Advertisement
E-Paper

রিপোর্ট পেশ, শাস্তির মুখে কিংশুক-শিল্টন

ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় আই এফ এ অফিসে মুখ বন্ধ খামে জমা পড়েছে ওই দিনের রেফারি রঞ্জিত বক্সির রিপোর্ট। ম্যাচ কমিশনার সুকৃতি দত্ত আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁর গোপন রিপোর্ট। তাতে গত রবিবারের কোনও ঘটনাই বাদ যায়নি। জানা গিয়েছে, দু’জনের রিপোর্টেই মূল অভিযুক্ত করা হয়েছে কিংশুক এবং শিল্টনকে।

রতন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৩:১১
বিতর্ক: শিলিগুড়িতে ডার্বির সেই ছবি। মোহনবাগান ফুটবলারদের হাতে আক্রান্ত রেফারি। —ফাইল চিত্র।

বিতর্ক: শিলিগুড়িতে ডার্বির সেই ছবি। মোহনবাগান ফুটবলারদের হাতে আক্রান্ত রেফারি। —ফাইল চিত্র।

শিলিগুড়িতে রবিবাসরীয় ডার্বিতে গন্ডগোলের জের। বড় রকমের শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন মোহনবাগান অধিনায়ক কিংশুক দেবনাথ এবং গোলকিপার শিল্টন পাল। তাদের সঙ্গে শাস্তির খাঁড়া নামতে পারে অভিজিৎ বাগুই এবং চেষ্টারপর লিংডোর উপরও।

শুধু মোহনবাগানের চার ফুটবলার নয়, ইস্টবেঙ্গলের ফিজিও লুই মিরান্দা গার্সিয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে আইএফএ-র শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। বিরতির পর রেফারিকে গালাগালি করার জন্য গার্সিয়াকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল সে দিন। তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসতে দেননি চতুর্থ রেফারি তন্ময় ধর।

ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় আই এফ এ অফিসে মুখ বন্ধ খামে জমা পড়েছে ওই দিনের রেফারি রঞ্জিত বক্সির রিপোর্ট। ম্যাচ কমিশনার সুকৃতি দত্ত আগেই পাঠিয়ে দিয়েছেন তাঁর গোপন রিপোর্ট। তাতে গত রবিবারের কোনও ঘটনাই বাদ যায়নি। জানা গিয়েছে, দু’জনের রিপোর্টেই মূল অভিযুক্ত করা হয়েছে কিংশুক এবং শিল্টনকে। রঞ্জিত তাঁর রিপোর্টে লিখেছেন, ‘শিল্টন এবং কিংশুক দু’জনেই বুট দিয়ে তাঁর এবং সহকারী রেফারি কুনাল সরকারের পা চেপে ধরার চেষ্টা করেছেন, লাথি মেরেছেন এবং ধাক্কা দিয়েছেন।’

আর বারবার সে দিনের ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ দেখার পর ম্যাচ কমিশনার সুকৃতিও লিখেছেন, ‘‘পেনাল্টির পর শিল্টনের সঙ্গে ঝামেলায় সামিল হয়েছিলেন অভিজিৎ বাগুই, চেষ্টারপল লিংডোও। কিংশুক লালকার্ড দেখার পর রেফারিদের ধাক্কা মারেন। লাথি মারেন।’’ রঞ্জিত বা সুকৃতি দু’জনেই মঙ্গলবার এ ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননি। রঞ্জিত ফোন ধরেননি। আর সুকৃতি বলেছেন, ‘‘যা বলার রিপোর্টে লিখেছি। সংবাদমাধ্যমকে বলব কেন?’’ তাঁরা কিছু না বললেও আনন্দবাজারের হাতে যে তথ্য এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে দু’জনেই আলাদা ভাবে তাদের রিপোর্ট ই মেল করা ছাড়াও মুখবন্ধ খামে জমা দিয়ে গিয়েছেন। ক্যালকাটা রেফারিজ সংস্থার অফিসে এ দিন এসে গত রবিবারের ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচের রেফারি রঞ্জিত বক্সি ম্যাচের সময় দুটি ঝামেলার কথা সবিস্তারে লেখার পাশাপাশি বাইরের ঘটনারও উল্লেখ করেছেন বলে খবর। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘মাঠ থেকে বেরিয়ে আসার সময় টেকনিক্যাল এরিয়ার বাইরে থাকা কিছু মোহনবাগান কর্তা আমাকে এবং আমার এক সহকারিকে গালাগাল করেছেন। তেড়ে এসেছেন টানেলের মধ্যে। এই ঘটনার সময় পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে এবং বের করে নিয়ে যায় ড্রেসিংরুমে। পরে হোটেলে পৌঁছে দেয়।’

জানা গিয়েছে, ওই দিনের রেফারি এবং ম্যাচ কমিশনার দুটি ঝামেলার কথা উল্লেখ করেছেন। এক) ৬২ মিনিটে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পেনাল্টি দেওয়ার পর শিল্টনের নেতৃত্বে অভিজিৎ বাগুই এবং চেষ্টারপল লিংডো রেফারি ও সহকারি রেফারির দিকে তেড়ে আসেন। শিল্টন ধাক্কা দেন, বুট দিয়ে পা চেপে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং লাথি মারেন। বাকিরা নানা অঙ্গভঙ্গি করেন। গালাগালি দেন। দুই) ৮১ মিনিটে কিংশুক দেবনাথকে লালকার্ড দেখানোর পর তিনি এসে রেফারিকে ধাক্কা দেন। সেখানেও দৌড়ে যান শিল্টন। রেফারিকে হেনস্তা করেন।

রেফারির রিপোর্ট অবশ্য খুলে দেখেননি আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলে দেন, ‘‘রেফারির রিপোর্ট জমা পড়েছে শুনেছি। রিপোর্টে অভিযুক্ত সব ফুটবলারকে কঠোর শাস্তি দেব। ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’’

পুজোর পর ৯ অক্টোবর লিগ সাব কমিটির সভা হতে পারে। দুটি রিপোর্ট সেখানেই খোলা হবে। তারপর তা পাঠানো হবে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির কাছে। ওই কমিটিই শাস্তি কী হবে, তা ঠিক করবে। উৎপলবাবু বললেন, ‘‘কোনও কর্তার নাম রেফারি রিপোর্টে নির্দিষ্টভাবে না দিলে কিছু করার নেই। থাকলে তাঁকে ডাকা হবে। তা ছাড়া টানেলে টিভির ক্যামেরা ছিল না। ফলে ফুটেজ না থাকলে শাস্তি দেওয়া কঠিন’’ যা খবর, তাতে রেফারির রিপোর্টে কোনও মোহনবাগান কর্তার নাম নির্দিষ্ট করে বলা নেই।

কর্তারা শাস্তি থেকে বাঁচলেও শিল্টন, কিংশুকরা বড় শাস্তি পাচ্ছেনই। কিন্তু কী শাস্তি হতে পারে দু’জনের? বিদেশে হলে ছয় মাস নির্বাসিত হতেন দুই ফুটবলারই। অভিজিৎ, লিংডোদের হতো পারে দুই থেকে তিন মাস নির্বাসন। সঙ্গে জরিমানা। কারণ কয়েক সপ্তাহ আগে শুধু রেফারির শরীর স্পর্শ করার অপরাধে পাঁচ ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। লিওনেল মেসিও অভিযুক্ত হয়েছেন। আই এফ এ সূত্রের খবর, শিল্টন-কিংশুকদের তিন বা চার ম্যাচ সাসপেনশন এবং জরিমানা হবে। তাদের বাঁচার কোনও সুযোগ নেই। কারণ ভিডিও ফুটেজে আছে লব কিছু। শাস্তি হলেও আই লিগে বিপদে পড়বে মোহনবাগান। কারণ সে ক্ষেত্রে সিকিম গোল্ড কাপে খেললেও আই লিগে প্রথম দিনের কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারবেন না মোহনবাগানের অভিযুক্ত ফুটবলাররা।

Football কিংশুক দেবনাথ শিল্টন পাল Mohun Bagan Goalkeeper punishment misbehave referee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy