিল বুঝি? এত বছর পর মনে নেই। তবে আমরা তো আর ফেরত পাঠাতে পারিনি বাকিদের। নিজেরাই চিত্‌পটাং হয়ে পড়ে গেছিলাম।

প্র: সে বারের স্মৃতিটাই সবচেয়ে অভিশপ্ত?

পোলক: না, সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা ১৯৯৯-এ। সে বার বেস্ট টিম ছিল আমাদের। কী ভাবে যে সেমিফাইনাল ম্যাচটা হেরেছিলাম আজও ভুলতে পারি না!

প্র: শোনা যায় পরের দিন আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার বৈঠকে আলি বাখার বক্তৃতা করেছিলেন, বন্ধুরা জীবন শেষ হয়ে যায়নি। ওই দ্যাখো আজ সকালে প্রতি দিনকার মতোই সূর্য উঠেছে। দিন এগোচ্ছে।

পোলক: হ্যাঁ, কিন্তু ওই শক ভোলাটাও শক্ত।

প্র: বলা হচ্ছে এ বারে আপনাদের টিম সেই নিরানব্বইয়ের সমতুল্য।

পোলক: এ বারে টিমটা খুব ভাল সন্দেহ নেই। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত গিয়ে উঠতে পারে কি না।

প্র: প্রথম ম্যাচে কিন্তু জিম্বাবোয়েকে সামলাতেই আপনাদের ঝটঝট কয়েকটা উইকেট পড়ে গেছিল।

পোলক: ওই ম্যাচকে আমি ধরতে চাই না। অপোনেন্ট বিচারে ওটা কোনও ম্যাচই না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে রোববার থেকে। আমরা এখন তাকিয়ে দেখব টিমটা চাপ নিতে পারে কি না?

প্র: একটু আগে আপনি সৌরভকে মজা করে বলছিলেন, কালকের ম্যাচ যারা হারবে তারাই বিশ্বকাপ জিতবে। কেন?

পোলক: আমি মজা করছিলাম যে কাল যারা হারবে তাদের ওপর চাপ কম থাকবে বাকি টুর্নামেন্টে।

প্র: আপনার স্বদেশীয় ব্যারি রিচার্ডস বলছেন, এ ভাবে যদি ওয়ান ডে ক্রিকেট চলতে দেওয়া হয় তা হলে এক দিন এক ইনিংসে পাঁচশো রান উঠবে। আপনি একমত?

পোলক: নির্ভর করছে কারা খেলছে? কারা বল করছে? সব ক্ষেত্রে এটা সত্যি হচ্ছে কোথায়? কাল সাউদি ধসিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দিল পাকিস্তানকে। কই দু’শোও তো করতে পারেনি।

প্র: কালকে ফেভারিট তা হলে কে?

পোলক: আমার মতে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ থেকে এক নম্বর হওয়াটা জরুরি খুব। কোনও মতেই কোয়ার্টার ফাইনালে নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়া যাবে না। কে বলতে পারে ওরা পাকেচক্রে এ৩ হয়ে গেল না! তখন বি২ হলে তো ওদের সঙ্গে ম্যাচ পড়বে।

প্র: এই যে বছরের পর বছর ধরে প্রতিটা বিশ্বকাপে মিডিয়া আপনার দেশকে চোকার বলে, এটা শুনলে কী মনে হয়?

পোলক: মনে হয় মিডিয়া এখনও সেই চমকদার হেডলাইনটা দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আর বিপক্ষ দলগুলো আমাদের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য সেটা ব্যবহার করে যাচ্ছে সমানে।

প্র: আপনি মনে করেন এটা অন্যায়?

পোলক: অন্যায় তো বটেই। বিশ্বকাপে আমরা চরম দুর্ভাগা। দু’বার আমরা টাই করেও হেরেছি। এক বার রেন রুল তো বিদঘুটে হয়ে দেখা দিল। ১৭ বলে ২২ করতে হবে সেটাই ডাকওয়ার্থ-লুইসে আচমকা হয়ে গেল ১ বলে ২২। এক বার নিয়মটা নিয়ে পুরো বিভ্রান্তি হয়ে গেল আমাদের দেশে। প্রত্যেকটা বিদায় নেওয়ার ধরনই খুব মর্মান্তিক!

প্র: কিন্তু প্রতিটাই তো হেরে শেষ করা। তা থেকেই রটনা বারবার আরও বেড়েছে?

পোলক: তাই বুঝি? কাপ না জেতার জন্য যদি শুধু বাড়ে তা হলে অন্যদের বেলায় ট্যাগটা ব্যবহার করা হচ্ছে না কেন? ইন্ডিয়া তো ১৯৮৩-তে জিতেছিল। তার আঠাশ বছর বাদে আবার কাপ পেল। মাঝে তো তা হলে ওদের নিয়েও ভাবা যেত? ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো ১৯৭৯-এর পর আর জেতেইনি। আর ইংল্যান্ড? তিন বার কাপ ফাইনাল খেলেছে। এক বারও জেতেনি। সাউথ আফ্রিকা চোকার্স হলে ইংল্যান্ড বেঁচে যায় কী করে?

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy