বহু বছর পর কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামে পুরুষ ও মহিলা দুই বিভাগের সিঙ্গলসে নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়া যাবে। বুধবার আরও একটি অঘটন ঘটেছে এই প্রতিযোগিতায়। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছেন মহিলাদের শীর্ষবাছাই বেলারুশের এরিনা সাবালেঙ্কা। ২৫ নম্বর খেলোয়াড় রাশিয়ার ডিয়ানা শ্নাইডারের কাছে তিন সেটের লড়াইয়ে (৬-৩, ৫-৭, ০-৬) হেরেছেন তিনি। ফলে সাবালেঙ্কার প্রথম ফরাসি ওপেন জয়ের স্বপ্ন এখনও অধরা থেকেই গেল।
এ বারের প্রতিযোগিতার শুরু থেকে অঘটন ঘটছে। পুরুষদের সিঙ্গলসে ইয়ানিক সিনার, নোভাক জোকোভিচ বিদায় নিয়েছেন। মহিলাদের সিঙ্গলসে ইগা শিয়নটেক, কোকো গফেরাও নেই। কোয়ার্টার ফাইনালে পুরুষ ও মহিলা খেলোয়াড়দের মধ্যে একমাত্র সাবালেঙ্কাই ছিলেন গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী। তিনিও বিদায় নিলেন। অর্থাৎ, পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের সিঙ্গলসেও এ বার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাবে ফরাসি ওপেন।
শ্নাইডার কেরিয়ারে প্রথম বার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে নেমেছিলেন। ফলে তাঁরই বেশি চাপে থাকার কথা। শুরুটা সেভাবেই হয়েছিল। প্রথম সেটে সহজে জিতে নেন সাবালেঙ্কা। দেখে মনে হচ্ছিল, স্ট্রেট সেটে জিতবেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় সেটে খেই হারালেন তিনি।
আরও পড়ুন:
সাবালেঙ্কা এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি কখন কেমন খেলবেন, তা তিনি নিজেই জানেন না। খুব সহজে মেজাজ হারান তিনি। এই ম্যাচেও তাই হল। ৫৭টি আনফোর্সড এরর করলেন সাবালেঙ্কা। সেই সুবিধা কাজে লাগালেন শ্নাইডার। টানা ১৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টার ফাইনালে নেমেছিলেন সাবালেঙ্কা। তাঁর মতো তারকাকে হারালেন শ্নাইডার। সেরিনা উইলিয়ামসকে ছোঁয়া হল না (টানা সাত গ্র্যান্ড স্ল্যামের সেমিফাইনাল) সাবালেঙ্কার।
গোটা ম্যাচে সাবালেঙ্কার সার্ভিস ভাঙার সুযোগ ২০ বার পেয়েছিলেন শ্নাইডার। সাত বার কাজে লাগাতে পারেন তিনি। যদি পারতেন তা হলে আরও খারাপ ভাবে হারতেন মহিলাদের এক নম্বর তারকা। দ্বিতীয় সেটের মাঝামাঝি থেকে আর দাঁঢ়াতে পারেননি সাবালেঙ্কা। বিশেষ করে তৃতীয় সেটে তিনি হতাশ করলেন। একটিও গেম জিততে পারলেন না। টানা ১০টি গেম জিতে ম্য়াচ জিতলেন শ্নাইডার। সেমিফাইনালে তাঁর সামনে পোল্যান্ডের মাজ়া চোয়ালিনস্কা। ত্রমতালিকায় ১১৪ নম্বরে থাকা খেলোয়াড় এ বার অবাছাই হিসাবে খেলছেন। সেই তিনিই সকলকে অবাক করে দিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন। অপর সেমিফাইনালে মুখোমুখি অষ্টম বাছাই মীরা আন্দ্রিভা ও ১৫ নম্বর মার্তা কস্তিউক।