Advertisement
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
Shahbaz Nadeem

২৪ ঘণ্টা আগেও জানতেন না টেস্ট খেলবেন! ঘরের মাঠে অভিষেক শাহবাজ নাদিমের

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১০ ম্যাচে ২৮ গড়ে ৪২৪ উইকেট নিয়েছেন নাদিম। এর মধ্যে ১৯বার নিয়েছেন পাঁচ বা তার বেশি উইকেট। পাঁচবার নিয়েছেন ১০ বা তার বেশি উইকেট। গত মরসুমেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

টেস্ট ক্যাপ তুলে দেওয়া হল নাদিমের হাতে। ছবি টুইটার থেকে নেওয়া।

টেস্ট ক্যাপ তুলে দেওয়া হল নাদিমের হাতে। ছবি টুইটার থেকে নেওয়া।

সংবাদ সংস্থা
রাঁচী শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৫৩
Share: Save:

গলি থেকে রাজপথ নয়। এ হল কয়লাখনি অঞ্চল থেকে টেস্ট ক্রিকেটের হাইওয়ে। রূপকথার মতোই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হল শাহবাজ নাদিমের। শনিবার রাঁচীতে ঘরের মাঠে যাঁর টেস্ট অভিষেক প্রমাণ করল জেদ, লড়াই, সঙ্কল্প থাকলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অভিষেক ঘটানো যায়, ১৫ বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে রগড়ানির পরও।

Advertisement

সেই ২০০৪ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল নাদিমের। এত বছর ধরে ঝাড়খণ্ডের হয়ে খেলে গিয়েছেন বাঁ-হাতি স্পিনার। খেলেছেন পূর্বাঞ্চল, ভারত এ দলের হয়েও। তারই পুরস্কার পেলেন অবশেষে। ৩০ বছর বয়সে নাটকীয় ভাবেই ডাক পেলেন টেস্ট দলে। কুলদীপ যাদবের চোট তাঁর ক্ষেত্রে হয়ে উঠল আশীর্বাদ।

শুক্রবার সকালেও জানতেন না পরের দিন টেস্ট অভিষেক হতে চলেছে তাঁর। মহানাটকীয় ভাবে এলেন স্কোয়াডে, কুলদীপের পরিবর্ত হিসেবে। আর কী আশ্চর্য, পরের দিন তাঁর হাতে টেস্ট ক্যাপ তুলে দিলেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি। একদিনের মধ্যে টেস্টের দরজা খুলে গেল। স্বপ্ন ছাড়া আর কী!

আরও পড়ুন: প্রক্সি পাঠিয়েও টসে হার দক্ষিণ আফ্রিকার, রাঁচীতে অভিষেক নাদিমের​

Advertisement

আরও পড়ুন: কাঁধের চোটে ছিটকে গেলেন কুলদীপ, দলে নাদিম, ধোনির শহরে আগ্রাসনেরই ইঙ্গিত বিরাটের

অথচ, এর নেপথ্যে রয়েছে অনেক লড়াই-ঘাম-রক্ত। তাঁর বাবা ছিলেন ধানবাদের পুলিশ অফিসার। দুই ছেলেই খেলতেন ক্রিকেট। কিন্তু বাবা দুই ছেলেকেই ক্রিকেটে ভাগ্যপরীক্ষায় নামাতে রাজি নন। বলে দেন, কোনও একজনই ব্যাট-বলের দুনিয়ায় থাকবে। অন্যজনকে ছাড়তে হবে খেলা। এই পরিস্থিতিতে বড় ভাই আসাদ ইকবাল আত্মত্যাগ করেন। ভাইয়ের ক্রিকেট কেরিয়ারের জন্য নিজে সরে আসেন। তিনি এখন নয়াদিল্লিতে, এমবিএ করে চাকরি করছেন। ভাইকে টেস্ট ক্রিকেটার হতে দেখে নিজের সিদ্ধান্তে নিশ্চিত ভাবেই গর্বিত তিনি।

দাদা যখন ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন, নাদিমের বয়স তখন ১৪। সেই বয়সেই তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলে ফেলেছেন। বয়সে বড়দের সঙ্গে দিচ্ছেন টক্কর। ২০০৪ সালে ঝাড়খণ্ডের হয়ে অভিষেকের সময় থেকেই তিনি ধারাবাহিক। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে কানওয়ালজিৎ সিংহের পর নাদিমই দ্বিতীয় বোলার যিনি কি না দুই মরসুমে পঞ্চাশের বেশি উইকেট পেয়েছেন। ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ মরসুমে নাদিম পান যথাক্রমে ৫১ ও ৫৬ উইকেট। এর আগে হায়দরাবাদের অফস্পিনার কানওয়ালজিৎ ১৯৯৮-৯৯ ও ১৯৯৯-০০ মরসুমে যথাক্রমে ৫১ ও ৬২ উইকেট পেয়েছিলেন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১০ ম্যাচে ২৮ গড়ে ৪২৪ উইকেট নিয়েছেন নাদিম। এর মধ্যে ১৯বার নিয়েছেন পাঁচ বা তার বেশি উইকেট। পাঁচবার নিয়েছেন ১০ বা তার বেশি উইকেট। গত মরসুমেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই বছরে ভারত এ দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ১৫ উইকেট নেন তিনি। লোয়ার অর্ডারেও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান নাদিম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটি সেঞ্চুরি ছাড়াও রয়েছে সাতটি হাফ-সেঞ্চুরি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.