Advertisement
E-Paper

অশ্বিনকে নিয়ে আশা, ফুটবল অভিযান বুমরাদের

উষ্ণ প্রবাহ থেমে গিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ইংল্যান্ড আবার পুরনো ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট ব্রিজে তো বটেই, লন্ডনেও গরমের চিহ্ন নেই। বরং শুক্রবার রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ফের পুলওভার বেরিয়ে পড়েছে।

সুমিত ঘোষ

শেষ আপডেট: ২৬ অগস্ট ২০১৮ ০৫:০৩
দর্শক: ইপিএলে আর্সেনালের ম্যাচ দেখতে বুমরা ও উমেশ। ছবি সৌজন্য: টুইটার।

দর্শক: ইপিএলে আর্সেনালের ম্যাচ দেখতে বুমরা ও উমেশ। ছবি সৌজন্য: টুইটার।

জোসে মোরিনহোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ইংল্যান্ড ফুটবল উত্তাল হওয়ার মধ্যেই ভারতীয় শিবিরেও ঢুকে পড়ল ফুটবল উত্তাপ। ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্ট জেতার পরে চার দিনের ছুটি কাটাতে বিরাট কোহালিরা চলে এসেছেন লন্ডনে।

সকলকে বলে দেওয়া হয়েছে, যে যাঁর মতো ঘুরতে পারো। তবে দলের রুটিন মানতে হবে। যেমন ছুটি কাটানোর মেজাজ থাকলেও শনিবার জিম সেশন ছিল। অনেককেই যেতে হয়েছে। দুই যুব মুখ পৃথ্বী শ এবং হনুমা বিহারী লন্ডন এসে পৌঁছেছেন গত কাল। তাঁরাও এ দিন জিম সেশনে যোগ দেন। জিম বা পুল সেশন হলেও এই কয়েকটা দিন মাঠে গিয়ে নেট প্র্যাক্টিসের ব্যাপার নেই।

সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুটবল অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন কয়েক জন। তাঁদের মধ্যে সব চেয়ে উৎসাহী ব্যক্তি ট্রেন্ট ব্রিজে গতিতে সকলকে চমকে দেওয়া যশপ্রীত বুমরা। তিনি গেলেন আর্সেনাল বনাম ওয়েস্ট হ্যাম ম্যাচ দেখতে। যত দূর খবর পাওয়া গেল, কে এল রাহুল এবং উমেশ যাদবও গিয়েছিলেন।

এমনিতে উষ্ণ প্রবাহ থেমে গিয়ে গত কয়েক দিন ধরে ইংল্যান্ড আবার পুরনো ইংল্যান্ড। ট্রেন্ট ব্রিজে তো বটেই, লন্ডনেও গরমের চিহ্ন নেই। বরং শুক্রবার রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর থেকে ফের পুলওভার বেরিয়ে পড়েছে। অন্যান্য সময়ে হলে আবহাওয়ায় এই পরিবর্তনের কথা টেনে অনেকে বলতে পারতেন, ফের সেই অ্যাডভ্যান্টেজ ইংল্যান্ড। যত গরম কমবে, যত মেঘলা থাকবে আকাশ, যত বৃষ্টি হবে, যত স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়া হবে তত যে ঐতিহাসিক ভাবে ইংল্যান্ডের সুবিধে আর ভারত থাকবে ব্যাকফুটে। কিন্তু ভারতীয় পেসারদের উত্থানে সেই ইতিহাস ধরেও যে টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন ‘ইন্ডিয়ান সামার’ না থাকলে স্পিন করবে না হয়তো। কিন্তু গতির তুফান তুলে পাল্টা প্রত্যাঘাত করার রাস্তা যে খোলা থাকছে! যশপ্রীত বুমরাদের আগ্রাসন দেখার পরে সোয়েটার বেরোলেই আর বলা যাচ্ছে না ‘বল্লে বল্লে’ বাজবে না।

এর মধ্যেই ভারতীয় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য খুশির খবর পাওয়া গেল যে, আর অশ্বিনকে নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছে দল। সাউদাম্পটনে সিরিজ এসপার-ওসপার করা চতুর্থ টেস্টে অশ্বিনকে পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ভারতীয় শিবির সূত্রে খবর। ট্রেন্ট ব্রিজে বল করতে গিয়ে তাঁর কোমরের নীচের দিককার পেশিতে টান লেগেছিল। প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছিল, গোটা সিরিজেই না অনিশ্চিত হয়ে পড়েন ভারতের সেরা স্পিন অস্ত্র। চোট লাগলেও ট্রেন্ট ব্রিজে বল করেছেন অশ্বিন। বেশির ভাগ সময়ে মাঠেও ছিলেন। অ্যান্ডারসনের শেষ উইকেটটি নেন তিনিই। চোট নিয়েও তাঁর লড়াই দেখে অভিভূত দল। কোহালি পর্যন্ত পুরস্কার বিতরণীর সময়ে অশ্বিনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে যান। খেলতে পারবেন কি পারবেন না সেই সিদ্ধান্ত হয়তো অশ্বিনের হাতেই ছাড়া হবে। এখনও পর্যন্ত মেডিক্যাল বুলেটিন ভাল এটুকু বলে রাখা যায়।

সব মিলিয়ে ভারতের দিকে খুশি-খুশি হাওয়া। ইংল্যান্ডই উল্টে চাপে। আবহাওয়ার মতোই দু’দলের অবস্থানে যেন পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে মাত্র দশ দিনের তফাতে। এই লন্ডনে এসেই ওয়ান ডে সিরিজে লর্ডসে দ্বিতীয় ম্যাচে হারে কোহালির ভারত। তার পর ওয়ান ডে সিরিজও বেরিয়ে যায় হাত থেকে। এর পর টেস্ট সিরিজেও লর্ডসে দুরমুশ হল ভারতীয় দল। তখন বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল তাঁদের।

ট্রেন্ট ব্রিজ ঘুরে লন্ডনে ফিরে এসে তাঁরা অনেক নিশ্চিন্ত মনে ছুটি কাটাচ্ছেন। ফুটবল ম্যাচ দেখতে যাচ্ছেন। বিরাট কোহালি তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকে নিয়ে শপিংয়ে বেরচ্ছেন। হেড কোচ রবি শাস্ত্রী পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। আর জো রুটরা পড়ে গিয়েছেন চাপে। বেন স্টোকসদের ছুটতে হচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে। ব্যাটিং নিয়ে এতটাই আক্রান্ত দেখাচ্ছে ইংল্যান্ডকে যে, রুটের ব্যাটিং অর্ডার পাল্টানোর প্রস্তাব দিচ্ছেন কেউ কেউ। এঁদের বক্তব্য, তিন ওপেনারকে এক থেকে তিন নম্বর পর্যন্ত খেলিয়ে রুট নামুন চারে।

রুটের হাসফাঁসানি আরও বাড়ছে কারণ উল্টো দিকে বিরাট কোহালি দুর্ধর্ষ ফর্মে রয়েছেন। এই সিরিজ শুরুর আগে কোহালি, রুট, স্টিভ স্মিথ এবং কেন উইলিয়ামসনের মধ্যে কে সেরা সেই দ্বৈরথ ছিল। রুটের সঙ্গে দ্বৈরথকে এই সিরিজে ক্রমশ একপেশে করে দিচ্ছেন কোহালি। ট্রেন্ট ব্রিজের পরে ছয় ইনিংসে ভারত অধিনায়কের মোট সংগ্রহ ৪৪০। ইতিমধ্যেই দু’টি সেঞ্চুরি ও দু’টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তাঁর নামের পাশে। গড় ৭৩.৩৩। সেখানে পাঁচ ইনিংসে রুট করেছেন মোট ১৪২ রান। গড় মাত্র ২৮.৪০। মাত্র একটা হাফসেঞ্চুরি। কোনও সেঞ্চুরির দেখা নেই। তাঁর দলের সর্বোচ্চ স্কোরারও নন রুট। সেটা এখন জনি বেয়ারস্টো।

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে মোরিনহোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে রকম প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তা হয়তো এখনও ইংল্যান্ডের অধিনায়ক রুট বা কোচ ট্রেভর বেলিসকে নিয়ে হয়নি। তার একটা কারণ অবশ্যই মোরিনহোর বদলি হিসেবে জিনেদিন জিদানের নাম উঠেছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। সে রকম কোনও বিকল্প বড় নাম ইংল্যান্ডের হাতে নেই। তাদের সেরা বাজি অবশ্যই জো রুট।

কিন্তু যদি সাউদাম্পটনেও ইংল্যান্ড হারে, অধিনায়ক এবং কোচের জন্য আকাশ কালো করে আসবে না, নিশ্চয়তা কোথায়? এখন ইংল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমে টার্গেট বেন স্টোকস। পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারেন অ্যালেস্টেয়ার কুক। সিরিজে এখনও রান পাননি প্রাক্তন অধিনায়ক। গুঞ্জন শুরু হয়েছে, আর কত দিন ওঁকে টানা হবে? রুট প্রবল ভাবে তাঁর পূর্বসূরির পাশে দাঁড়িয়েছেন কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, তিনি ক’জনের পাশে দাঁড়াবেন? রান না পাওয়া রুট, জেনিংস, অলি পোপ। রাস্তায় মারামারি করা বেন স্টোকস।

চলতি সফরে প্রথম বার লন্ডনে এসে কোহালিরা ফুরফুরে মেজাজে। আর রুটরা চাপে! বলে না, ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা। কখন কাকে মাথায় তুলবে, কাকে পথে বসাবে কেউ জানে না!

Cricket Test India England Ravichandran Ashwinn London
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy