অপেক্ষার অবসান। ২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২১-এর ১১ জুলাই তা যেন একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করল।
মাত্তেয়ো বেরেত্তিনিকে হারিয়ে ষষ্ঠ উইম্বলডন খেতাব জিতলেন নোভাক জোকোভিচ। টানা তিন বার। কিন্তু এই পরিসংখ্যান এবার গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব থেকে তাৎপর্য্যপূর্ণ হল, তিনি ছুঁয়ে ফেললেন টেনিস ইতিহাসের অন্যতম দুই সেরা খেলোয়াড় রজার ফেডেরার, রাফায়েল নাদালের ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ডকে।
যদিও রবিবার উইম্বলডন না জিতলেও জোকোভিচের কিছু যায় আসত না। ফেডেরার, নাদাল যখন কেরিয়ারের একেবারে শেষের দিকে, তখন জোকোভিচের হাতে এখনও অনেক সময় রয়েছে। ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার পর তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন সেটা কেউ জানেন না। এ বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ইউএস ওপেন জিতলেই দুই খেলোয়াড়কে টপকে যাবেন জোকোভিচ। ফলে বাকিদের থেকে এগিয়ে ছা.গ.ল. (G.O.A.T. - গ্রেটেস্ট অব অল টাইম) হওয়া তাঁর কার্যত নিশ্চিত।
— Wimbledon (@Wimbledon) July 11, 2021
2011
2014
2015
2018
2019
2021#Wimbledon | @DjokerNole pic.twitter.com/UrFvlsgIzY
— Wimbledon (@Wimbledon) July 11, 2021
Teamwork makes the dream work
#Wimbledon | @DjokerNole pic.twitter.com/EfXpaTfoAo
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার লড়াইয়ে জোকোভিচ ৬-৭, (৪-৭), ৬-৪, ৬-৪, ৬-৩ গেমে হারালেন ইটালির বেরেত্তিনিকে। তবে হেরে গেলেও মন ছুঁয়ে থাকল বেরেত্তিনির খেলা। গোটা ম্যাচ জুড়ে জোকোভিচের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সার্বিয়ার খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা এবং নৈপুণ্যের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
বেরেত্তিনির ব্যাকহ্যান্ড নেটে আছড়ে পড়া মাত্রই র্যাকেট ফেলে দিয়ে ঘাসের কোর্টে শুয়ে পড়লেন জোকোভিচ। কিছুক্ষণ পরেই উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে গেলেন নিজের কোচিং বক্সের দিকে। এতক্ষণ সেখানে উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছিলেন গোরান ইভানিসেভিচ এবং মারিয়ান ভাজদা। দু’জনকেই জড়িয়ে ধরলেন জোকোভিচ।
— Wimbledon (@Wimbledon) July 11, 2021
Teamwork makes the dream work
#Wimbledon | @DjokerNole pic.twitter.com/EfXpaTfoAo
— Wimbledon (@Wimbledon) July 11, 2021
#Wimbledon | @DjokerNole pic.twitter.com/BAkVtq81mK
Just look at that smile
— Wimbledon (@Wimbledon) July 11, 2021#Wimbledon | @DjokerNole pic.twitter.com/awIaLyJ0Wt
উইম্বলডন জিতলেই কোর্টের ঘাস ছিঁড়ে মুখে নিয়ে চিবোতে দেখা যায় তাঁকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। র্যাকেট দিয়ে দিলেন এক খুদে ভক্তকে। এরপর উইম্বলডনের বিখ্যাত বল রুমে গিয়ে দেখা করলেন প্রিন্স চার্লস এবং কেটের সঙ্গে।
বেরেত্তিনির বিরুদ্ধে জয় যে সহজে আসবে না সেটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। প্রথম গেম থেকেই টান টান লড়াই উপহার দিয়েছেন কলকাতার ডেভিস কাপ খেলে যাওয়া বেরেত্তিনি। প্রথম সেটে এক সময় জোকোভিচ এগিয়ে গিয়েছিলেন ৪-১ গেমে। সেখান থেকে তাঁকে ব্রেক করে খেলা ঘুরিয়ে দেন বেরেত্তিনি। ম্যাচ ৫-৫ হয়ে যায়। টাই-ব্রেকারে সেট পকেটে পোরেন ইটালির খেলোয়াড়।
তবে প্রথম সেটে হেরে গিয়ে নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নেন জোকোভিচ। দ্বিতীয় সেট থেকে আর রোখা যায়নি তাঁকে। অবিশ্বাস্য রিটার্ন, ব্যাকহ্যান্ড, ফোরহ্যান্ড — টেনিসের এমন কোনও অস্ত্র নেই যা তিনি বেরেত্তিনির বিরুদ্ধে কাজে লাগাননি। ইটালির খেলোয়াড়ের পক্ষে সেই চাপ সহজ ছিল না। বেরেত্তিনি ভুল করতে শুরু করলেন, ম্যাচও ঢলে পড়ল জোকোভিচের দিকে।