ইটালিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হলেন বিশ্বের এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড় ইয়ানিক সিনার। ফাইনালে ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়েছেন ক্যাসপার রুডকে। চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশবাসীর ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন ইটালির টেনিস খেলোয়াড়। একই সঙ্গে ভেঙে দিয়েছেন নোভাক জোকোভিচের বিশ্বরেকর্ড।
পেশাদার টেনিসে ইটালিয়ান ওপেনের আলাদা কদর রয়েছে। বিশ্বের যে কোনও খেলোয়াড় এই ট্রফি জিততে চান। অথচ ইটালির কোনও টেনিস খেলোয়াড় গত ৫০ বছরে ইটালিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হতে পারেননি। দেশবাসীর এই আক্ষেপ মেটালেন সিনার। ১৯৭৬ সালে আদ্রিয়ানো পানাত্তার পর প্রথম ইটালীয় খেলোয়াড় হিসাবে চ্যাম্পিয়ন হলেন বিশ্বের এক নম্বর সিনার।
এই সাফল্যে জোকোভিচের পর দ্বিতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসাবে একটি নজিরও গড়েছেন সিনার। পেশাদার টেনিসে গ্র্যান্ড স্ল্যামের পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা মাস্টার্স। এই প্রতিযোগিতাগুলি জিতলে ১০০০ এটিপি বা ডব্লিউটিএ পয়েন্ট পাওয়া যায়। বছরে মোট ন’টি মাস্টার্স হয়। সিনারও প্রতিটিতে চ্যাম্পিয়ন হলেন। ২৪ বছর ২৭৪ দিন বয়সে পূর্ণ করলেন ‘কেরিয়ার গোল্ডেন মাস্টার্স’। ২০১৮ সালে ৩১ বছর ৯২ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েছিলেন জোকার। সার্ব তারকার চেয়ে কম বয়সে ‘কেরিয়ার গোল্ডেন মাস্টার্স’ জিতে সিনার নতুন বিশ্বরকের্ড গড়লেন।
তাঁদের পর সবচেয়ে বেশি মাস্টার্স জেতার নজির সাতটি। রজার ফেডেরার, অ্যান্ডি মারে এবং আন্দ্রে আগাসি সাতটি মাস্টার্স জিতেছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন রাফায়েল নাদাল। তিনি ছ’টি মাস্টার্স জিতেছেন। সে কারণে এই নজিরকে বিরলের মধ্যে বিরলতম বলা হয় টেনিসমহলে। উল্লেখ্য, জোকোভিচ প্রতিটি মাস্টার্স অন্তত দু’বার করে জিতেছেন।
নাদালের একটি রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন সিনার। দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসাবে এক ক্যালেন্ডার বছরে সুরকির কোর্টে তিনটি মাস্টার্সই জিতলেন। ২০১০ সালে ইটালিয়ান ওপেন, মাদ্রিদ ওপেন এবং মান্টো কার্লো ওপেন চ্যাম্পিয়ন হল নাদাল। এ বার একই কীর্তি গড়লেন সিনার। এটিও পেশাদার টেনিসে বিরল কীর্তি হিসাবে ধরা হয়। এ ছাড়া বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসাবে ‘ক্লে কোর্ট ট্রিপল’ এবং ‘সানসাইন ডাবল’ জিতলেন সিনার। একই বছরে ইন্ডিয়ান ওয়েলস ওপেন এবং মায়ামি ওপেন জিতলে ‘সানসাইন ডাবল’। তার সঙ্গে একই বছরে ইটালিয়ান ওপেন, মাদ্রিদ ওপেন এবং মান্টো কার্লো ওপেন জিতে ‘ক্লে কোর্ট ট্রিপল’ করলেন সিনার।
পঞ্চম ইটালীয় খেলোয়াড় হিসাবে রোম মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সিনার। ১৯৩৩ সালে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন এমানুয়েল সের্তোরিয়ো। দ্বিতীয় ইটালীয় হিসাবে ১৯৩৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হন জিয়োভান্নি পালমিয়েরি। তাঁর পর নিকোলা পিয়েত্রেঞ্জেলি ১৯৫৭ এবং ১৯৬১ সালে চ্যাম্পিয়ন হন। চতুর্থ খেলোয়াড় হিসাবে ১৯৭৬ সালে জেতেন পানাত্তা।