Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

সুন্দর স্পেল হৃদয় জিতল দ্রাবিড়েরও

ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত
৩১ জানুয়ারি ২০১৮ ০৩:৫৯
নায়ক: বাংলার পেসার ঈশানের দাপটে একশো রানও পেরোতে পারল না পাকিস্তান। ছবি:টুইটার

নায়ক: বাংলার পেসার ঈশানের দাপটে একশো রানও পেরোতে পারল না পাকিস্তান। ছবি:টুইটার

গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিরাট কোহালিদের হারতে দেখে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। কে জানত, এক বছরের মধ্যে বিশ্ব মঞ্চে পাক-বধের নায়ক হয়ে থাকবেন তিনি!

মঙ্গলবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বল হাতে ঝড় তুললেন ইশান পোড়েল। ৬ ওভার বল করে ১৭ রান দিয়ে পেলেন চার উইকেট। তাঁর বোলিং পারফরম্যান্সে আপ্লুত কোচ রাহুল দ্রাবিড়। ডান পায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মাত্র চার ওভার বল করে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ঈশানকে। পরের ম্যাচগুলো খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই ম্যাচেই তাঁর দুই সতীর্থ পেসার কমলেশ নগরকোটি ও শিবম মাভির দুরন্ত বোলিং নজর কেড়ে নিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট মহলের।

ম্যাচ শেষে নিউজিল্যান্ড থেকে ফোনে ঈশান বলেন, ‘‘ম্যাচ জেতার পর রাহুল স্যার আমার খুব প্রশংসা করেছেন। আমাকে বলেছেন যে, প্রথম ম্যাচে চোট না পেলে হয়তো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বোলার হতে পারতাম আমি। এই কথাটা আমাকে খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। তবে আসল স্বপ্নপূরণ হবে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারলে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে ‘খারাপ’ ওয়ান্ডারার্সের পিচ

ছোটবেলায় ব্রেট লি, ডেল স্টেন-দের দেখেই পেসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ক্রাইস্টচার্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মহারণে নামার আগে কি ভাবছিলেন? বাংলার উদীয়মান পেসার বলছেন, ‘‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দাদাদের হারতে দেখে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে সেই কথাটাই বার বার মাথায় ঘুরছিল। ওই ম্যাচটার কথা ভেবেই ভাল পারফর্ম করার খিদেটা বেড়ে গিয়েছিল।’’

চন্দননগরের ন্যাশনাল স্পোর্টিং ক্লাব থেকে শুরু তাঁর ক্রিকেট যাত্রা। ছোটবেলায় কোচ প্রদীপ মণ্ডলের কাছে ক্রিকেটের হাতেখড়ি। ঈশানের পরিবার কবাডির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ছেলেকে কিন্তু লাল বলটাই ছোটবেলা থেকে আকৃষ্ট করেছে। দশ বছর বয়সে শ্যামবাজারের উৎপল চট্টোপাধ্যায় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে খেলতে আসেন তিনি। আর সেখানেই কোচ বিভাস দাসের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ তাঁর। ম্যাচ থাকলে ভোর সাতটায় লোকাল ট্রেন ধরে হাওড়া পৌঁছতে হতো। প্রথম দিকে মায়ের (রীতা পোড়েল) সঙ্গে মাঠে আসতেন তিনি। বড় হয়ে ওঠার পর বিভাস স্যার ঈশানকে তাঁর বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরের দিন সকালে ম্যাচ থাকলে স্যারের বাড়িতে থেকে যেতেন ঈশান।

১৯ বছর বয়সে বাংলার রঞ্জি ট্রফি দলে সুযোগ পেয়েই দুরন্ত পারফর্ম করেছিলেন ডান-হাতি পেসার। এ বারের রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন বিদর্ভের বিরুদ্ধে অভিষেক ম্যাচে নেমে চার উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। পরের ম্যাচ ছিল পঞ্জাবের বিরুদ্ধে। তাদের ঘরের মাঠেই ছ’উইকেট নিয়ে বাংলাকে জয়ের রাস্তা দেখিয়েছিলেন ঈশান। জাতীয় নির্বাচকদের নজরে অবশ্য তার আগে থেকেই ছিলেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে উড়ে যাওয়ার আগে দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় তাঁদের বলে দিয়েছিলেন যে, আগামী ছ’সপ্তাহ ভাল পারফর্ম করতে পারলে ভবিষ্যতে আর পিছনে ঘুরে তাকাতে হবে না। সেই মন্ত্রই গেঁথে গিয়েছিল ঈশানের মনে। তারই সঙ্গে মজার কথা হল ম্যাচের আগে অথবা ম্যাচ চলাকালীন একটু বেশিই কুসংস্কারী হয়ে পড়েন বাংলার উদীয়মান পেসার। ম্যাচের দিন সকালে মাঠে পৌঁছেই নিজের রান-আপটা মেপে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে তাঁর কিছু কুসংস্কারের কথাও জানালেন তরুণ বঙ্গ পেসার। ঈশান বলেন, ‘‘আমি খুবই কুসংস্কারী। গত ম্যাচে যে পোশাক পরে বাংলাদেশকে হারিয়েছি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও সেই পোশাক পরেই খেলতে নেমেছিলাম।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘তা ছাড়া প্রত্যেক ম্যাচে দল প্রথমে ব্যাট করলে আমি ড্রেসিংরুমে একটু ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। আজও তাই করেছি।’’

পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই কি তা হলে নিজের সেরা পারফরম্যন্সটা তুলে রেখেছিলেন ঈশান?, বঙ্গ পেসারের উত্তর, ‘‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতাটাই আমার কাছে একটা বড় প্রাপ্তি। তারই সঙ্গে এই ম্যাচে ভাল পারফর্ম করতে পেরে ফাইনালের আগে আমার আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ফাইনালে লড়াইটা আরও কঠিন। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছি ঠিকই কিন্তু ফাইনালের পরিবেশটা আলাদা। আশা করছি ফাইনালেও সেই পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে পারব।’’ তা হলে ফাইনালেও কি একই পোষাক পরে খেলতে দেখা যাবে ঈশানকে? হেসে ওঠেন বাংলার নতুন পেস সম্ভাবনা। বলে দেন, ‘‘হয়তো।’’

আরও পড়ুন

Advertisement