দিল্লি ক্যাপিটালসের প্লে-অফে যাওয়া আইপিএলের পক্ষে একটা ভাল খবর। কোনও সন্দেহ নেই, চেন্নাই এবং মুম্বইয়ের সমর্থকদের সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু ওদের পাশাপাশি একটু দিল্লি এবং ব্যাঙ্গালোরের সমর্থকদের কথাও সবাই ভেবে দেখুন। এর আগে দল সে রকম সাফল্য না পেলেও ওরা সব সময় পাশে থেকেছে।
আমি জানি, সেরা দলই শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতবে। কিন্তু এই রকম একটা প্রতিযোগিতায় মাঝে মাঝে যদি একটা নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়া যায়, তবে খারাপ কী।
নতুন নাম এবং নতুন ম্যানেজমেন্ট মনে হচ্ছে দিল্লির থেকে সেরাটা বার করে আনছে। দিল্লির বরাবরের সমস্যা ছিল ঠিক ক্রিকেটারকে ঠিক জায়গায় ব্যবহার করতে না পারা, কার কী ভূমিকা, তা পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিতে না পারা। গত নিলাম থেকে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, দিল্লি নতুন করে ভাবনা-চিন্তা শুরু করেছে।
আইপিএল জিততে গেলে যে ভারতীয় ক্রিকেটারদের বড় অবদান থাকতে হবে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই জায়গায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে দিল্লি। কিন্তু এ বারের ছবিটা অন্য রকম। আইপিএলে অনেক বিদেশি ব্যাটসম্যান রান করতে পারে না ভারতীয় পিচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার জন্য। ভাল ভারতীয় ব্যাটসম্যান বেশি করে দলে রাখাটা খুব কাজে দিয়েছে দিল্লির। আবার বোলিং আক্রমণের ভার তুলে দেওয়া হয়েছে বিদেশি ক্রিকেটারদের হাতে। যে কৌশলটাও খুব কাজে এসেছে।
চেন্নাই নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। আইপিএলের সব চেয়ে সফল দল হওয়ার পিছনে কিছু কারণ তো থাকবেই। একটা খুব চালু কথা আছে। পদ্ধতিটা সহজ রাখলে সাফল্য পাওয়া যায়। কিন্তু এটা বলা যত সহজ, কাজে করা ততটা নয়। চেন্নাই এই কাজটাই ঠিকঠাক করছে। সব কিছু সহজ-সরল রাখছে। ওরা নিজেদের শক্তি অনুযায়ী খেলে। সেই রাস্তায় দু’একটা ধাক্কা লাগলেও ওরা কৌশল বদল করে না।
অন্য দিকে মুম্বই যে কোনও দলের কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ওদের দলটা খুবই শক্তিশালী। তবে মুম্বই প্লে-অফে পৌঁছে গেলেও আমার মনে হয়, ওরা ওদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলতে পারছে না। তবে এটাও ঠিক, রোহিত শর্মার খারাপ ফর্ম সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ম্যাচগুলো জিতে ঠিক প্লে-অফে উঠে গিয়েছে মুম্বই। যেটা বোঝাচ্ছে, ওদের দলের গভীরতা কতটা।
এ রকম একটা লম্বা লিগে ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে তিনটে দল প্লে-অফে উঠে গিয়েছে, তারা নিশ্চিত ভাবে সেরা তিনটে দল। শেষ জায়গাটা নিয়ে এখন লড়াই চলছে। আশা করব, চতুর্থ দল হিসেবে যারাই উঠবে, তারা বাকি তিনটে দলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। (টিসিএম)