Advertisement
E-Paper

এ ভাবে চললে টোকিওয় আর বিকাশদের দেখছি না

কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী প্রথম ভারতীয় বক্সার লিখলেন শুধু আনন্দবাজারে।উজবেকিস্তানের বেকতেমির মেলিকুজিয়েভ যে ভারতের বিরুদ্ধেই ফর্ম খুঁজে পাবেন তা কে জানত! ভারতের বিকাশ কৃষাণ প্রথম দুই লড়াইতে দাপট দেখিয়ে ম্যাচ বার করেছে। ৭৫ কেজি মিডল ওয়েটের কোয়ার্টার ফাইনালে বেকতেমিরকে হারাতে পারলেই ব্রোঞ্জ পদক আসবে দেশে।

শেষ আপডেট: ১৭ অগস্ট ২০১৬ ০৪:৫২
মহম্মদ আলি কামার

মহম্মদ আলি কামার

উজবেকিস্তানের বেকতেমির মেলিকুজিয়েভ যে ভারতের বিরুদ্ধেই ফর্ম খুঁজে পাবেন তা কে জানত!

ভারতের বিকাশ কৃষাণ প্রথম দুই লড়াইতে দাপট দেখিয়ে ম্যাচ বার করেছে। ৭৫ কেজি মিডল ওয়েটের কোয়ার্টার ফাইনালে বেকতেমিরকে হারাতে পারলেই ব্রোঞ্জ পদক আসবে দেশে। এই আশা নিয়েই সোমবার রাত তিনটের সময় উঠে টিভির সামনে বসেছিলাম।

কিন্তু বিকাশের স্ট্র্যাটেজি আর নার্ভ দু’টোই যে ফেল করল একই দিনে। বেকতেমিরের কাছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে হেরেছে বিকাশ। সেটা বোধহয় ওর মাথায় কাজ করছিল। আর রিওতে বিকাশের স্ট্র্যাটেজি ছিল প্রথম দু’টো রাউন্ড অ্যাটাকিংয়ে গিয়ে পরে ডিফেন্স করা। আগের দুই ম্যাচেই তা করেছে। উজবেক বক্সার সেটা বুঝে নিয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে তাই বিকাশের আগেই ও অ্যাটাকে এল। বিকাশ আর ওর ব্রহ্মাস্ত্র ডান হাতের আপার কাট আর কম্বিনেশন পাঞ্চ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে না পারায় ওখানেই শেষ বক্সিংয়ে ভারতের পদকের আশা।

শিবা থাপার ভাগ্যটাও খারাপ। বেচারা প্রথমেই পড়ল কিউবার অলিম্পিক্স সোনাজয়ীর সামনে। রিংয়ে অ্যাটাক করবে কী! মানসিক যুদ্ধটাই তো আগে হেরে বসে আছে।

অনেকেই হয়তো শিবা, বিকাশদের নিয়ে সমালোচনা করবেন। আমি কিন্তু এর পরেও ভারতীয় বক্সারদের পাশেই রয়েছি। যে পরিস্থিতিতে ওদের রিওতে নামতে হয়েছে তা শুনলে চমকে যাবেন।

বেজিং অলিম্পিক্স থেকে ভারতীয় বক্সিংয়ে প্রথম পদকটা (ব্রোঞ্জ) নিয়ে এসেছিল বিজেন্দ্র সিংহ। লন্ডনে মেরি কমও জিতেছিল ব্রোঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে আমাদের জাতীয় বক্সিং ফেডারেশনের উচিত ছিল রিওতে পদকের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কোমর বেধে নামার। কিন্তু ঠিক ওই সময়েই জাতীয় সংস্থার কর্তারা দেশের পদকের কথা ভুলে ফেডারেশনে পদের জন্য লড়তে নেমে গেলেন। তার জন্যই গত চার বছর ধরে নিজের দেশেই নিষিদ্ধ ফেডারেশন। তাঁদের অস্তিত্বই নেই। জাতীয় বক্সিং সংস্থা চালায় একটা অ্যাড হক কমিটি।

ফেডারেশনের অস্তিত্ব না থাকায় দেশে কোনও জাতীয় প্রতিযোগিতা নেই। কোনও নতুন ছেলে কোথা থেকে উঠে আসছে জানতে পারা যায় না। শিবিরে সব পুরনো মুখের ভিড়। নতুন ট্যালেন্ট না থাকায় তাঁরা লড়বে কার সঙ্গে? এগিয়ে যাওয়ার রাস্তাটাই তো বন্ধ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজ যাঁদের সঙ্গে গিয়ে লড়তে হচ্ছে তাঁরা তো এই চার বছরে নিজেদের ঘসেমেজে আরও চকচকে করেছে। নতুন ট্যালেন্টও খুঁজে পেয়েছে। সেখানে আমাদের ভরসা পুরনোরাই!

অ্যামেচার বক্সিংয়ের আন্তর্জাতিক নিয়ামক সংস্থা (আইবা) আবার এর মধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছিল পেশাদার (প্রো) বক্সাররাও অলিম্পিক্সে নামতে পারবে। আর এই পেশাদারদের জন্য কোটা বাড়িয়ে রেখেছিল আইবা। অ্যামেচাররা যেখানে লড়ে অলিম্পিক্স আসে সেই বিশ্ব ও এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের কোটার চেয়ে। আমাদের দেশে এই প্রো বক্সিং হতে গেলে লাগবে প্রোমোটারদের। যে দেশের ফেডারেশনই নিষিদ্ধ সেখানে কোন প্রোমোটার আসবে? আমাদের দেশে পেশাদার বক্সিংয়ের কোনও পরিকাঠামোই নেই। ফলে ভারতীয় বক্সারদের নির্ভর করতে হয়েছে সেই এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ বা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের উপর। কিন্তু সেখানে তো আগের থেকে কোটা কমে গিয়েছে।

এ সব দেখে বিজেন্দ্র কুইন্সবেরি প্রোমোশনসের সঙ্গে চুক্তি করে পেশাদার হয়ে গেল। রিওতে যে আমাদের পদক জয়ের বড় ভরসা হতে পারত। যদিও পেশাদার হওয়ার পরেও ও ঘোষণা করেছিল দেশের হয়ে নামতে চায়। কারণ ও জানে অলিম্পিক্সের আসরে পোডিয়ামে ওঠার সম্মানটা। দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, যখন পেশাদার বক্সারদের রিও অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্ব চলছিল, ঠিক তখনই ওর পেশাদার বক্সিংয়ের লড়াই পড়ে গেল।

এক্ষেত্রে আমি হলে বলতাম যে দেশের হয়ে আগে লড়তে চাই। কিন্তু সেই উদ্যোগ বিজেন্দ্র দেখিয়েছে বলে জানা নেই। আর ওর প্রোমোটাররাও হয়তো সেটা চায়নি। কারণ এখনও তো ও হারেনি পেশাদার সার্কিটে। অলিম্পিক্সে গিয়ে ও হারলে আগামী দিনে ওকে প্রোমোট করতে অসুবিধা হতে পারে। এই ভেবেই হয়তো...।

এ রকম অভিভাবকহীন, ডামাডোলের পরিস্থিতিতে আমাদের বক্সারদের খুব একটা দোষ দেওয়া যায় কি?

কয়েক দিন আগে নরসিংহের ডোপ বিতর্কের সময় দেখছিলাম কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীও আসরে নেমে গিয়েছেন। ভাল উদ্যোগ। রিওতেও তিনি গিয়েছেন অলিম্পিক্স দেখতে। মাননীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে তাই আমার অনুরোধ, এ বার সরকার উদ্যোগ নিক বক্সিং ফেডারেশন ফের নতুন করে শুরু করার, স্বচ্ছ প্রশাসন আনার। না হলে টোকিও অলিম্পিক্স থেকে পদক তো দূরের কথা, কোনও ভারতীয় বক্সার নামতে পারবে কি না সন্দেহ।

Rio Olympics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy