Advertisement
E-Paper

বিচারে দেরি হলে জামিন দেওয়াই নিয়ম: উমর খালিদ প্রশ্নে প্রাক্তন বিচারপতি চন্দ্রচূড়, তবে দেখালেন তিনটি ব্যতিক্রমও

দিল্লি হিংসা মামলায় ২০২০ সাল থেকে জেল খাটছেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৯
(বাঁ দিকে) জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হলে জামিন দিয়ে দেওয়াই নিয়ম হওয়া উচিত। উমর খালিদদের কারাবাস প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। তাঁর মতে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কারণ, ভারতের আইন বলে, যত ক্ষণ না দোষ প্রমাণ হচ্ছে, তত ক্ষণ অভিযুক্ত নিরপরাধ (ইনোসেন্ট আনটিল প্রোভেন গিল্‌টি)। তবে জামিনের ক্ষেত্রে তিনটি ব্যতিক্রমও তুলে ধরেছেন চন্দ্রচূড়।

দিল্লি হিংসা মামলায় ২০২০ সাল থেকে জেল খাটছেন জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর এবং শারজিল ইমাম। কিছু দিন আগে এই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু উমর ও শারজিলের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী এক বছর জামিনের জন্য তাঁরা আবেদন জানাতে পারবেন না। জয়পুরের একটি অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রাক্তন প্রধান বিচারপতিকে। চন্দ্রচূড় বলেন, ‘‘আমি এখন একজন নাগরিক হিসাবে বলছি, বিচারপতি হিসাবে নয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগে জামিন সকলের অধিকার। কারণ, আমাদের আইন নির্দোষ অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিচারে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তই নির্দোষ। যদি কেউ পাঁচ-সাত বছর বিচারাধীন বন্দি হিসাবে জেল খাটে আর তার পর নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়, তবে সেই হারানো সময়ের ক্ষতি তো পূরণ করা যাবে না।’’

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনটি ব্যতিক্রমের কথা বলেছেন চন্দ্রচূড়। প্রথমত, ধারাবাহিক ভাবে একই অপরাধ করতে থাকা কোনও ব্যক্তিকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তবে তাকে জামিন না দেওয়ার যুক্তি রয়েছে। সে জামিন পেলে ফের অপরাধ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে খুন বা ধর্ষণের মতো অপরাধের উদাহরণ দিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি। দ্বিতীয়ত, জামিন পাওয়ার পর অভিযুক্ত হাজিরা দিতে অস্বীকার করতে পারেন বা পালিয়ে যেতে পারেন। সেই সম্ভাবনা থাকলে জামিন খারিজ করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, অভিযুক্ত যদি জেল থেকে বেরিয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন, তা হলেও জামিন খারিজ করা যেতে পারে। চন্দ্রচূড়ের কথায়, ‘‘যদি কোনও মামলায় এই তিন ব্যতিক্রমের কোনওটিই প্রযোজ্য না-হয়, তবে জামিন দেওয়াই নিয়ম। কিন্তু সমস্যা হল, এখন জাতীয় নিরাপত্তার আইন নির্দোষের কথা বলে না। অপরাধকেই প্রাধান্য দেয়।’’

উমরদের মামলার ক্ষেত্রে চন্দ্রচূড়ের বক্তব্য, ‘‘মামলার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা সত্যিই কতটা জড়িয়ে রয়েছে, তা আদালতের যাচাই করে দেখা দরকার। দেখতে হবে, আটক করে রাখার প্রয়োজন সত্যিই আছে কি না। না হলে বছরের পর বছর মানুষ জেলে পচবে।’’

Umar Khalid CJI DY Chandrachud Delhi Riot 2020 Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy