×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

স্পিনারদের নিয়ে মনিন্দরের উদ্বেগ, খুশি বেঙ্গসরকর

ইন্দ্রজিৎ সেনগুপ্ত
৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ ০৩:৫৯
আইসিসির নতুন প্রস্তাবে স্পিনারদের ভূমিকা কমে যাবে বলে মনে করছেন মনিন্দর সিংহ।—ছবি এপি

আইসিসির নতুন প্রস্তাবে স্পিনারদের ভূমিকা কমে যাবে বলে মনে করছেন মনিন্দর সিংহ।—ছবি এপি

ওয়ান ডে ও টি-টোয়েন্টির যুগে টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কিছুটা হয়তো কমেছে। কিন্তু তার মাহাত্ম্য নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখনও দেখতে পছন্দ করেন, সকালের প্রথম দুই ঘণ্টায় পেসারদের গতি ও সুইংয়ের বিরুদ্ধে কী ভাবে ব্যাটসম্যানেরা মোকাবিলা করছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম দিন কতটা সমস্যায় ফেলতে পারছেন স্পিনাররা।

আইসিসি-র নতুন প্রস্তাব, পাঁচ দিনের পরিবর্তে টেস্ট হোক চার দিনের। যা নিয়ে সোমবার বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। আগে ওদের লিখিত প্রস্তাব হাতে পাই। প্রত্যেকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসা যাবে।’’

সৌরভ এড়িয়ে গেলেও প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার মনিন্দর সিংহ চার দিনের টেস্টের তীব্র প্রতিবাদ করলেন। ফোনে বললেন, ‘‘টেস্ট কী করে চার দিনের হয়, জানা নেই। কীসের ভিত্তিতে আইসিসি-র এই পরিকল্পনা, জানি না।’’ যোগ করেন, ‘‘চার দিনের টেস্ট হলে সব চেয়ে বেশি সমস্যা হবে স্পিনারদের। ওদের প্রয়োজনীয়তা আরও কমবে।’’

Advertisement

ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া টেস্টে স্পিনাররা উইকেট থেকে সুবিধা পেতে শুরু করেন তৃতীয় দিনের শেষ থেকে। নিউজ়িল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় যা হতে পারে চতুর্থ দিনের পরে। পাঁচ দিনের ম্যাচ তুলে দেওয়া হলে, স্পিনারদের দাপট এক দিনের বেশি দেখতে পাওয়া কঠিন। মনিন্দরের মন্তব্য, ‘‘দিনরাতের টেস্ট শুরু হওয়ার পরে এমনিতেই প্রয়োজনীয়তা হারাতে শুরু করেছে স্পিনাররা। প্রতিভাবান স্পিনার দেখতেই পাওয়া যাচ্ছে না ভারতে। টেস্ট চার দিনের হলে কোনও দল কি অতিরিক্ত স্পিনার খেলাবে? উইকেট থেকে সাহায্য পাওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে ম্যাচ। নষ্ট হবে টেস্টের সৌন্দর্য।’’

প্রাক্তন অধিনায়ক দিলীপ বেঙ্গসরকর অবশ্য চার দিনের টেস্টকে স্বাগত জানাচ্ছেন। বলছিলেন, ‘‘শেষ চার থেকে পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে টেস্টে ড্রয়ের সংখ্যা কমেছে। বেশির ভাগ ম্যাচ শেষ হচ্ছে চার দিনের মধ্যে। এ বছরই ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশের ম্যাচ শেষ হয়েছে চার দিনে। বাংলাদেশ দু’দিনেই প্রায় হারতে বসেছিল। সেই রেকর্ড দেখেই হয়তো আইসিসি-র এই পরিকল্পনা। আমি মনে করি, টেস্টকে উত্তেজক করে তুলবে এই প্রস্তাব।’’

স্পিনারদের প্রয়োজনীয়তা কমার সম্ভাবনা নিয়ে বেঙ্গসরকর বলছেন, ‘‘যারা বল ঘোরাতে পারে, তারা প্রথম দিন থেকেই ঘোরাবে। পঞ্চম দিন উইকেট ভাঙার আশায় বসে থাকবে না। শেন ওয়ার্ন, মুরলীধরনদের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়েছে কখনও!’’ যোগ করেন, ‘‘প্রত্যেক দিন ৯০ ওভারের মধ্যে পেসাররা তো সব করবে না। স্পিনাররাও সুযোগ পাবে। সেই সময় উইকেট তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।’’

চার দিনের টেস্টে প্রতি দিন ৯০ ওভারের পরিবর্তে ৯৮ ওভার খেলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে আইসিসি-র। বেঙ্গসরকর তার বিরোধিতা করে বললেন, ‘‘শীতকালে ভারতে ৯৮ ওভার খেলা সম্ভব নয়। কলকাতায় বিকেল ৪টের মধ্যে অন্ধকার হয়ে যায়। ৯৮ ওভার খেলাতে হলে সকাল ৮টার আগে থেকে ম্যাচ শুরু করতে হয়। তা কি সম্ভব? মুম্বইয়েও ৬টার পরে বেশি আলো থাকে না। ৯৮ ওভার

হবেই না।’’

Advertisement