নোভাক জোকোভিচ বনাম কার্লোস আলকারাস। ৩৮ বছরের প্রবীণ বনাম ২৪ বছরের নবীন। প্রাক্তন সম্রাট বনাম বর্তমান রাজা। দু’জনেই সেমিফাইনালে ম্যারাথন দ্বৈরথ জিতে ট্রফির যুদ্ধে নামছেন। এক জন ২৪-এর গাঁট পেরিয়ে রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের খোঁজে। অন্য জন সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার অপেক্ষায়। এক জন সব চেয়ে বেশি বয়সে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার চেষ্টায়। অন্য জনের লক্ষ্য কনিষ্ঠতম হিসেবে কেরিয়ার স্ল্যাম জয়। রবিবার কার মাথায় উঠবে অস্ট্রেলীয়ওপেনের মুকুট?
অস্ট্রেলীয় টিভি চ্যানেল রাফায়েল নাদালের কাছে জানতে চেয়েছিল, তাঁর ভোট কার দিকে? নাদাল বলেছেন, ‘‘নোভাক মহাকাব্য লিখে চলেছে। ওকে রবিবারের ফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তবে কার্লোস আমার দেশের সতীর্থ, ওর সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক, অলিম্পিক্সেও একসঙ্গে খেলেছি।’’ ২২টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক যোগ করছেন, ‘‘নোভাক জিতলে নিশ্চয়ই খুশি হব। কিন্তু কোনও এক জনকে যদি সমর্থন করতে হয়, তাহলে কার্লোসকেই করব।’’
এখনও পর্যন্ত গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জোকোভিচ ও আলকারাসের দেখা হয়েছে পাঁচ বার। এর মধ্যে আলকারাস জিতেছেন তিন বার, জোকোভিচ দু’বার। গতবারের অস্ট্রেলীয় ওপেন কোয়ার্টার ফাইনালে ফেভারিট আলকারাসকে হারিয়ে অন্যতম সেরা অঘটন ঘটিয়েছিলেন নোভাক। এর পর যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ফাইনাল জিতে জবাব দেন আলকারাস। সব মিলিয়ে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচে দু’জনের মুখোমুখি সাক্ষাতে জোকোভিচ এগিয়ে ৩১-২৯।
রোলঁ গারোস যেমন নাদালের দুর্গ, তেমনই মেলবোর্ন পার্ক জোকোভিচের ঘর। রেকর্ড ১০টি খেতাব জিতেছেন এখানে। ১১৪টি ম্যাচের মধ্যে জিতেছেন ১০৪টিতে। এ বারে ফাইনালে উঠতে ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছেন সন্দেহ নেই। চতুর্থ রাউন্ডে প্রতিপক্ষ ইয়াকুব মেনসিক চোটের জন্য সরে দাঁড়ান। কোয়ার্টার ফাইনালে দুই সেটে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ইটালির লোরেনজো মুসেত্তিকে ম্যাচ ছেড়ে দিতে হয়। জোকোভিচ নিজে ম্যাচের পরে কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘‘আজই আমার বাড়ি চলে যাওয়ার দিন ছিল। মুসেত্তিনিশ্চিত ভাবেই জিতত।’’
তখন কে ভেবেছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেমিফাইনালে বারো বছরের ছোট ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে তিনিই বলবেন, ‘‘অনেকে আমাকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিল। আমি করিনি। নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা নিয়ে কখনও প্রশ্ন তৈরি হয়নি আমার মনে!’’ অন্যদিকে আলকারাস এতটাই মরিয়া অধরা অস্ট্রেলীয় ওপেন জিতে কেরিয়ার স্ল্যাম সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে যে, বল দিয়েছেন, ‘‘যদি বাছতে বলা হয়, বাকি তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছেড়ে দিয়ে এ বার শুধু মেলবোর্ন পার্কে জিততে চাইব।’’
দু’জনের বয়সের ব্যবধান সাম্প্রতিক অতীতে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, এ বারও কি দিতে পারে? জোকোভিচ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘কার্লোসকে ম্যারাথন ম্যাচ খেলতে হয়েছে কিন্তু ও আমার চেয়ে ১৫-১৬ বছরের ছোট। ওর জন্য দ্রুত সেরা সক্ষমতায় ফিরে আসাটা অপেক্ষাকৃত সহজ।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমি এখন টেনিস খেলি মূলত গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠার জন্য। সেটা হয়ে গিয়েছে। আমার অভিযোগ করার আর কোনও জায়গা নেই।’’
সত্যিই কি তাই? আর একটি জোকোভিচ-হেঁয়ালি যার রহস্যে হারিয়ে গেলেন এ যুগের অন্যতম সেরা সিনার? রবিবারই বোঝা যাবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)