Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২০ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

আই লিগে ক্লাবহীন আইএসএল-এর ‘উইনিং স্কোরার’ জুয়েল রাজা

তাঁর পা থেকেই এসেছিল উইনিং গোল। টাইব্রেকারে দুরুদুরু বুকে নয়, একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই গোলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।

সুচরিতা সেন চৌধুরী
০২ জানুয়ারি ২০১৭ ১৫:৩০
Save
Something isn't right! Please refresh.
জুয়েল রাজা। ফাইল চিত্র।

জুয়েল রাজা। ফাইল চিত্র।

Popup Close

তাঁর পা থেকেই এসেছিল উইনিং গোল। টাইব্রেকারে দুরুদুরু বুকে নয়, একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই গোলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি জুয়েল রাজা। নিজেই যেচে চেয়ে নিয়েছিলেন শেষ শটটা। আর তাতেই বাজিমাত!

জুয়েলের পেনাল্টি শট কেরল গোলে আছড়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ! কোচির স্টেডিয়ামে তখন পিন পড়লেও শব্দ শোনা যাবে। আবারও সেই কলকাতা। আবারও আইএসএল ফাইনাল। আবারও হার! এ বার শুধু বদলে গিয়েছে গোলদাতার নাম। প্রথম আইএসএল-এ মহম্মদ রফিকের শেষ মুহূর্তের একমাত্র গোলে বাজিমাত করেছিল অ্যাটলেটিকো দ্য কলকাতা। এ বার টাইব্রেকারের শেষ শটে জয় ছিনিয়ে এনে কলকাতাকে চ্যাম্পিয়ন করেন জুয়েল রাজা। শহরে ফিরে উচ্ছ্বাসে ভাসলেন, সমর্থকদের কাঁধে চেপেই প্রায় বাড়ি ফিরলেন। কিন্তু তার পর কী? উৎসব শেষে ভাঙা হাঁটে এখন শুধু টুকরো টুকরো স্মৃতি পড়ে রয়েছে। ফুটবলের স্মৃতি। যখন তাঁর প্রায় সব সতীর্থই আইএসএল শেষে যোগ দিয়েছেন নিজেদের ক্লাবে, প্রস্তুতি নিচ্ছেন আই লিগের, ঠিক তখন বজবজের বাড়িতে বসে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়ে উইনিং স্কোরার, জুয়েল রাজা।

নাম রেখেছিলেন বাবা। ছেলে ফুটবল খেলবে ভেবেই পছন্দের ফুটবলারের নামে বাড়ির ছোট ছেলের নাম রেখেছিলেন জুয়েল রাজা। দাদা তারিফ আহমেদও খেলতেন। দীর্ঘ দিন খেলেছেন জাতীয় দলে। তার পর জুয়েল। জাতীয় জুনিয়র দল থেকে সিনিয়র দল। ডেম্পো, মোহনবাগানের মতো ক্লাব খেলে আজ ‘ক্লাবহীন’ জুয়েল। সিইএসসি-র চাকরিটাই একমাত্র সম্বল। কী করছেন আজকাল? জবাব এল, ‘‘বাড়িতে বসে আছি। কী আর করব? ভেবেছিলাম আইএসএল-এর পর কেউ ডাকবে।’’ কিন্তু, কোথায় কী! পেশাদার সাংবাদিককে তাই প্রশ্ন ছুড়ে বসেন, ‘‘আমি কি আইএসএল-এ খারাপ খেলেছি?’’ এ ভাবে যে হিসেব হয় না। এ ভাবে স্বপ্নওগুলোও মেলে না। প্রথম আইএসএল-এ যাঁর একমাত্র গোলে কলকাতা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সেই মহম্মদ রফিককেও তো পরের বছর অ্যাটলেটিকো কলকাতা আর দলেই রাখেনি। সেটা মনে আছে জুয়েলের। তাও আশা, পরের বছরও অ্যাটলেটিকো কলকাতা তাঁকে দলে রাখবে। তাঁর কথায়, ‘‘সেই আশাতেই আছি। পরের বছরও আইএসএল-এ কলকাতা আমাকে রাখবে। কোচ তো আমাকে পছন্দই করতেন।’’ একটু থেমে যেন নিজেকেই বললেন, ‘‘কিন্তু, ক্লাব না পেলে জানবে কী করে, আমি কী অবস্থায় আছি? সারা বছর না খেললে নিজেকে প্রমাণই বা করব কী করে?’’

Advertisement

আরও পড়ুন: বোর্ড সভাপতির পদ থেকে অনুরাগ ঠাকুরকে অপসারণ করল সুপ্রিম কোর্ট

আশা একটা এখনও রয়েছে। কোনও না কোনও দল ডাকবেই। এ বারের আই লিগে নতুন দুটো দল যোগ দিয়েছে। পঞ্জাব থেকে মিনার্ভা পঞ্জাব ও চেন্নাই থেকে চেন্নাই সিটি। অনেক পরিচিত মুখ আবার ফিরে আসবে ফুটবলের মূল স্রোতে। ঠিক যে ভাবে ফুটবলের মূল স্রোতে আবার ফিরল পঞ্জাব ও চেন্নাই। কিন্তু, এখনই বিগ বাজেটের দল গড়ার পথে হাঁটছে না নবাগত দুই দল। তাই এক দু’জন বড় নামকে সামনে রেখে স্থানীয় নতুন মুখদের নিয়েই দল তৈরির পথে নেমেছে তারা। ট্রায়াল নিয়ে প্লেয়ারদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে জুয়েলরা যথেষ্ট বড় নাম ভারতীয় ফুটবলে। তাঁদের ট্রায়াল দিয়ে দলে জায়গা পাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাই একটু অপেক্ষা করতে চান জুয়েল। বললেন, ‘‘আই লিগটা শুরু হোক। মরশুমের মাঝেও তো দলগুলো প্লেয়ার নেয়। যদি তখন ডাকে। সেই অপেক্ষায় রয়েছি।’’

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগানের দল তৈরি। কলকাতায় যে আর খেলা হচ্ছে না সেটা বুঝে গিয়েছেন। মোহনবাগানে অতীতে খেলেছেন। কিন্তু, তারা আর তাঁকে ডাকবে বলে মনে করেন না জুয়েল। টাকা না পেয়ে তিনিই তো মামলা করেছিলেন ক্লাবের বিরুদ্ধে। যদিও শেষ পর্যন্ত সব টাকাই পেয়ে গিয়েছেন তিনি। তবুও এখনই মোহনবাগানে ফেরার কথা ভাবছেন না। বললেন, ‘‘এখন মন দিয়ে চাকরিটা করি। পদোন্নতিও হয়েছে। সঙ্গে নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। যাতে যখনই ডাক আসুক না কেন, যেন নিজের সেরাটা দিতে পারি।’’ হতাশাকে জোর করে ভিতরে চেপে রাখার চেষ্টা করেন জুয়েল। সব কথার শেষেই সেই চেনা হাসিটা দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু কোথাও যেন একটা শূন্যতাও টের পাওয়া যায়।

বজবজের বাড়িতে প্রতি দিন সকালে ঘুম ভাঙে একটা স্বপ্ন নিয়ে। ফোনটা বেজে উঠবে। আর ও পাশ থেকে কেউ বলবে, ‘‘জুয়েল আমাদের দলের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে আপনার মতো কাউকে চাই। আপনি কবে আমাদের ক্লাবে জয়েন করতে পারবেন?’’ ২৬ বছরের এই মিডিও এখন কেরিয়ারের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। স্বপ্নের উড়ান কিছুটা নিম্নমুখী। মাটি ছুঁয়ে ফের উড়ালের অপেক্ষায় জুয়েল রাজা।



Something isn't right! Please refresh.

আরও পড়ুন

Advertisement