Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৫ অক্টোবর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

চেনা জমিতে অচেনা কম্পন হাড়ে হাড়ে টের পেলেন মর্গ্যান

সকালেই হয়তো গোটা দিনটা কেমন যাবে তার আভাস পেয়ে গিয়েছিলেন ট্রেভর মর্গ্যান ! শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার কিছু পরে। পায়ের তলার মাটি হঠাৎ কেঁপে গ

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা ২৬ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:০৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
তুলুঙ্গার গোল-উৎসব। লাল-হলুদ স্টাইল। ছবি: উৎপল সরকার

তুলুঙ্গার গোল-উৎসব। লাল-হলুদ স্টাইল। ছবি: উৎপল সরকার

Popup Close

ইস্টবেঙ্গল-৩ (ডুডু, র‌্যান্টি, তুলুঙ্গা)

ডেম্পো-১( টোলগে-পেনাল্টি)

সকালেই হয়তো গোটা দিনটা কেমন যাবে তার আভাস পেয়ে গিয়েছিলেন ট্রেভর মর্গ্যান ! শনিবার সকাল সাড়ে এগারোটার কিছু পরে। পায়ের তলার মাটি হঠাৎ কেঁপে গিয়েছিল দুই কোচেরই। রাজারহাটের হোটেল থেকে বেরিয়ে তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়ে পড়েছেন ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন আর বর্তমান কোচ। মর্গ্যান এবং এলকো সতৌরি। ভূমিকম্পের আতঙ্কে দু’জনেই তখন দিশাহারা। সাত ঘণ্টা পর এলকো যখন নব্বই মিনিটের কম্পনে ইস্টবেঙ্গলকে জিতিয়ে হাসতে হাসতে মাঠ ছাড়লেন, ডেম্পো কোচ মর্গ্যানের চোখমুখে তখন যেন সকালের ভূমিকম্পের ‘আফটার শক’। পুরনো দলের কাছে প্রথম সাক্ষাতেই ১-৩ হেরে ব্রিটিশ কোচ বলে ফেললেন, ‘‘ডিফেন্সিভ থার্ডে দু’টো ভুলেই ম্যাচটা এ ভাবে হেরে গেলাম।’’ ২০১০ থেকে টানা তিন মরসুম আই লিগে যে ডাগ আউটে বসে তিনি বহু যুদ্ধ জিতিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে, এ দিনের ম্যাচ তাঁর কাছে যেন ফিজিক্সের পরিভাষায় ‘ইনভার্সলি প্রোপর্শনাল। বিপক্ষ ডাগ আউটে বসে মর্গ্যান দেখলেন এলকোর ইস্টবেঙ্গলের দুরন্ত জয়। আর তার স্বাদ কেমন তা জানাতে গিয়ে বললেন, ‘‘এটাই জীবন। কখন কী রকম হবে কেউ জানে না।’’ পুরনো টিমের ড্রেসিংরুমের বাইরে তাঁর পুরনো ছাত্র মেহতাব, খাবরাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেরার পথে বলছিলেন, ‘‘মেহতাবকে তো সেই আগের ফর্মে দেখলাম।’’

Advertisement

প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, নইমুদ্দিনের পর ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম সফল কোচ এ দিন এক ট্র্যাজিক নায়ক! একে তার টিমে একা ম্যাচ বার করার মতো কোনও ভারী ভারতীয় নাম নেই। তার উপর এ দিন ম্যাচের মাত্র ছ’-সাত ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারেন, ফেডারেশনের শাস্তির জেরে এ দিন নামতে পারবেন না জুয়েল রাজা। বিদেশি-ভাণ্ডারও এ দিন তথৈবচ। চার বিদেশির মধ্যে মিডিও কার্লোস হার্নান্দেজ নেই। স্ট্রাইকার টোলগে পুরো ফিট নন। স্টপার ক্যালাম অ্যাঙ্গাসের খেলায় শিক্ষানবীশের মতো ভুলভ্রান্তি। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো কুড়ি মিনিটের মধ্যেই ফিল্ড টার্ফের সৌজন্যে চোট পেয়ে বেরিয়ে গেলেন হারুন আমিরি।

এর পরেই যুবভারতীতে কম্পন টের পাওয়া শুরু ডেম্পোর। মেহতাব, খাবরা পালা করে ডুডু-র‌্যান্টিদের সঙ্গে স্কোরিং জোনে হানা দিতে শুরু করলেন। মর্গ্যান যে অঙ্ক কষে হয়তো যুবভারতীতে আসেননি। তিনি সম্ভবত ভেবেছিলেন তাঁর আমলের মতোই দুই স্টপারের সামনে মেহতাব দাঁড়িয়ে স্রেফ বল কে়ড়ে যাবেন।

এলকো অবশ্য মর্গ্যানের বিরুদ্ধে জয়ের রেকর্ড বাড়িয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন মাঠের বাইরেই। বিপক্ষ ব্রিটিশ কোচের সল্টলেক নিবাসী বন্ধুর সাহায্য নিয়ে! যাঁর মাধ্যমে মর্গ্যান জমানার ইস্টবেঙ্গলের গোটাকয়েক ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে জয়ের নকশা সাজিয়েছিলেন বর্তমান লাল-হলুদ কোচ। তাই এ দিন উইং দিয়ে ডুডু-র‌্যান্টিরা যখন ঝড় তুলছিলেন, তখনই সেকেন্ড বল ধরতে বক্সের আশপাশে পৌঁছে যাচ্ছিলেন মেহতাব-খাবরারা। সঙ্গে লোবো-ও। পাঁচ জনের কাকে ছেড়ে কাকে ধরবেন, সেই ধন্দে পড়েই মর্গ্যানের বর্তমান দলের ডিফেন্সের এক ঘণ্টায় তিন গোল হজম করা!

দ্বিতীয়ার্ধে টোলগেকে নামিয়ে পাল্টা চাপ দিতে চেয়েছিলেন মর্গ্যান। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচ বেরিয়ে গিয়েছে। টোলগে তবু নিজস্ব প্রয়াসে দু’-একবার নাড়া দিয়ে যান তাঁরও পুরনো দলের ডিফেন্সে। পেনাল্টিতে একমাত্র ব্যবধান কমানোও তাঁরই।

টানা ছ’ম্যাচ অপরাজিত ইস্টবেঙ্গলের এখন ১৫ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট। বাকি পাঁচ ম্যাচ থেকে কি আই লিগ জয়ের মুকুট আসতে পারে?

শুনে হাসছেন ডুডু। এ দিন গোল করে আলোকচিত্রীদের পোজ দিলেন শুয়ে আয়েস করার ভঙ্গিতে। কিন্তু কথায় বিশ্রামের বিন্দুমাত্র ইঙ্গিত নেই। ‘‘ওই পোজটা আপনাদের জন্যই। বলতে চেয়েছিলাম—আপনার আরাম করুন। আমরা গোল করব।’’ এর পর একটু থেমে, ‘‘ধৈর্য ধরুন। আমরা শেষ চেষ্টা করব।’’

‘ধৈর্য’ আর ‘শেষ চেষ্টা’ই যে এখন সম্বল লাল-হলুদের।

ইস্টবেঙ্গল: অভিজিৎ, অভিষেক (দীপক), অর্ণব, গুরবিন্দর, রবার্ট, তুলুঙ্গা (সুবোধ), মেহতাব, খাবরা, ডুডু, র‌্যান্টি, লোবো ( জোয়াকিম)।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement