চেন্নাই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে ড্র করে ফেরার পরে আই লিগ জয়ের আশা পুরোপুরি শেষ তা মানতে নারাজ মোহনবাগান কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। বলছেন, ‘‘লিগে এখনও পাঁচটা ম্যাচ বাকি রয়েছে আমাদের। সেই পাঁচ ম্যাচে জিততে হবে সবার আগে। তার পরে দেখা যাবে আই লিগ শেষে কোথায় থাকি আমরা।’’
চেন্নাইয়ে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি নষ্ট করে যিনি মোহনবাগান জনতার আই লিগ জয়ের আশা প্রায় তলানিতে নিয়ে গিয়েছেন সেই আক্রম মোঘরাবিও কোচের সুরেই বলছেন, ‘‘অতীত নিয়ে না ভেবে এখন আমাদের টানা পাঁচটি ম্যাচ জেতা নিয়ে ভাবতে হবে। যা অসম্ভব নয়। চেন্নাই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করেছি আমরা। তা আর হওয়া চলবে না।’’
এই পরিস্থিতিতে সোমবার ঘরের মাঠে মোহনবাগানের প্রতিপক্ষ কেরলের গোকুলম এফসি। সেই গোকুলম, যেখানে কলকাতা লিগের পরে মোহনবাগান থেকে ব্রাত্য হয়ে, কেরলের দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন গত বছরের আই লিগ জয়ী দলের সদস্য কামো স্টিফেন বায়ি। আইভরি কোস্টের ফুটবলার তখন বলে গিয়েছিলেন, ‘‘আই লিগে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে নিজের পারফরম্যান্স দেখাতে চাই।’’
সোমবার সেই কামো নেই। নেই ওডাফাও। বদলে নতুন বিদেশি নিয়েছে কেরলের দলটি। ফলে দুই প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলারের পুরনো ক্লাবকে হারানোর মরিয়া প্রয়াস আর দেখা হচ্ছে না যুবভারতীর দর্শকদের।
আই লিগে বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে সোমবারই ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ মোহনবাগানের। বাকি চার ম্যাচই অ্যাওয়ে। যার মধ্যে কেরলের দলটির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচও রয়েছে। কেরলের দলটি বারো রাউন্ডের পরে দশ পয়েন্ট নিয়ে দশ দলের আই লিগে একদম শেষ স্থানে। জয় মাত্র তিনটি ম্যাচে। সেখানে তেরো রাউন্ডের পরে চতুর্থ স্থানে থাকা মোহনবাগানের পয়েন্ট ২১। লিগ শীর্ষে থাকা পঞ্জাবের মিনার্ভা এফসি-র চেয়ে আট
পয়েন্ট পিছনে।
চেন্নাই ম্যাচে দেখা গিয়েছে উইং থেকে উড়ে আসা বলগুলো কাজে লাগাতে সময় নিচ্ছেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। যার ফলে গোল করার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেই গোলের দরজা খুলতেই এ দিন সকালে সেট পিস অনুশীলন হল জোর কদমে। কুঁচকির চোটের জন্য এই ম্যাচে নেই জাপানি ফুটবলার ইউতা কিনোয়াকি। তাঁর জায়গায় রেনিয়ার ফার্নান্দেজ বা শিল্টন ডি’সিলভা-র মধ্যে কেউ একজন খেলবেন। মোহনবাগান কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী বলছেন, ‘‘চেন্নাই ম্যাচ এখন অতীত। ঘরের মাঠে এটাই শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচ জিতে অ্যাওয়ে পর্বে খেলতে যেতে চাই আত্মবিশ্বাসী মেজাজে। কাজেই কোনও মতেই মূল্যবান তিন পয়েন্ট নষ্ট করা যাবে না।’’ সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘‘এ বার লিগে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারছি না আমরা। নিজেদের কোথায় ভুল হচ্ছে, সে ব্যাপারে এ দিনও আলোচনা করেছি নিজেদের মধ্যে। আশা করছি, সোমবার গোকুলমের বিরুদ্ধে সেই এক ভুল হবে না।’’
শঙ্করলালের সঙ্গে এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির ছিলেন অধিনায়ক শিল্টন পাল। সেই শিল্টন আবার ভয় পাচ্ছেন অচেনা গোকুলম-কে। তাঁর কথায়, ‘‘ঘরের মাঠে চলতি মরসুমে নিজেদের ছন্দ অনুযায়ী খেলতে পারিনি আমরা। গোকুলমের বিরুদ্ধে এর আগে কোনও ম্যাচ খেলিনি। লিগ তালিকায় ওরা সবার শেষে থাকলেও গোকুলম-কে আমরা হাল্কা মেজাজে নিচ্ছি না।’’
গোকুলম কোচ বিনু জর্জ আবার সমীহ করছেন মোহনবাগানকে। বলছেন, ‘‘ঘরের মাঠে মোহনবাগান সব সময়েই কঠিন প্রতিপক্ষ। কাজেই ওদের হারিয়ে কলকাতা থেকে তিন পয়েন্ট নিয়ে যেতে হলে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হবে আমাদের।’’
সোমবার আই লিগ: মোহনবাগান বনাম গোকুলম এফসি (যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলা শুরু দুপুর ২ টো)।