Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

টিমকে বিঁধলেন আর এক প্রাক্তন অধিনায়ক

মোরিনহো ধার করে ভারতের সামনে ‘বাস পার্ক’ চান ভন

নিজস্ব প্রতিবেদন
০২ নভেম্বর ২০১৬ ০৩:২১

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিপর্যয়ের পরে ইংল্যান্ডের ভারত সফর নিয়ে যে কতটা চিন্তায় বিলেতের প্রাক্তনরা, তা ক্রমশ পরিষ্কার হয়ে উঠছে। প্রথমে ইয়ান বোথাম প্রশ্ন তুলেছিলেন টিম কম্বিনেশন নিয়ে। বব উইলিস তো সোজাসুজি বলেই দিয়েছেন যে, তাঁর দেশের পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটকে লজ্জায় ফেলে দিয়েছে!

এ দিন সেই তালিকায় যোগ হল আর এক প্রাক্তনের নাম— মাইকেল ভন। এবং তিনি মনে করেন, ভারতের বিরুদ্ধে একটাই রাস্তা পড়ে আছে তাঁর দেশের সামনে।

বাস পার্ক করে!

Advertisement

ব্যাপারটা আর কিছুই নয়— রক্ষণের শেষ সীমান্তে চলে যাওয়া। প্রতিপক্ষকে কোনও রকম সুযোগ না দেওয়া। এবং বিপক্ষকে এতটাই বিরক্ত করে ফেলা যে, তারাই নিজে থেকে কোনও না কোনও ভুল করে বসবে।

থিওরিটা ক্রিকেটে নতুন। ফুটবলে এটাকে বিখ্যাত করেছেন জোসে মোরিনহো। ইন্টার মিলানের কোচ থাকাকালীন তাঁর টিম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনাল খেলতে নেমেছিল বার্সেলোনার বিরুদ্ধে। এবং লিওনেল মেসিকে গোলের ন্যূনতম সুযোগ দেবেন না বলে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলিয়েছিলেন ইন্টারের পর্তুগিজ কোচ। পরে বলেছিলেন, ‘‘মেসির সামনে তো বাস পার্ক করে দিলাম!’’

সেই থিওরি ভন ক্রিকেটে আমদানি করার কথা ভাবছেন মানে বোঝাই যাচ্ছে, ভারত এবং ইংল্যান্ড, দুটো টিমের পার্থক্য তাঁর চোখে কী!

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক সোজাসুজি বলেই দিয়েছেন, ভারতের বিরুদ্ধে অ্যালিস্টার কুকদের বিশেষ আশা দেখছেন না তিনি। তাঁর মন্তব্য, ‘‘দেখুন, বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের না আছে অভিজ্ঞতা। না আছে বাড়তি কোনও ফ্যাক্টর। বল হাতে ভারতকে ওরা কোনও ভাবেই আটকাতে পারবে না। তবু তো ম্যাচে থাকার চেষ্টা করতে হবে।’’

কী ভাবে?

ভন বলছেন, ‘‘বাংলাদেশের মতো যদি ভারতেও খেলতে চায় কুক, তা হলে ভারত তো হাসতে হাসতে টোস্ট সহকারে ইংল্যান্ডকে খেয়ে ফেলবে। ৫-০ হোয়াইটওয়াশ হবে ইংল্যান্ড, কোনও প্রশ্নই নেই।’’ সঙ্গে সংযোজন, ‘‘এটাকে যদি নেগেটিভ ক্রিকেট বলা হয়, তা হলে কুকদের বলব নেগেটিভ ক্রিকেটই খেলো তোমরা। ওরা একটা উপায়েই লড়ার চেষ্টা করতে পারে— বিপক্ষকে বিরক্ত করে, হতাশ করে ওদের ভুল করতে বাধ্য করানো।’’

অ্যালিস্টার কুককে আরও একটা পরামর্শ দিয়েছেন ভন। বলে দিয়েছেন যে, কোনও ভাবেই দলে রাখা যাবে না গ্যারি ব্যালান্সকে।

কেন? কারণ ইয়র্কশায়ারের এই ক্রিকেটারের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের বড় অভাব চোখে পড়ছে প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দুটো টেস্টের চার ইনিংস মিলিয়ে ব্যালান্সের মোট রান ২৪। অথচ ছাব্বিশ বছরের ইংরেজ ব্যাটসম্যানের টেস্ট কেরিয়ার শুরু হয়েছিল দারুণ সম্ভাবনার মধ্যে। নিজের প্রথম দশ টেস্ট ইনিংসে তাঁর রান ৫৯০। কিন্তু গত আটটা টেস্ট ইনিংসে ব্যালান্সের গড় মাত্র ১৮।

যা দেখে ভন বলে দিয়েছেন, ‘‘ও যখন প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছিল, তখন ব্যালান্স যা প্লেয়ার ছিল, এখন ওকে দেখে মনে হচ্ছে তার ধারেকাছেও নেই।’’

জোনাথন ট্রট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর ব্যাটিং অর্ডারে তাঁর জায়গাটা দেওয়া হয় জিম্বাবোয়েতে জন্ম নেওয়া গ্যারি ব্যালান্সকে। কিন্তু গত বছর নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর ফর্ম এতটাই খারাপ ছিল যে, অ্যাসেজের তৃতীয় টেস্টের দল থেকে বাদ পড়ে যান। ভন বলছেন, ‘‘ওকে দেখে মনে হচ্ছে কোনও গেমপ্ল্যান নেই ওর।’’ তিনি মনে করেন, ভারত সফরে ব্যালান্সকে বাদ দিয়ে কেন্টের স্যাম বিলিংসকে দলে নেওয়া উচিত।

ইংল্যান্ডের হয়ে ৫১ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া ভনের ব্যাখ্যা, ‘‘ব্যালান্সের টেকনিক নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। যে মুহূর্তে বল ঘুরছে বা সুইং করছে, ওর টেকনিক দেখে মনে হচ্ছে সেটা নিয়ে ব্যালান্স বেশিক্ষণ ক্রিজে বেঁচে থাকতে পারবে না।’’ সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘‘ইংল্যান্ডের এই টিমটা নিয়ে এটাই আমার আসল চিন্তা। মিডল অর্ডারে ব্যালান্সের বদলি হিসেবে শুধু জস বাটলারকে দেখতে পাচ্ছি। আমি যদি টিমের সঙ্গে থাকতাম, তা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আর একজন ডান-হাতি ব্যাটসম্যানকে ভারত পাঠানোর ব্যবস্থা করতাম। স্যাম বিলিংস আমার পছন্দ।’’

প্রাক্তন ইংরেজ ব্যাটসম্যান গ্রাহাম থর্প মনে করেন, তাঁদের দেশে এখন স্পিন মোকাবিলার সেরা বাজি স্যাম বিলিংস। ‘‘এতে নেতিবাচক কিছু নেই কিন্তু। এটা তো সাধারণ বুদ্ধি দিয়েই বোঝা যায়। টিমে আরও বেশি ডান-হাতি ব্যাটসম্যান দরকার। ইনিংসের মাঝে যারা আরও বেশি লড়াই করতে পারবে। যে টিম নিয়ে ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছে, সেখানে তো মিডল অর্ডারে সে ভাবে বিকল্পই নেই,’’ বলছেন ভন।

আরও পড়ুন

Advertisement