Advertisement
E-Paper

পুরনো ফাঁদে পা দিতে না চেয়েই নিজেদের মতো প্রস্তুতির ছক

যে সফরকে ইতিমধ্যেই ‘বদলার সিরিজ’ আখ্যা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঁচিশ বছর ধরে আজ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনও টেস্ট সিরিজ জেতেনি কোনও ভারতীয় ক্রিকেট দল।

সুমিত ঘোষ

শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৪:২৪
আস্থা: ধোনির উপরে ভরসা আছে টিম ইন্ডিয়ার। ফাইল চিত্র

আস্থা: ধোনির উপরে ভরসা আছে টিম ইন্ডিয়ার। ফাইল চিত্র

মাঝে আর মাত্র ছ’টা দিন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য উড়ে যাবেন তাঁরা। যে সফরকে ইতিমধ্যেই ‘বদলার সিরিজ’ আখ্যা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঁচিশ বছর ধরে আজ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনও টেস্ট সিরিজ জেতেনি কোনও ভারতীয় ক্রিকেট দল। কী ভাবে ডিভিলিয়ার্সের দেশের অগ্নিপরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে রবি শাস্ত্রী ও বিরাট কোহালির ভারত? খোঁজখবর করে যা পাওয়া গেল—

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রস্তুতি বাতিল: বিশ্ব ক্রিকেটের সনাতনী পদ্ধতি, সফররত দল সিরিজ শুরু করার আগে প্রথমে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে। কখনও দু’টি বা কমপক্ষে একটি ওয়ার্ম আপ ম্যাচ থাকবেই। এ বারে কোহালিদের সফর ব্যতিক্রম। প্রস্তুতি ম্যাচ প্রথমে সূচিতে থাকলেও তা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দলের আপত্তিতেই যে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু কেন? দেখা যাচ্ছে বেশ কয়েকটি যুক্তি রয়েছে ভারতীয় দলের এমন সিদ্ধান্তের পিছনে।

সময় কোথায় হাতে: ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের যুক্তি হচ্ছে, একেই দক্ষিণ আফ্রিকায় নামার পরে হাতে বেশি দিন সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ২৬ ডিসেম্বর কোহালির রিসেপশনে যোগ দেওয়ার পরে ২৭ ডিসেম্বর রাতে মুম্বই থেকে উড়ান ধরবে ভারতীয় দল। ২৯ তারিখের আগে মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই। ৫ জানুয়ারি প্রথম টেস্ট কেপ টাউনে। অর্থাৎ, প্রস্তুতির জন্য সময় পাওয়া যাচ্ছে সাত দিন মতো। তা-ও আবার ১ জানুয়ারি নিউ ইয়ারের ছুটি দিতেই হবে গোটা দলকে। এত কম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা সম্ভব হবে কী করে?

আরও পড়ুন: কুড়ি জনের বিশেষ ‘পুল’ তৈরির ভাবনা

ওরা গুলিয়ে দিতে পারে: সময়ের অভাবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে প্রস্তুতির প্রক্রিয়া ছেড়ে দিলে, তারা দূর-দূরান্তে পাঠাত ভারতীয় দলকে। এমনই ধরে নিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ক্রিকেটে এটা খুব পুরনো ছক। বিদেশি দল এলেই স্থানীয় বোর্ড তাদের দূরের কোনও জায়গায় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে ঠেলে পাঠিয়ে দেবে। আর সেই প্রস্তুতি ম্যাচে দেওয়া হবে ক্লাব স্তরের সব বোলার। এক কথায়, কাঁটা দিয়ে অতিথি বরণ। যাতে সঠিক প্রস্তুতি না পায় বিদেশিরা এবং ল্যাজেগোবরে হয়ে প্রথম টেস্ট খেলতে নামে তারা। ভারতীয় দল পুরনো এই ফাঁদে পা দিতে চায়নি।

মহড়া: দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কৌশল তৈরি কোহালিদের। ফাইল চিত্র

দূর-দূরান্তে যাব কোন দুঃখে: হেড কোচ রবি শাস্ত্রী বলে দেন, তাঁরা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন না। তার বদলে নিজেদের পেস বোলারদের অতিরিক্ত সদস্য হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যাতে দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ডের সরবরাহ করা এলেবেলে বোলারদের না খেলতে হয়। শাস্ত্রী আনন্দবাজার-কে বলে দিলেন, ‘‘সেই কোন ভাগাড়ে পার্লে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে যাব কোন দুঃখে! তা-ও আবার দেবে তো ক্লাব স্তরের সব বোলার। তার চেয়ে আমরা নিজেদের বোলারদের নিয়ে গিয়ে নিজেদের মতো করে তৈরি হবো।’’ শাস্ত্রীর ইচ্ছা মতো ভারতীয় বোর্ড কথা বলে দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ডের সঙ্গে। তাদের জানিয়ে দেয়, প্রস্তুতি ম্যাচের আর দরকার নেই।

নতুন ভাবনা স্বাগত: বিশ্ব ক্রিকেটে অনেকে শাস্ত্রীদের এই উদ্ভাবনী শক্তি দেখে উৎসাহিত। নানা দেশের অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার টুইট করে লিখেছেন যে, এটা একটা নতুন ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে ক্রিকেটে। সফরকারী দল প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলে নিজেদের বোলার সঙ্গে নিয়ে এসে নিজেদের মতো করে তৈরি হচ্ছে— এমন উদাহরণ ছিল না ক্রিকেটে। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্লাব স্তরের বোলারদের খেলে যে কোনও লাভই হয় না, সেটা সকলেই জানেন। কিন্তু কেউ এমন পদক্ষেপ করার সাহস দেখাতে পারেননি। ভারতে যখন অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে এসেছে, কোনও ভাল মানের স্পিনারকে প্রস্তুতি ম্যাচে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য দেশও তেমনই ভাল পেস বোলার প্রস্তুতি ম্যাচে দিত না ভারত গেলে। কোহালিদের নতুন নকশা পাল্টে দিতে পারে বহুকালের প্রক্রিয়াকে।

ভবিষ্যতে দেখা যাবে: হেড কোচ রবি শাস্ত্রী যদিও বললেন, ভবিষ্যতে সিরিজ শুরুর আগে যদি বেশ কিছু দিন সময় পান, তা হলে প্রস্তুতি ম্যাচের কথা ভাবা যেতে পারে। এটা নাকি পাকাপাকি ভাবে কোনও নীতি বদল নয় যে, কখনও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবই না। তবু মনে হচ্ছে, ধনী বোর্ডগুলোর সামনে একটা নতুন পথ খুলে গেল। নিজেদের টাকা খরচ করে দেশ থেকে অতিরিক্ত বোলার নিয়ে গিয়ে প্রস্তুতি সেরে ফেলার ছক অনেক দেশই অনুসরণ করতে পারে।

নিউল্যান্ডসে বসছে শিবির: টেব্‌ল মাউন্টেনে ঘেরা মনোরম কেপ টাউনে কোহালিদের প্রথম টেস্ট ম্যাচ। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে কেপ টাউনকেই তাই ডেরা করছে ভারত। সেখানকার নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে প্রস্তুতি শিবির করা হচ্ছে। দেশ থেকে দ্রুতগামী সব ফাস্ট বোলার বেছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট ও বাউন্সি পিচে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যথাযথ প্র্যাকটিস দিতে পারেন। অতিরিক্ত বোলারদের দলে রয়েছেন বাসিল থাম্পি, নবদীপ সাইনিদের মতো উঠতি পেসার। এঁরা ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কিলোমিটার বেগে বল করতে পারেন। প্রয়োজনে বাইশ গজের ক্রিজ ছোট করে আঠেরো গজেও অনুশীলন করানো হতে পারে কোহালিদের। তবে বাংলাকে পুণেতে ধরাশায়ী করা সাইনি যেতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে যে হেতু তাঁর দল দিল্লি রঞ্জি ফাইনালে উঠেছে। তিনি না পারলে নতুন কাউকে নেওয়া হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে কী ধরনের তারতম্য করা দরকার বা ব্যাটিং-বোলিংয়ের টেকনিক্যাল দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা তো হবেই, টিম বন্ডিংয়ের জন্যও নিজেদের মতো করে আয়োজন করা এই শিবিৈর খুব কাজে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Cricket Indian Cricket Team South Africa tour Planning
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy