Advertisement
E-Paper

তিন পয়েন্টের চক্রব্যূহে বন্দি হয়ে বাংলা আবার হারাল অভিমন্যুকে

দুধের স্বাদ মেটাতে হল ঘোলে, ছয়ের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ঘরে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশার তিন পয়েন্ট। দুপুরে আচমকা সৃষ্ট উত্তেজনাকে বেশি দূর টেনে নিয়ে যাওয়া গেল না।

রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:৫২
ইডেনে ড্র করেই ফিরে আসতে হল মনোজদের। ছবি: শঙ্কর নাগ দাস।

ইডেনে ড্র করেই ফিরে আসতে হল মনোজদের। ছবি: শঙ্কর নাগ দাস।

দুধের স্বাদ মেটাতে হল ঘোলে, ছয়ের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ঘরে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাশার তিন পয়েন্ট। দুপুরে আচমকা সৃষ্ট উত্তেজনাকে বেশি দূর টেনে নিয়ে যাওয়া গেল না। বিষ ছড়িয়েও বঙ্গ বোলাররা ধীরে ধীরে নির্বিষ হয়ে গেলেন। এবং শেষ দিকে বাংলা বনাম রাজস্থান আদতে দাঁড়াল পরের পর আউটের অ্যাপিল আর বিরক্তিকর সময় কাটানোর ম্যাচ। অভিমন্যু ঈশ্বরনকে আবার হারানোর ম্যাচ।

ঠিকই পড়েছেন। বাংলার সংসার থেকে আবার বাইরে চলে গেলেন ওপেনার অভিমন্যু। ডান হাতের আঙুলে একই জায়গায় নতুন চোট পেয়ে, এ বার দু’টো ম্যাচের জন্য। তাঁর কপাল খারাপ, এ ম্যাচেই তিনি চোট সারিয়ে নেমেছিলেন।

ইডেনে রঞ্জি যুদ্ধের শেষ সেশন তখন চলছে। প্রজ্ঞান ওঝার বলে পুনীত যাদবের ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পান বাংলার ওপেনার। দ্রুতই ইডেন থেকে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দেখা যায়, চোট কম নয়। বেশ গভীর। হাতে সাত-সাতটা স্টিচ পড়ে অভিমন্যুর। বাংলা শিবির থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গৌতম গম্ভীরের দিল্লির বিরুদ্ধে তো নয়ই, এমনকী তার পরের ম্যাচে হরিয়ানার বিরুদ্ধেও নামার সম্ভাবনা প্রায় নেই বঙ্গ ওপেনারের। সাত দিন পর তাঁর স্টিচ খোলা হবে। তার পর আরও সাত দিন লাগবে আঙুল পুরোপুরি সারাতে। নির্বাচকদের কেউ কেউ চাইছেন অভিমন্যুকে হরিয়ানায় টিমের সঙ্গে পাঠাতে। তবে সেটা শুধুই পাঠানো। খেলানোর জন্য পাঠানো নয়।

সন্ধের দিকে ইডেন ছেড়ে বেরনোর সময় টিমের ওপেনারের নতুন চোট, যুদ্ধের প্রথম দু’দিন বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রবল আফশোস করছিলেন বাংলা কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। মুম্বইকর দুঃখ করে বলছিলেন যে, বৃষ্টির প্রকোপে না পড়তে হল তাঁর টিম ম্যাচটা জিতে মাঠ ছেড়ে বেরোতে পারত। খুব ভুল বলেননি সাইরাজ। বৃষ্টি না হলে, চার দিন পুরো পাওয়া গেলে বাংলাই হয়তো পুরো পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ত।

কিন্তু যতটুকু সময়-সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল, তাতেও অন্তিম একটা চেষ্টা করা যেত। লিডটা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া যেত। কিন্তু মনোজ তিওয়ারির বাংলা সেটা করল না। তারা অপেক্ষা করল শেষ উইকেট পড়া পর্যন্ত, লিড বাড়িয়ে নিল যতটা সম্ভব এবং বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ হতে হতে ম্যাচ চলে গেল শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে।

কেউ কেউ বলতে পারেন, তাতে ক্ষতি কী হয়েছে? লিডটা দারুণ কিছু নয়, চুরাশি রানের। কিন্তু তাতেও তিন পয়েন্ট এসেছে, আর এক রানের নিলেও তিনই আসত। বরং আর একটু বেশি সময় থাকত রাজস্থান ব্যাটিংয়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার। রবিবার ইডেন পিচ দেখা গেল, ব্যাটসম্যানের পক্ষে ‘আনপ্লেয়বল’ পর্যায়ে মোটেও দাঁড়ায়নি। বাংলা বোধহয় প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষের অবস্থা দেখে ধরেই নিয়েছিল, চতুর্থ দিনের পিচে একশোর নীচে ধ্বংস করে দেওয়া যাবে। যেটা ধরেনি তা হল, কয়েক বছর আগেও টিমটা রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আর এক-আধটা পার্টনারশিপ তো রঞ্জির সবচেয়ে নিকৃষ্ট টিমও দিয়ে থাকে। ইনিংস শুরুর আধ ঘণ্টার মধ্যে ১৫-৩ হলেও দিয়ে থাকে। শেষ দিকে দেখা গেল, প্রবল চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাংলা অধিনায়ক। নিজে স্পিন বোলিং করছেন পরের পর ওভার। দুপুর সাড়ে তিনটেতেও (সাড়ে চারটেয় ম্যাচ শেষ) আশাবাদ বাঁচিয়ে রাখছেন। কিন্তু তখন আর ও সবে কী লাভ? অশোক মেনারিয়া আর পুনীতের পঁচানব্বই রানের পার্টনারশিপে ততক্ষণে তো সব শেষ।

শোনা গেল, ম্যাচ শেষে বাংলা ড্রেসিংরুমকে ফুরফুরে রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন কোচ বাহুতুলে। টিমে অভিনব একটা ব্যাপারও চালু হয়েছে। প্রত্যেক ম্যাচে তিন জন সেরা পারফর্মার (ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে) বেছে নিয়ে টিমের পক্ষ থেকেই তাঁকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এ ম্যাচে যেমন সেরা ব্যাটিংয়ের পুরস্কার পাচ্ছেন পঙ্কজ সাহু। লোয়ার-মিডল অর্ডারে যিনি সত্যিই অকুতোভয় ব্যাট।

কিন্তু এত কিছুর পরেও একটা আশঙ্কাকে কিছুতেই বার করা যাচ্ছে না। বাংলা এখন দু’ম্যাচে চার পয়েন্ট, নয় টিমের গ্রুপে নীচে থাকা ছয়। পরের ম্যাচটা দিল্লির মাঠে গ্রুপ শীর্ষে থাকা দিল্লি। তার পরেরটা লাহলির সবুজ উইকেটে হরিয়ানা। লক্ষ্মী নেই। দুটো ম্যাচে অভিমন্যুও নেই।

পুরস্কারের ট্র্যাডিশন বেশি দিন চলবে তো?

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজস্থান ১৯৮ ও ১৪৮-৫ (মেনারিয়া ৬৯ ন:আ:, দিন্দা ২-২১)। বাংলা ২৮২ (মনোজ ৮৩, পঙ্কজ ৫২)।

ঋত্বিক ১৪৫

নিজস্ব সংবাদদাতা

সি কে নাইডু ট্রফিতে তামিলনাড়ুর ১৭১-এর জবাবে বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ ৩২১ রানে। ঋত্বিক রায়চৌধুরী (২০x৪, ৩x৬) ২৪২ বলে ১৪৫। তামিলনাড়ু দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৯-২।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy