ব্লকাথনের গতিও থেমে গেল! এক নম্বর টেস্ট দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ বা সিরিজ নয়, ক্রিকেটীয় গৌরব পুনরুদ্ধার করল কোহলি বাহিনী। নাগপুর পিচ বিতর্কে যে বোর্ডের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেগেছিল, সোমবার কোটলায় তা ধুয়েমুছে সাফ!
আমলা-ডে’ভিলিয়ার্স-বাভুমা-দু’প্লেসিদের ব্লক-গাথায় ইতি টেনে দিলেন ভারতীয় বোলাররা। আর সেই সঙ্গেই তাঁরা বোঝালেন, ঘূর্ণি পিচের সাহায্যে নয়, কোহলিরা জিতলেন দলগত নৈপুণ্যে। কোটলার স্পোর্টিং পিচে ব্যাটে-বলে প্রোটিয়াদের নাস্তানাবুদ করে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করল টিম কোহলি। পাশাপাশি, ক্যাপ্টেন কুল মাহির ছায়া থেকে বেরিয়ে দেশের মাটিতে শুরু হয়ে গেল কোহলি জমানার।
এ দিন সকাল থেকেই হাসিম আমলা আর এবি ডে’ভিলিয়ার্সের জুটি যে ভাবে শুরু করেছিলেন তাতে কোহলির দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছিল। ২৮৮ বলে ২৫ রানের ম্যারাথন ইনিংস শেষ করে আশার আলো দেখিয়েছিলেন ‘স্যার জাডেজা’। কিন্তু, ডে’ভিলিয়ার্স আর দু’প্লেসির ব্যাটিংয়ে সেই আলো ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে। আসরে নামেন ভারতীয় বোলিংয়ের নয়া পোস্টার বয় অশ্বিন। টুইটারে অজি অ্যাটাকের বিরুদ্ধে পাল্টা দিয়েছিলেন তিনি। মাঠেই তার জবাব দেওয়ার পরামর্শও ভেসে এসেছিল চারপাশ থেকে। সিরিজের শেষ দিনে বল হাতে ফের এক বার সেই জবাব দিলেন তিনি। তবে স্পিনাররা নন, কোটলায় নিজেকে ‘জাহির খান’ করে তুললেন উমেশ যাদব। বরুণ অ্যারনকে নেওয়ার কথা যাঁরা বলেছিলেন তাঁদের যোগ্য জবাব দিলেন পুরনো রিভার্স সুইং করে। মোক্ষম সময়ে দুমিনিকে তুলে নিয়ে। তাঁর সংগ্রহের ৩ উইকেটটা কেবলমাত্র পরিসংখ্যান। যে নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন উমেশ, তা ধরে রাখলে ভবিষ্যতে বিদেশে সিরিজ জয়ে বড় অস্ত্র হতে চলেছেন তিনি।
এই সংক্রান্ত আরও খবর পড়ুন
সিরিজ-সেরা অজিঙ্ক রাহানে হলেও লাইমলাইট কাড়লেন অশ্বিন। ফের ৫ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেন তিনি। এই নিয়ে ১৩টি সিরিজে ৫ বার এমওএম হয়ে সচিন তেন্ডুলকর ও বীরেন্দ্র সহবাগের রেকর্ডের পাশে বসলেন তিনি।
তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছাপিয়ে এ দিনের জয় এগিয়ে নিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়াকে। আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে উপরে তো উঠলই, একই সঙ্গে পিচ নিয়ে ভারতের সততাকেই প্রমাণ করল এ দিনের ৩৩৭ রানের জয়।