Advertisement
E-Paper

অন্ধকারেই চলে গেল দেশের চার ক্লাব

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ঝলমলে সংবর্ধনার দিনই বাংলার ফুটবলে নেমে এল অন্ধকার। পাকাপাকি ভাবে বাতিল করে দেওয়া হল রাজ্যের দুই নামী ক্লাব ঐতিহ্যবাহী মহমেডান স্পোর্টিং এবং চমকপ্রদ ভাবে উঠে আসা ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটির সিদ্ধান্তই মঙ্গলবার বজায় রাখল অ্যাপিল কমিটি। দুই ক্লাবের বাতিলের খবরে ক্ষুব্ধ ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০১৪ ০২:১৪

কলকাতা নাইট রাইডার্সের ঝলমলে সংবর্ধনার দিনই বাংলার ফুটবলে নেমে এল অন্ধকার।

পাকাপাকি ভাবে বাতিল করে দেওয়া হল রাজ্যের দুই নামী ক্লাব ঐতিহ্যবাহী মহমেডান স্পোর্টিং এবং চমকপ্রদ ভাবে উঠে আসা ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটির সিদ্ধান্তই মঙ্গলবার বজায় রাখল অ্যাপিল কমিটি।

দুই ক্লাবের বাতিলের খবরে ক্ষুব্ধ ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র। বলে দিলেন, “এটা ফেডারেশন ঠিক করেনি। এর সঙ্গে বাংলার স্বার্থ জড়িত। আমি ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট প্রফুল্ল পটেলকে কাল ফোন করে বলব সিদ্ধান্ত পাল্টাতে।” আইএফএ সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “কেন বাংলার দু’টো টিম বাতিল হল, তা ক্লাবগুলির কাছ থেকে জানব। সিদ্ধান্ত বদলের চিঠি দেব ফেডারেশনকে।” রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী বা উৎপলবাবু শেষ পর্যন্ত কী করতে পারবেন তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে। কারণ আই লিগের সিইও সুনন্দ ধর এ দিন বলে দিয়েছেন, “ক্লাবগুলির ফেরার কোনও জায়গা নেই। ওরা অ্যাপিল কমিটির সভায় নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছিল।”

দিল্লির ফুটবল হাউসের সভায় আই লিগ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়া হল এ বারের ফেড কাপ জয়ী চার্চিল ব্রাদার্স ও রাংদাজিদকেও। বাতিল করার এমন সব কারণ দেখানো হল, যা হাস্যকর। ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি যে সব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সেই সমস্যা সমাধানের জন্য কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছিল ক্লাবগুলো। কিন্তু সেগুলোকে গুরুত্বই দেওয়া হল না। বলে দেওয়া হল অ্যাপিল কমিটিতে এগুলো দেখার নিয়ম নেই। যেমন, যুবভারতী ব্যবহারের সরকারি চিঠি ইউনাইটেড কর্তা নিয়ে গেলেও তা দেখা হয়নি। জুনিয়র টিমের নথিভুক্তিতে কেন বাবা-মার সই নেই তা দেখিয়ে বাতিল করা হল আলো-নবাবের ক্লাবকে। মহমেডানের জুনিয়র টিমের কোচ রবিকুমারের কোচিং সাটির্ফিকেট দিয়েছিল ফেডারেশন। আবার সেই ফেডারেশনের অ্যাপিল কমিটিই এ দিন বলল, এটা বৈধ নয়। চার্চিলকে বলা হল, কেন ফুটবলারদের পেমেন্ট দেননি। পাল্টা তাদের প্রতিনিধি বললেন, “ফেডারেশনের থেকে যে পঁচিশ লাখ টাকা পাই, সেটা দিন।”

চার্চিল ব্রাদার্স ছাঁটাই হয়ে যাওয়ায় ওডাফা ওকোলি তীব্র সমস্যায়। তাঁকে এখন নতুন ক্লাব খুঁজতে হবে। তবে বলবন্ত সিংহ, রাভানন-সহ টার্গেটে থাকা চার্চিলের জনা চারেক ফুটবলার পেতে অসুবিধা হবে না মোহনবাগানের। যেমন ইউনাইটেডের এরিক, বেলোরা সমস্যায় পড়লেন। তাঁদেরও টিম নেই। অন্য ফুটবলারদের হাল তো আরও খারাপ।

পঁচিশ বছর ধরে আড়াইশো কোটি টাকা খরচ করে ক্লাব চালানো চার্চিল পরিবারের হয়ে সওয়াল করতে এসেছিলেন চার্চিল আলেমাওয়ের মেয়ে ভালাঙ্কা। শেষ লাইফলাইন অন্ধকারে চলে যাওয়ার পর কেঁদে ফেলেন তিনি। বলে যান, “আমরা আর টিম রাখব না।” তাঁর বাবা আলেমাও গোয়া থেকে মেয়ের মন্তব্য সমর্থন করে বলেন, “আইএসএলকে জায়গা করে দিতে আই লিগ ক্লাবকে মেরে ফেলা হচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে।” ইউনাইটেড কর্তা নবাব ভট্টাচার্যের আবার কটাক্ষ, “আই লিগ ছোট করে যদি ভারতীয় ফুটবল পেশাদার হয়, তা হলে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত।” আর মহমেডান কর্তা রাজু আমেদ বললেন, “ওরা তো আমাদের অর্ধেক প্রশ্নের উত্তরই দিতে পারল না। চেপে ধরলে বলছে ভুল হয়েছে।” দিল্লির খবর, এ দিন কমিটির লোকেদের অনড় মনোভাব দেখে দুই ক্লাব কর্তা বলে আসেন, “আপনারা বড় দুর্নীতির শরিক হলেন।” যা শুনে তাঁরা অবশ্য নিরুত্তরই থেকেছেন।

charchil mohamadan sporting united sports
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy