Advertisement
E-Paper

পেরেজ ফোর্স ইন্ডিয়াকে পোডিয়ামে ফেরালেন

মিরপুরের মাটিতে ঠিক যে সময়টায় শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে মাঠ ছাড়ছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনিরা, প্রায় তখনই শাখির সার্কিটে সগর্বে উড়ল ভারতীয় তেরঙ্গা। সের্জিও পেরেজ নামে মেক্সিকানের হাত ধরে। যিনি এ দিন সহারা ফোর্স ইন্ডিয়াকে এনে দিলেন ফর্মুলা ওয়ানের দ্বিতীয় পোডিয়াম। বাহরিন গ্রাঁ প্রি-তে তৃতীয় হয়ে! বাহরিনের প্রথম নৈশ রেসের আলোকোজ্জ্বল সার্কিটটা এ দিন যেন ভারতীয় টিমের জন্যই সাজিয়েছিল অকাল দীপাবলি। যে দীপাবলির সাক্ষী থাকলেন এ দিনের রেসের বিশেষ অতিথি, জনৈক সচিন তেন্ডুলকর।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৪ ০৩:৩৪

মিরপুরের মাটিতে ঠিক যে সময়টায় শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে মাঠ ছাড়ছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনিরা, প্রায় তখনই শাখির সার্কিটে সগর্বে উড়ল ভারতীয় তেরঙ্গা। সের্জিও পেরেজ নামে মেক্সিকানের হাত ধরে। যিনি এ দিন সহারা ফোর্স ইন্ডিয়াকে এনে দিলেন ফর্মুলা ওয়ানের দ্বিতীয় পোডিয়াম। বাহরিন গ্রাঁ প্রি-তে তৃতীয় হয়ে!

বাহরিনের প্রথম নৈশ রেসের আলোকোজ্জ্বল সার্কিটটা এ দিন যেন ভারতীয় টিমের জন্যই সাজিয়েছিল অকাল দীপাবলি। যে দীপাবলির সাক্ষী থাকলেন এ দিনের রেসের বিশেষ অতিথি, জনৈক সচিন তেন্ডুলকর।

ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা মিরপুরের ফলে মর্মাহত কি না জানা নেই। তবে ফোর্স ইন্ডিয়ার অসাধারণ সাফল্য ফর্মুলা ওয়ান-প্রেমী সচিনের মুখে হাসি ফোটাল নিশ্চয়ই। সঙ্গে ফাউ, পঞ্চম হয়ে দলকে দশ পয়েন্ট দিলেন নিকো হুল্কেনবার্গও। মরসুমে এই প্রথম ফোর্স ইন্ডিয়ার দুই চালকই রেস শেষ করলেন। এবং পুরো ২৫ পয়েন্ট আনলেন। বিজয় মাল্যদের জন্য যেটা উৎসবের আরও কারণ, গাড়ি নির্মাতাদের চ্যাম্পিয়নশিপে রেড বুল, ফেরারি, ম্যাকলারেনের মতো তাবড় চ্যাম্পিয়নকে টপকে এক নম্বরে থাকা মার্সিডিজের ঠিক ৬৭ পয়েন্ট পিছনে দ্বিতীয় স্থানে ভারতীয় টিম! “আমাদের টিমের ইতিহাসে আজ সবচেয়ে বড় দিন,” বলেছেন উচ্ছ্বসিত মাল্য। যোগ করেছেন, “গত বছর পোডিয়ামের খুব কাছে পৌঁছেও হতাশ হতে হয়। কিন্তু আজ যে ভাবে রেড বুলের সঙ্গে লড়ে আমাদের ছেলেরা পোডিয়াম এনে দিল, অসাধারণ!”

২০০৯-এর ৩০ অগস্ট বেলজিয়ান গ্রাঁ প্রি-তে দ্বিতীয় হয়ে ফোর্স ইন্ডিয়াকে প্রথম পোডিয়ামে তোলেন জিয়ানকার্লো ফিসিকেলা। প্রায় পাঁচ বছর পর ভারতীয় খানাপিনার অন্ধ ভক্ত পেরেজের হাত ধরে আবার পোডিয়ামে ফিরল দল। গত বছর স্যবার দলের হয়ে পেরেজ দ্বিতীয় হয়েছিলেন মালয়েশিয়ার রেসে। নিজের দলের মতোই চব্বিশ বছরের ছেলেরও এটা দ্বিতীয় পোডিয়াম। মরসুমের প্রথম দু’টো রেস শেষ করতে না পারার যন্ত্রণা মুছে গিয়ে মেক্সিকানের মুখে এ দিন চওড়া হাসি। বারো নম্বর ল্যাপে এ দিন তিনে উঠে আসার পর থেকে অসাধারণ লড়াইয়ে নিজের জায়গা ধরে রাখলেন যিনি। পেরেজ বলেছেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে স্পেশ্যাল রেস। গত বছর এবং শেষ দু’টো রেসের হতাশার পর এই পোডিয়াম আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিল।”

মালয়েশিয়ার পর অবশ্য এখানেও দাপটে রেস শাসন করল মার্সিডিজ। পোল পাওয়া নিকো রোজবার্গকে শুরুতেই দ্বিতীয় ঠেলে দিয়ে জিতলেন লুইস হ্যামিল্টন। ভেটেল ছয়ে আর আলোনসো নয়ে শেষ করলেন। অন্য বড় দলগুলো যেখানে এখনও ফর্মুলা ওয়ানের নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম, সেখানে মার্সিডিজের পরেই যে দলের গাড়িকে নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি ক্ষুরধার দেখাচ্ছে, সেটা ফোর্স ইন্ডিয়াই। এবং ক্রমশ উন্নতি করছে বিজয় মালার দল।

নতুন নিয়মের জেরে অবশ্য তোলপাড় গতির দুনিয়া। গাড়ির যে গোঁ গোঁ গর্জনটা ফর্মুলা ওয়ানের অন্যতম ইউএসপি, নতুন নিয়মে সেটাই লোপাট বলে ক্ষোভে উত্তাল ফর্মুলা ওয়ান প্রেমীরা। আপত্তি তুলেছে বড় দলগুলোও। পরিস্থিতি এমন যে, মাত্র তিনটে রেসের পরই নতুন নিয়মগুলো পর্যালোচনা করতে বাহরিনে জরুরি বৈঠকে বসেন ফর্মুলা ওয়ান প্রধান বার্নি একলেস্টোন, আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জঁ টড, ফেরারির প্রেসিডেন্ট লুকা ডি মন্তজেমোলোরা। একলেস্টোন তো সাফ বলেছেন, “ফর্মুলা ওয়ানের নতুন চেহারা দর্শকদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। পুরো ব্যাপারটা নতুন করে ভাবতে হবে। পরিবর্তন দরকার।” টড অবশ্য নিয়ম বদলের প্রস্তাব আপাতত খারিজ করে দিয়েছেন। তবে তিনিও মানছেন শব্দ ফেরানোর রাস্তা খুঁজে বের করতেই হবে। তবে যতদিন না সেটা হচ্ছে, নতুন ইঞ্জিনের শব্দের সঙ্গে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের তুলনা থামাতে নারাজ ক্ষুব্ধ ফর্মুলা ওয়ান ভক্তরা।

force one formula one
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy