নেই বিরাট-রোহিত, ইমরান-মিয়াঁদাদ! শোয়েবের বাছাই সেরা ১০ ভারত-পাক ওয়ানডে ক্রিকেটার নিয়ে বিতর্ক
চুল উড়িয়ে লম্বা রানআপ এমনিতেই আতঙ্ক আমদানি করত। তা আরও বাড়াত লাফিয়ে ওঠা আগ্রাসী অ্যাকশন ও বলের দুরন্ত গতি। কেরিয়ারে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ শোয়েব আখতার হানা দিতেন অনেক ব্যাটসম্যানের দুঃস্বপ্নে। সেই তিনিই বেছে নিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের সেরা ১০ ওয়ানডে ক্রিকেটারকে।
চুল উড়িয়ে লম্বা রানআপ এমনিতেই আতঙ্ক আমদানি করত। তা আরও বাড়াত লাফিয়ে ওঠা আগ্রাসী অ্যাকশন ও বলের দুরন্ত গতি। কেরিয়ারে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ শোয়েব আখতার হানা দিতেন অনেক ব্যাটসম্যানের দুঃস্বপ্নে। সেই তিনিই বেছে নিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানের সেরা ১০ ওয়ানডে ক্রিকেটারকে।
কিন্তু তাঁর সেই তালিকায় ঠাঁই হয়নি কপিল দেব, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অনিল কুম্বলে, এমনকি বিরাট কোহালি-রোহিত শর্মাদেরও! পাকিস্তান থেকে নেই ইমরান খান, জাভেদ মিয়াঁদাদ। স্বাভাবিক ভাবেই শোয়েব আখতারের বাছাই জন্ম দিয়েছে বিতর্কের।
সেরা দশের শীর্ষে সচিন তেন্ডুলকরকে রেখেছেন শোয়েব। এক দিনের ক্রিকেটে ৪৬৩ ম্যাচে ১৮৪২৬ রান, ৪৯ সেঞ্চুরি রয়েছে লিটল চ্যাম্পিয়নের। অনেকের কাছেই তিনি ‘গড অফ ক্রিকেট’। ৪৪.৮৩ গড়, ৮৬.২৩ স্ট্রাইক রেট তাঁর ধারাবাহিকতা মেলে ধরছে।
দুইয়ে পাকিস্তানের সঈদ আনোয়ারকে রেখেছেন শোয়েব। ২৪৭ ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯.২১ গড়ে ৮৮২৪ রান করেছেন বাঁ-হাতি ওপেনার। সর্বোচ্চ ভারতের বিপক্ষেই করা ১৯৪। রয়েছে ২০ সেঞ্চুরি। স্ট্রাইক রেট ৮০.৬৭।
তিনে ইমজামাম উল হককে রেখেছেন তিনি। ৩৭৮ এক দিনের ম্যাচে ৩৯.৫২ গড়ে ১১৭৩৯ রান করেছেন ইনজি। ১০ সেঞ্চুরি ও ৮৩ হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এর মধ্যে। সর্বাধিক অপরাজিত ১৩৭। স্ট্রাইক রেট ৭৪.২৪।
আরও পড়ুন:
চারে শোয়েব রেখেছেন রাহুল দ্রাবিড়কে। এক দিনের ক্রিকেটেও দ্রাবিড়ের পরিসংখ্যান দুর্দান্ত। ৩৪৪ ওয়ানডে ম্যাচে ৩৯.১৬ গড়ে ১০৮৮৯ রান এসেছে তাঁর ব্যাটে। ১২ সেঞ্চুরি ও ৮৩ হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে এর মধ্যে। সর্বোচ্চ ১৫৩। স্ট্রাইক রেট ৭১.২৩। তা ছাড়া উইকেটকিপারের দায়িত্বও পালন করতে পারেন তিনি।
সেরা দশের তালিকায় পাঁচে বীরেন্দ্র সহবাগকে রেখেছেন শোয়েব। ২৫১ ম্যাচে ৩৫.০৫ গড়ে ৮২৭৩ রান, ১৫ সেঞ্চুরি ও ৩৮ হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর কেরিয়ারে। সর্বাধিক ২১৯। স্ট্রাইক রেট ১০৪.৩৩।
এর পর পাকিস্তানের অলরাউন্ডার আবদুল রজ্জাককে রেখেছেন শোয়েব। ২৬৫ এক দিনের ম্যাচে ২৯.৭০ গড়ে ৫০৮০ রান করেছেন তিনি। তিনটি সেঞ্চুরি ও ২৩টি হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। পাশাপাশি, মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে নিয়েছেন ২৬৯ উইকেটে। তিন বার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ৩৫ রানে ছয় উইকেট তাঁর সেরা বোলিং।
তালিকায় সাতে আছেন যুবরাজ সিংহ। ৩০৪ এক দিনের ম্যাচে ৩৬.৫৫ গড়ে ৬৭০১ রান করেছেন তিনি। ১৪ সেঞ্চুরি ও ৫২ হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে এর মধ্যে। স্টাইক রেট ৮৭.৬৭। সর্বোচ্চ ১৫০। ২০১১ বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের অফস্পিনার সাকলিন মুস্তাক আছেন এর পর। ১৬৯ এক দিনের ম্যাচে ২৮৮ উইকেটের মালিক তিনি। ছয় বার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ২০ রানে পাঁচ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। গড় ২১.৭৮, ইকনমি রেট ৪.২৯, স্ট্রাইক রেট ৩০.৪।
শোয়েবের তালিকার নয়ে আছেন ওয়াসিম আক্রম। ৩৫৬ এক দিনের ম্যাচে ৫০২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ছয় বার নিয়েছেন পাঁচ উইকেট। ১৫ রানে পাঁচ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। গড় ২৩.৫২, ইকনমি রেট ৩.৮৯, স্ট্রাইক রেট ৩৬.২। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে ৩৭১৭ রানও করেছেন তিনি।
দশে ওয়াকার ইউনিসকে রেখেছেন শোয়েব। ২৬২ এক দিনের ম্যাচে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। গড় ২৩.৮৪, ইকনমি রেট ৪.৬৮, স্ট্রাইক রেট ৩০.৫। ১৩ বার পাঁচ উইকেট বা তার বেশি নিয়েছেন ডানহাতি পেসার। ৩৬ রানে সাত উইকেট তাঁর সেরা বোলিং।