কয়েক সপ্তাহ আগেই আইসিসি বর্ষসেরা টেস্ট এবং ওয়ান ডে দল মিলিয়ে মাত্র এক জন ভারতীয় ক্রিকেটারের জায়গা হয়েছিল। এক দিনের দলে মহম্মদ শামির। আর দুধের স্বাদ ঘোলে মেটার মতো টেস্ট দলে দ্বাদশ ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
এ দিন আইসিসি বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকায় সেটুকুও ঠাঁই হল না ভারতীয় ক্রিকেটারের। হাফডজন ট্রফির কোনওটার পাশে কোনও ভারতীয়ের নাম নেই। ভোটিং সময়সীমার মধ্যে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভারত টানা সাত ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল উঠেছিল। বিরাট কোহলির ভারতও ২২ বছর পর শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত দক্ষতার নিরিখে কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যান বা বোলার প্রথম পাঁচে জায়গা করে নিতে পারেননি।
স্মিথ যদি রিকি পন্টিং, মিচেল জনসন, মাইকেল ক্লার্কের পর চতুর্থ অস্ট্রেলীয় হিসেবে গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি জিতে থাকেন, তা হলে সেই ট্রফি রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকরের মতো ভারতীয়দের হাতেও ওঠার নজির আছে অতীতে। স্মিথের মতোই ২০০৪-এ দ্রাবিড়েরও নজির আছে একইসঙ্গে বর্ষসেরা ক্রিকেটার এবং সেরা টেস্ট ক্রিকেটারের জো়ড়া পুরস্কার জেতার। দ্রাবিড়ই প্রথম ক্রিকেটার যিনি এই ডাবল করেন। এর পর দ্রাবিড়ীয় সভ্যতায় পা রাখলেন আরও ছয় ক্রিকেটার।
আইসিসি বর্ষসেরা
কেন স্মিথ, কেন কোহলি নন
আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটারদের পুরস্কার তালিকায় এ বার কোনও ভারতীয় নেই।
সব সেরা পুরস্কার স্যর গারফিল্ড সোবার্স ট্রফি (বর্ষসেরা ক্রিকেটার) ২০১৫-এ পেলেন স্টিভন স্মিথ।
যিনি ভোটিংয়ের মেয়াদকাল ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫-র মধ্যে ১৩ টেস্টে ১৭৩৪ রান করেছেন।
গড় ৮২.৫৭। সেঞ্চুরি ৭। সেখানে ওই সময়ের মধ্যে ভারতের সেরা টেস্ট ব্যাটিং পারফরম্যান্স বিরাট কোহলির।
৮ টেস্টে ৯৩৯ রান। গড় ৬২.৬০। সেঞ্চুরি ৫। আর বোলিংয়ে সেরা রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
৭ টেস্টে ৩৮ উইকেট। সেরা ব্যাটিংয়ের তালিকায় কোহলি সাত নম্বরে। অশ্বিন সেরা বোলারদের তালিকায় ছয়ে।
পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, আইসিসির বর্ষসেরা পুরস্কারের যেটা ভোটিং মেয়াদকাল সেই ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫-র মধ্যে কোহলির টেস্ট পারফরম্যান্স ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা। আর বোলিংয়ে এক নম্বর ভারতীয় অশ্বিন। কিন্তু দু’টো তালিকাতেই তাঁরা প্রথম পাঁচে নেই সব দেশের ক্রিকেটার মিলিয়ে। স্মিথ সেখানে টেস্টে ১৩ ম্যাচে ১৭৩৪ রান করার পাশাপাশি ওয়ান ডে-তে ২৬ ম্যাচে ১২৪৯ রান করেছেন। গড় ৬০-এর আশপাশে। সেঞ্চুরি ৪। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য। তবে উপর্যুপরি দ্বিতীয় বার বর্ষসেরা ওয়ান ডে ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতার পথে এবি-র পারফরম্যান্স আরও দুর্দান্ত। ২০ ইনিংসে ১২৬৫ রান করেছেন তিনি। ৭৯-র উপর গড়ে। স্ট্রাইক রেট ১২৮.৪। উচ্ছ্বসিত এবি বলেছেন, ‘‘আমার কাছে বিরাট সম্মান। যদিও এ বছরটা আমার কাছে যেমন আনন্দের, তেমনই বিষাদের। ওয়ান্ডারার্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে যে ওয়ান ডে সেঞ্চুরি করেছিলাম সেটাই সম্ভবত এ বছর আমার সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। কথায় বলে, দল না জিতলে নিজের ভাল খেলার কোনও দাম নেই। আশা করি ওয়ান্ডারার্সের মতো দিন আমার নিজের আর দলের কাছে আরও অনেক আসবে। আবার এ বারও বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হোঁচট খেতে হওয়ার হতাশা কুরে কুরে খেয়েছে আমাকে।’’
ফাফ দু’প্লেসি আবার এ বারের বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইনিংস খেলা সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা সেই ম্যাচ হেরেছিল। কিন্তু তিনি এ দিন বলেছেন, ‘‘দক্ষিণ আফ্রিকা ওই ম্যাচটা না জিতলেও ইনিংসটা আমার কাছে ভীষণ স্পেশ্যাল। জীবনে খুব কমই ওই রকম ইনিংস খেলার সুযোগ ঘটে।’’